বঙ্গোপসাগরের সম্পদ নিরূপণে বৈঠক আজ

মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির পর বঙ্গোপসাগরের মোট এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটারে সার্বভৌম অধিকার লাভ করেছে বাংলাদেশ।

এ বিশাল এলাকায় কী ধরনের সম্পদ রয়েছে, তা জানা নেই সরকারের। সে সম্পর্কে বিশদ জানতেই বুধবার নিজ কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এ উদ্দেশ্যে আগেই সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে চিঠি দিয়ে কৌশলগত দিক তুলে ধরে মতামত চাওয়া হয়। এতে ১৯টি মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থার কাছে পরিকল্পনার পাশাপাশি অ্যাকশন প্ল্যান তৈরিরও নির্দেশ দেয়া হয়।

জানা গেছে, সমুদ্রসম্পদ আহরণ ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এ উদ্দেশ্যে সমুদ্র নিয়ে একটি কমিটি গঠনেরও চিন্তা-ভাবনা চলছে।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, সমুদ্র নিয়ে মহাপরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে সরকার। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ছাড়াও বিশেষজ্ঞরা থাকবেন এ পরিকল্পনায়। এ মহাপরিকল্পনা সমন্বয়ের জন্য আলাদা একটি কমিটি গঠনের চিন্তা-ভাবনা চলছে। পুরো কাজটিই হবে প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সমুদ্র নিয়ে সংশ্লিষ্টদের পরিকল্পনার পাশাপাশি অ্যাকশ্যন প্ল্যান তৈরির নির্দেশ দেয়া হলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম বিভাগ, খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং মত্স্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি ধারণাপত্র উপস্থাপন করবে।

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবদুস সোবহান সিকদার বলেন, সমুদ্রসীমা নির্ধারণের পর এ-সংক্রান্ত বৈঠক এটাই প্রথম।

তিনি বলেন, বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগসহ সবাই ভবিষ্যতে এর কর্মপরিকল্পনা এবং সমুদ্রসম্পদ আহরণ ও ব্যবহারের সুপারিশ তুলে ধরবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৈঠকে বেশকিছু সিদ্ধান্ত আসতে পারে। আর সব কাজ সমন্বয়ের জন্য একটি কমিটি হতে পারে।

জানা গেছে, প্রথমে সমুদ্র নিয়ে কমিটি গঠনের বিষয়টিই গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। কারণ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং সংস্থার যে কাজ থাকবে তা সমন্বয় করবে এ কমিটি। তবে কমিশন হবে নাকি কমিটি হবে, তা বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীই চূড়ান্ত করবেন।

সূত্র জানায়, ব্লু ইকোনমি ধারণা বাস্তবায়নে চীন ও জাপানের সহযোগিতা কাঠামো প্রস্তুত করছে সরকার। সমুদ্রের তলদেশে কী রয়েছে তা এখনো অজানা বাংলাদেশের। ফলে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য এর বিস্তারিত জানা জরুরি। এ জন্য কমিটি গঠনের পর প্রথমেই জরিপকাজের জন্য জনবল এবং সামুদ্রিক জলযান ক্রয়ের পরিকল্পনা আছে।

এছাড়া সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হওয়ায় দেশের সামুদ্রিক মানচিত্র প্রণয়নের পাশাপাশি সম্পদ আহরণ ও সমুদ্র এলাকার নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। আর সামুদ্রিক সম্পদ কীভাবে কাজে লাগানো হবে, সে বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য আগামী ১ ও ২ সেপ্টেম্বর ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক কর্মশালারও আয়োজন করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, সমুদ্রে কী ধরনের সম্পদ রয়েছে তা জানতে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করতে চাইছে সরকার। কারণ নিয়মানুযায়ী সমুদ্রসীমা নির্ধারণের প্রথম পাঁচ বছরে সামুদ্রিক সম্পদ আহরণের জন্য ইন্টারন্যাশনাল সিবেড অথরিটিকে কোনো অর্থ দিতে হবে না। তাই এ সময়ের মধ্যে দ্রুত সাগরের সম্পদ আহরণের উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি বলেন, আর এরই মধ্যে বঙ্গোপসাগরের নিজস্ব এলাকায় দেশের চূড়ান্ত অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য চট্টগ্রাম উপকূল থেকে ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপানের তলদেশের সম্পদ আহরণের সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের কমিশন অন দ্য লিমিটস অব দ্য কনটিনেন্টাল সেলফ (সিএলসিএস) দাবি পেশ করেছে সরকার।

চিঠিতে যেসব মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থার কাছে প্রস্তাবনা চাওয়া হয়েছে সেগুলো হলো— স্বরাষ্ট্র, ভূমি, কৃষি, আইন ও বিচার, পররাষ্ট্র, পানিসম্পদ, শিল্প, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন, মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ, পরিবেশ ও বন এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

এছাড়া আর্মড ফোর্সেস বিভাগ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, পেট্রোবাংলা, আণবিক শক্তি কমিশন, ভূ-তত্ত্ব ও জরিপ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

You Might Also Like