কায়সারের মামলার রায় যে কোনো দিন

মানবতাবিরোধী অপরাধে সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের মামলার যে কোনো দিন দেয়া হবে মর্মে অপেক্ষমান রেখেছেন ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে মামলাটির কার্যক্রম সমাপ্তি ঘোষণা করে রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখেন।

এ নিয়ে ট্রাইব্যুনালে পাঁচটি মামলা রায়ের জন্য অপেক্ষমান থাকলো। এর আগে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ তাদের যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন।

সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের বিরুদ্ধে আনীত ১৬টি অভিযোগ বিষয়ে যুক্তিতর্ক পেশ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলায় প্রসিকিউশন গত ৭ আগস্ট যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যা ও ধর্ষণের দায়ে কায়সারের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

এ মামলার ৩২তম ও শেষ সাক্ষী তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) মনোয়ারা বেগমকে আসামিপক্ষের জেরা শেষে গত ২৩ জুলাই প্রসিকিউশন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করে ৭ আগস্ট শেষ করে। এরপর থেকে আসামি পক্ষে যুক্তিতর্ক পেশ শুরু হয়।

প্রসিকিউটর রানা দাস গুপ্ত বলেন, অভিযুক্ত কায়সারের বিরুদ্ধে মোট ১৬টি অভিযোগ আনা হয়েছে। আসামিপক্ষ তার কোনোটি অস্বীকার করেননি।

তিনি বলেন, শৈশব এবং কৈশোরে সৈয়দ কায়সার তার বাবা সৈয়দ আলী এবং মামা মনজুর আলীর কাছ থেকে যে শিক্ষা পেয়েছেন তার ধারাবাহিকতায় ১৯৭০ সালের নির্বাচনে মুসলীম লীগ থেকে মনোনয়ন না পেলেও ছয় দফা আন্দোলনের বিরোধিতা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন।

তারই ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধের সময় সৈয়দ কায়সার অপরাধ সংঘটিত করে জানিয়ে রানা দাস বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় কায়সারের বয়স ছিল ৩০ থেকে ৩৫ বছর।

কায়সারের বাবা ও মামা ১৯৬৫ সালে প্রাদেশিক সরকারের সদস্য ছিলেন এবং তার বাবা এবং মামার প্রভাবে এলাকার সকলে তাদের পরিবার ও কায়সারের ভয়ে তটস্ত ছিল।

সৈয়দ কায়সারের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ২ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠন করা হয়। কায়সারের বিরুদ্ধে গণহত্যার একটি, হত্যা, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠনের ১৩টি এবং ধর্ষণের দুটিসহ মোট ১৬টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়।

গত বছরের ১৪ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয়া হয়। গত বছরের ৫ আগস্ট শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়ে বর্তমানে রাজধানীতে ছেলের বাসায় রয়েছেন কায়সার।

কায়সার হচ্ছেন দ্বিতীয় কোনো আসামি শর্তসাপেক্ষে জামিনে রয়েছেন। এর আগে বিএনপি নেতা আব্দুল আলীম শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছিলেন।

কায়সারের মামলা ছাড়াও জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, জামায়াতের নির্বাহী কমিটির সদস্য মীর কাসেম আলী, বিএনপি নেতা জাহিদ হোসেন খোকন ও আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা মোবারক হোসেনের মামলা রায়ের জন্য অপেক্ষমান রয়েছে।

এছাড়া আপিল বিভাগে চূড়ান্ত রায়ের জন্য অপেক্ষমান আছে জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর মামলাটি।

You Might Also Like