ক্ষুদে পাখির রাক্ষুসে বাসায় ভেঙে পড়ে গাছ!

পাখির বাসার ভারে ভেঙে পড়ছে আস্ত একটা গাছ! এমন দৃশ্য কখনও কল্পনাও করেছেন কি? হ্যাঁ, এমন ঘটনাও হয় বৈকি। গাছে ডালে বাসা বাঁধতে গিয়ে ধীরে ধীরে গোটা গাচটাই দখল করে নেয় এই পাখি। অতিরিক্ত ভার সহ্য করতে না পেরে অনেক সময় হুড়মুড়িয়ে ভেঙেও পড়ে সেই গাছ।

এই দৃশ্য চাক্ষুস করতে হলে অবশ্য আপনাকে যেতে হবে দক্ষিণ আফ্রিকা। কারণ সেখানেই নামিবিয়া ও বত্‍‌সোয়ানা প্রদেশে বাস এই পাখির। বাসা রাক্ষুসে হলেও এই পাখি কিন্তু একেবারেই ক্ষুদে। প্রচলিত নাম সোশ্যাল উইভার।

চেহারা ও আকার-আয়তনে মিল পাবেন আমাদের চেনা চড়াই পাখির সঙ্গে। কিন্তু চড়াই যেখানে বাড়ির কার্নিশ বা ঘুলঘুলিতেও বাসা বেধে খুশি, সেখানে সোশ্যাল উইভারের বাসা ২০ ফুট লম্বা, ১৩ ফুট চওড়া এবং ৭ ফুট মোটা হয়।

বাসার ওজন হয় ২০০০ পাউন্ডেরও বেশি। শুধু তাই নয়, এতটাই আঁটোসাঁটো ভাবে তৈরি হয় যে প্রায় ১০০ বছর টিকতে পারে এক-একটি বাসা। উত্তরাধিকার সূত্রে বাসার মালিকানা বদল হতে থাকে।

সোশ্যাল উইভারের বাসায় ১০০টা ছোট ছোট ঘর থাকে। এই অঞ্চলে দিনের তাপমাত্রা যেমন প্রচণ্ড বেশি, রাতে তেমনই হাড় হিম করা ঠাণ্ডা। এই অতিরিক্ত গরম এবং ঠাণ্ডা থেক সোশ্যাল উইভারকে রক্ষা করে তাদের বাসা।

বাসার একদম মধ্যে অবস্থিত চেম্বারগুলি বেশ গরম হয়। সেখানে রাতের বেলাটা কাটিয়ে নেয় এই খুদে পাখি। আর বাইরের চেম্বারগুলি তুলনায় ঠাণ্ডা। দিনের ঝাঁঝালো গরম থেকে বাঁচতে তখন বাইরের ঘর ব্যবহার করে সোশ্যাল উইভার। এদের বাসাই বিশ্বে বৃহত্তম পাখির বাসা।

পাখির পালক, মোটা ঘাস, হাওয়ায় ভেসে আসা তুলোর টুকরো, সব দিয়েই ধীরে ধীরে তৈরি হয় বাসা। বাসায় ঢোকার মূল দরজা একটাই। গাছের বদলে ইদানিংকালে ইলেকট্রিক পোল বা টেলিফোনের খুঁটিতেও বাসা বাধে সোশ্যাল উইভার। বাবুইয়ের বাসা আমরা সবাই দেখেছি। কিন্তু ধারে-ভারে আফ্রিকার এই খুদে পাখির রাক্ষুসে বাসা বাবুইকেও হেলায় হারিয়ে দেয়।

ছোটবেলায় পড়া সেই বণিক আর উটের গল্প মনে আছে? আশ্রয়ের খোঁজে বণিকের তাঁবুতে একটু উঁকি মেরেছিল সেই উট। তারপর ধীরে ধীরে বণিককেই সরিয়ে নিজে গোটা তাঁবুটা দখল করে নেয়। এক্ষেত্রেও অনেকটা তাই। গাছের ডালে বাসা বাঁধতে এসে পুরো গাছটাই দখল করে নেয় সোশ্যাল উইভার।

You Might Also Like