এম মোর্শেদ খানের বিরুদ্ধে চার্জশিট শিগগিরই : দুদক চেয়ারম্যান

অর্থ পাচার মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা এম মোর্শেদ খানের বিরুদ্ধে শিগগিরই চার্জশিট দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘গত বছরের ডিসেম্বরে এ মামলাটি করা হয়েছে। মামলাটির তদন্তও প্রায় শেষ হয়েছে। তদন্ত পর্যায়ে মোর্শেদ খানকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা শেষ হয়েছে। শিগগিরই এ মামলার চার্জশিট দাখিল করা হবে।’

এদিকে, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত মোর্শদ খান ও তার ছেলে ফয়সাল মোর্শদ খানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। দুদকের সিনিয়র উপ-পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদনী শিবলী তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

হংকংয়ে ৩২১ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাজধানীর গুলশান থানায় মামলাটি দায়ের করে দুদক। মামলায় এম মোর্শেদ খানের সঙ্গে তার ছেলে ও স্ত্রী নারসিন খানও আসামি হিসেবে রয়েছেন।

দুদক সূত্র জানায়, আসামিরা বিদেশে ব্যাংক হিসাব খোলা এবং ওই হিসাবগুলোতে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো অনুমোদন গ্রহণ করেননি। আসামিরা বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ব্যতিরেকে বিদেশে বৈদেশিক মুদ্রা রেখে বেআইনি কার্যকলাপ করেছেন। আসামিদের উপার্জিত বৈধ অথবা অবৈধ অর্থের উৎস গোপন রেখে তা অবৈধভাবে বিদেশে পাচার ও সংরক্ষণ করেছেন।

এম মোর্শেদ খান, তার স্ত্রী ও ছেলের মালিকানাধীন ফার ইস্ট টেলিকমিউনিকেশন্স লিমিটেডের নামে হংকং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে সাতটি মাল্টি কারেন্সি অ্যাকাউন্টের খোঁজ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি ইউএসডি কারেন্ট অ্যাকাউন্ট, একটি ইউএসডি সেভিংস অ্যাকাউন্ট, চারটি ফিক্সড ডিপোটিজ অ্যাকাউন্ট ও একটি ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড অ্যাকাউন্ট রয়েছে।

এছাড়া, হংকং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে এম মোর্শেদ খানের নিজ নামে একটি ইউএসডি সেভিংস অ্যাকাউন্ট ও একটি এইচকেডি (হংকং ডলার) সেভিংস অ্যাকাউন্ট রয়েছে। অনুরূপভাবে হংকং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে ফয়সাল মোর্শেদ খানের নামে একটি ইউএসডি সেভিংস অ্যাকাউন্ট ও একটি এইচকেডি সেভিংস অ্যাকাউন্ট রয়েছে।

এ সব অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন সময় আসামিরা ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৬২ হাজার ৫৪১ মার্কিন ডলার ও ১ কোটি ৩৬ লাখ ৪৫ হাজার ৫৮৩ হংকং ডলার পাচার করেছেন। বাংলাদেশি অর্থে এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩২১ কোটি টাকা। আসামিরা ২০০১ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সময়ে এসব অর্থ পাচার করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

You Might Also Like