সংসদ ঘেরাও, ভয়াবহ সংঘর্ষ; হত্যা প্রচেষ্টার অভিযোগ ইমরান খানের

পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ বা পিটিআই এবং পাকিস্তান আওয়ামী তেহরিক বা পিএটি’র কর্মী-সমর্থকদের ওপর ব্যাপক মাত্রায় টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুঁড়েছে দেশটির পুলিশ।

ইমরান খান ও তাহিরুল কাদরির নেতৃত্বে দল দুটির হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের বাসভবনের দিকে মার্চ করা শুরু করলে পুলিশ এ ব্যবস্থা নেয়। আন্দোলনকারীরা জাতীয় সংসদ ভবনও ঘেরাও করেছে।

চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে পাকিস্তানের প্রভাবশালী সেনাবাহিনীর মধ্যস্থতা ব্যর্থ হওয়ার পর গতরাতে পিটিআই এবং পিএটি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করার জন্য রওয়ানা দেয়। তার আগে তারা প্রেসিডেন্ট বাসভবনের সামনের রাখা কন্টেইনার সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করে। মূলত সংঘর্ষ শুরু হয় তখনই। এতে অন্তত ৪০০ আন্দোলনকারী ও বহু পুলিশ আহত হয়েছ। একজনের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে। পাকিস্তান পুলিশ বলেছে, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নেয়া সব ব্যবস্থা সঠিক ও বৈধ।

গতরাত থেকেই পিটিআই এবং পিএটি ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মসূচি পালন শুরু করেছে। দল দুটি কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদ ভবন ঘেরাও করে। পিটিআই নেতা শাফকাত মাহমুদ দাবি করেছেন, সংসদ ভবনের মধ্যে তাদের অনেক নেতা-কর্মী ঢুকে পড়েছেন।

এদিকে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির কো-চেয়ারম্যান আসিফ আলী জারদারি সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন। সংকট নিরসনে সরকার মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট বা এমকিউএম নেতা আলতাফ হোসেইনের সহায়তা চেয়েছে। পুলিশি অ্যাকশনে সাবেক স্বৈরশাসক পারভেজ মুশাররফ মর্মাহত হয়েছেন বলে টুইটার বার্তা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, পিটিআই চেয়ারম্যান ইমরান খান তার বিরুদ্ধে হত্যা-প্রচেষ্টার অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেছেন, আজই (রোববার) হবে লড়াইয়ের শেষ দিন। এ জন্য তার সমর্থকদেরকে মাঠে নেমে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাহিরুল কাদরিও একই ধরনের মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। তবে, ইমরান ও কাদরির আন্দোলন দৃশ্যত দেশটির সুশীল সমাজ এবং গণমাধ্যমের সমর্থন আদায়ে ব্যর্থ হয়েছে।

You Might Also Like