সমুদ্রে অস্বাভাবিক জোয়ার : উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

টানা বর্ষণ, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং সমুদ্রে অস্বাভাবিক জোয়ারের ফলে দেশের উত্তর  ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। অব্যাহত রয়েছে নদী ভাঙন।

বন্যার ফলে  উত্তরের  জেলা  রংপুর, কুড়িগ্রাম,  লালমনিরহাট, নীলফামারী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর  ও  দক্ষিণের নোয়াখালী, ফেনী, ভোলা ও  লক্ষ্মীপুর জেলায় লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

যমুনা ও তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুড়িগ্রামে ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তাসহ সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় তলিয়ে গেছে শতাধিক চর ও দ্বীপচর।

গত ২৪ ঘণ্টায় চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ১৪ সেন্টিমিটার ও নুনখাওয়া পয়েন্টে ৮০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

রংপুরে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তিস্তা তীরবর্তী গঙ্গাচড়া উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ৩৮টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় ২৮ হাজার পরিবারের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এ সব এলাকায়  জ্বালানি, বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্ সংকট দেখা দিয়েছে

লালমনিরহাটে  তিস্তা ও ধরলার ৬৬টি চরের লক্ষাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে। রাস্তাঘাট ভেঙে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।

নীলফামারীতে তিস্তার পানি সয়লাব করে দিয়েছে গ্রামের পর গ্রাম।  বন্যায় তিস্তা পাড়ের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। নারী-শিশু ও গবাদি পশু নিয়ে চরম  বিপাকে পরেছে বানভাসী মানুষেরা।

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে আজ বিপদ সীমার ৯ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে চন্দনবাইশা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও বিকল্প রিং বাঁধ। ধলিরকান্দি থেকে রৌহাদহ পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকায় নদী ভাঙন অব্যাহত আছে। পানির তীব্র স্রোতে কামালপুরের রৌহাদহ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিভিন্ন স্থানে স্লাব ধসে যাচ্ছে।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বেড়িবাঁধ ভেঙে ৫টি ইউনিয়নের ৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ফলে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ে। নোয়াখালী পৌরসভা, সূবর্ণচর ও হাতিয়া উপজেলার বিভিন্ন রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে।

ফেনীর পরশুরামের মুহুরী ও কহুয়া নদীর তিনটি বাঁধ ভাঙনের ফলে ফুলগাজী উপজেলার ১২ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী

লক্ষ্মীপুরে অস্বাভাবিক জোয়ার ও টানা বর্ষণে মেঘনা নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।

নদীর করাল গ্রাসে ইতিমধ্যে রামগতি আলেকজান্ডার ও নোয়াখালী জেলার সোনাপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের সড়কের বেশির ভাগই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপজেলা পরিষদ ভবন, আলেকজান্ডার বাজার এলাকা।

ভোলায় মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর পানি বৃদ্ধিতে ৩ উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে  প্রায় ২ লাখ মানুষ।

You Might Also Like