তাকফিরি সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা পেতে সৌদি আরবের চেষ্টা

মধ্যপ্রাচ্যে উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল’র তৎপরতা দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় সৌদি আরবের তিনজন পদস্থ কর্মকর্তা একই সঙ্গে কাতারের আমির ও বাহরাইনের বাদশাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদ আল-ফয়সাল, গোয়েন্দামন্ত্রী খালেদ বিন বন্দর বিন আব্দুল আজিজ এবং দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন নায়েফ গতকাল বুধবার কাতার সফরে যান। কাতারের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাতে তারা দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে মতবিনিময় করেন।

এরপর তারা বাহরাইন সফরে যান এবং দেশটির বাদশাহ শেইখ হামদ বিন ইসা আলে খলিফার সঙ্গে সাক্ষাত করেন। এ সাক্ষাতে তারা মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য অঞ্চলে যখন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল’র হুমকি জোরদার হচ্ছে ঠিক তখন সৌদি আরবের তিন শীর্ষ কর্মকর্তা কাতার ও বাহরাইন সফরে গেলেন। সিরিয়া ও মিশরে সংকট শুরু হওয়ার পর গত কয়েক বছরে পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের দেশগুলোর মধ্যে মতবিরোধ চরমে উঠেছে এবং পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, এই পরিষদ থেকে কাতারকে বের করে দেয়ারও দাবি উঠে এবং এ পরিষদ ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়। কাতার সরকার মিশরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির প্রতি সমর্থন জানানোয় সৌদি আরব, সংযুক্ত  আরব আমিরাত ও বাহরাইন প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়। এ নিয়ে মতবিরোধ তীব্র আকার ধারণ করলে গত কয়েক মাস আগে সৌদি আরব, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত  কাতার থেকে তাদের রাষ্ট্রদূত ডেকে পাঠায়।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের প্রভাবশালী তিন কর্মকর্তার কাতার ও বাহরাইন সফর থেকে বোঝা যায় তারা নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। বলা হচ্ছে, আইএসআইএল’র সন্ত্রাসী তাণ্ডব ও তাদের ক্রমবর্ধমান হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে না চাইলেও পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত দেশগুলো নিজেদের মধ্যে ঐক্য জোরদারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

আইএসআইএলসহ অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর প্রধান পৃষ্ঠপোষক হচ্ছে সৌদি আরব। কিন্তু সাম্প্রতিক দিনগুলোতে উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো সৌদি আরবেও হামলার হুমকি দেয়ায় রিয়াদের কর্মকর্তারা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। সৌদি আরব এসব সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতা দেয়ার মাধ্যমে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পতন ঘটাতে চেয়েছিল। কিন্তু ওই পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর এসব সন্ত্রাসীরা এখন সৌদি আরবের জন্য বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় আরব দেশগুলো পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে আইএসআইএল সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করছে।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদ আল ফয়সাল সম্প্রতি বলেছেন, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট নয় বরং আইএসআইএলই আমাদের জন্য বড় হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। তার এ বক্তব্য থেকেই সৌদি আরবের পররাষ্ট্র নীতিতে পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যায়। ইরানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেন আমির আব্দুল্লাহিয়ান সম্প্রতি সৌদি আরব সফরে গেলে দেশটির কর্মকর্তারা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এ থেকেই আইএসআইএল’র ব্যাপারে রিয়াদের স্পর্শকাতরতার বিষয়টি বোঝা যায়। এ অবস্থায় ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসআইএল সন্ত্রাসীদের তৎপরতা এবং দেশ দখলের মাধ্যমে তাদের স্বাধীন অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার প্রচেষ্টাকে অবশ্যই রোধ করতে হবে। সৌদি আরবের মত নিজেদেরে পৃষ্ঠপোষক দেশগুলোতেও এ গোষ্ঠীর হামলার হুমকি দেয়া থেকে বোঝা যায়, জবর দখল ছাড়া তারা অন্য কিছু চেনে না।

You Might Also Like