ভেঙ্গে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য

বিশ্বের দেশে দেশে গণতন্ত্র, মৌলিক অধিকার আর বাক স্বাধীনতার জন্য যখন উত্তপ্ত লড়াই চলছে তখন অনেকটা নীরবে স্বাধীনতার পথে হাঁটছে স্কটল্যান্ড। যুক্তরাজ্য থেকে বের হয়ে নিজস্ব স্বকীয়তায় স্বাধীন দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে চায় স্কটল্যান্ড। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর গণভোটের মাধ্যমে  স্কটল্যান্ডের মানুষ সিদ্ধান্ত দেবে তারা স্কটল্যান্ডকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে চায় না যুক্তরাজ্যের অংশ হিসেবে ইংল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণে থাকতে চায়। সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দেবেন এমন সংখ্যা ৩৭ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৪১ দশমিক ৬ শতাংশ। অপরদিকে স্বাধীনতার বিপক্ষে ভোট দেবেন- এমন মানুষের সংখ্যা ৫০ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ। গত ২৫ আগস্ট স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা প্রশ্নে সর্বশেষ টিভি বিতর্কের পর স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন আকস্মিক বৃদ্ধি পায়।

১৭০৭ সালে একটি চুক্তির বলে স্কটল্যান্ডকে যুক্তরাজ্যের আওতাভুক্ত করে ইংল্যান্ড। সেই থেকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্কটিশদের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে আসছে। স্বাধীনতার প্রশ্নে দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে বৃহত্তর ক্ষমতা হিসেবে ১৯৯৯ সালে নিজস্ব পার্লামেন্ট প্রতিষ্ঠার অধিকার পায় স্কটল্যান্ড। কিন্তু অর্থনৈতিক কর্তৃত্বের বেশিরভাগই থাকে ওয়েস্টমিন্সটারের কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে। ২০০৭ সালে স্কটিশ ন্যাশানালিস্ট পার্টি (এসএনপি) প্রথমবারের মত মাইনোরিটি সরকার গঠন করে। ১৯৩৪ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে স্বাধীন স্কটল্যান্ড প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ক্যাম্পেইন করে আসছে এসএনপি। ২০১১ সালে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে দলটি প্রাদেশিক সরকার গঠন করে। এরপর ওয়েস্টমিন্সটারে ক্ষমতাসীণ ক্যামেরন সরকারের সাথে দীর্ঘ দেনদরবার শেষে ২০১২ সালে সিদ্ধান্ত হয়- স্কটল্যান্ড স্বাধীন হবে কী-না সে সিদ্ধান্ত দেবে স্কটল্যান্ডের জনগণ। সে অনুযায়ী ১৮ সেপ্টেম্বর গণভোটের দিন ধার্য করা হয়। স্কটল্যান্ড কী স্বাধীন হওয়া উচিত- এ একটি প্রশ্নের ভিত্তিতে স্কটিশরা হ্যাঁ/না (ইয়েস/নো) ভোট দেবেন।

‘ইয়েস’ ক্যাম্পেইন বা স্বাধীনতার পক্ষের প্রচারণায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন এসএনপি’র প্রধান স্কটিশ ফার্স্ট মিনিস্টার এলেক্স স্যালমন্ড। ‘নো’ বা বেটার টুগেদার ক্যাম্পেইনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্কটিশ লেবার পার্টির নেতা সাবেক চ্যাঞ্চলার এলেস্টার ডার্লিং। স্বাধীনতার পক্ষে এবং বিপক্ষে চলা দীর্ঘ দুই বছরের ক্যাম্পেইনের এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা। স্বাধীনতার পক্ষে-বিপক্ষে নিজ নিজ যুক্ত তুলে ধরতে উভয় পক্ষ মরিয়া।

ইয়েস ক্যাম্পেইনের প্রধান এলেক্স স্যালমন্ড বলেছেন, স্বাধীন হলেও স্কটল্যান্ডের মূদ্রা হিসেবে থাকবে পাউন্ড স্টারলিং এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক হবে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড। রাষ্ট্র প্রধান হিসেবে থাবেন ব্রিটিশ রানী। ওয়েস্টমিন্সটার সরকারের সাথে একটি বিশেষ চুক্তির মাধ্যমে তারা এসব রাখতে চান। এর বিপরীতে ‘বেটার টুগেদার’ ক্যাম্পেইনের নেতা এলেস্টার ডার্লিং এ ধরনের চাওয়াকে স্বাধীন স্কটল্যান্ডের জন্য একটি অবাস্তব চাওয়া বলে আখ্যায়িত করেছেন। তবে এলেক্স স্যালমন্ড বলছেন, স্কটিশরা স্বাধীনতার পক্ষে রায় দিলে ব্রিটিশ সরকার যদি তাদের দাবিগুলো না মানে তাহলে তারা ব্রিটেনের যে রাষ্ট্রীয় ঋণ রয়েছে-তার দায় বহন করবেন না। এ কারণে ব্রিটিশ সরকার স্বাধীন স্কটল্যান্ডের দাবি মানতে বাধ্য হবে বলে তিনি মনে করেন।

ব্রিটেনে ভোটার হওয়ার বয়স সাধারণত ১৮ বছর হলেও স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার প্রশ্নে ১৬ বছর বয়সীরাও ভোট দিতে পারবেন। সবমিলিয়ে প্রায় ৪ দশমিক ১ মিলিয়ন ভোটার গণভোটের জন্য নিবন্ধন করেছেন বলে জানা গেছে। আজ মঙ্গলবার ভোটার নিবন্ধন শেষ হচ্ছে।

অন্যদিকে  গত ২৬ আগস্ট মঙ্গলবার থেকে ডাকযোগে ভোট দেয়ার জন্য  পোস্টাল ব্যালট পাঠানো শুরু হয়েছে। গণভোটে স্কটল্যান্ডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশের বেশি ভোট পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।  এ গণভোটকে স্কটল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য শেষ সুযোগ বলে মন্তব্য করেছেন এসএনপি নেতা এলেক্স স্যালমন্ড। আর অন্যদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, স্কটল্যান্ডের মানুষ যদি স্বাধীনতার বিপক্ষে রায় দেয় তাহলে স্কটিশ পার্লামেন্টের হাতে তিনি আরো ক্ষমতা ছেড়ে দেবেন।

You Might Also Like