বিপর্যয়ে পোশাক খাত : রপ্তানি প্রবৃদ্ধি শূন্যের কোঠায়

রাজনৈতিক পরিস্থিতি গতবারের তুলনায় স্থিতিশীল হলেও রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দিয়ে শুরু হয়েছে নতুন অর্থবছর। অর্থবছরের (২০১৪-১৫) প্রথম মাসেই পোশাক রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। গত বছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির হার অব্যাহতভাবে কমেছে।

চলতি বছরের জুলাই মাসে পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ০.৭ শতাংশ। যেখানে গত বছরের একই মাসে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২৬.১৩ শতাংশ। অর্থাৎ আলোচ্য সময়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধারা হ্রাস পেয়ে ২৬.০৬ শতাংশ থেকে ০.০৭-এ চলে এসেছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় কমেছে ২ শতাংশের বেশি।

অথচ রাজনৈতিক অস্থিরতা, তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডসহ রানা প্লাজা ধসেও গত বছর রপ্তানি আয় তার আগের বছরের চেয়ে প্রায় ১২ শতাংশ বেশি ছিল।

রপ্তানি আয়ের নেতিবাচক ধারায় দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম হতাশা প্রকাশ করেছেন।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ২৯৮ কোটি ২৭ লাখ ডলার আয় করেছে।

২০১৩-১৪ অর্থবছরের জুলাই মাসে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩০২ কোটি ৪৩ লাখ ডলার।
২০১৪-১৫ অর্থবছরে মোট রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৩২০ কোটি (৩৩ দশমিক ২০ বিলিয়ন) ডলার। এর মধ্যে জুলাই মাসের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩০৪ কোটি ৪৪ লাখ ডলার।

বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম জানান, রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত পোশাক শিল্প নিয়ে যে ‘ষড়যন্ত্র’ হচ্ছে, এটা তার প্রমাণ। আমরা আমাদের কারখানায় ৫-৬ তারিখের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন দেই। তারপরও ধর্মঘট ডাকা হয়, কারখানা ভাঙচুর করা হয়, আগুন দেয়া হয়। এসব ‘ষড়যন্ত্রের’ কারণে দেশের পণ্যের ওপর ক্রেতাদের আস্থা কমে গেছে। ফলে রপ্তানি আয়ে হোঁচট খেয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

বিজিএমইএ সভাপতি মনে করেন, জুলাইয়ের পর আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসেও রপ্তানি আয় কমবে।

ইপিবির হালনাগাদ মাসিক রপ্তানি প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, জুলাইয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি করে ২৫১ কোটি ৭৯ লাখ ডলার আয় হয়েছে, যা মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় হয়েছে নিটওয়্যার (গেঞ্জি, সোয়েটার) পোশাক রপ্তানি থেকে ১৩০ কোটি ৭৯ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের জুলাইয়ের চেয়ে ৪.৩২ শতাংশ বেশি।

তবে ওভেন (শার্ট-প্যান্ট) পোশাক রপ্তানি ৪.১৪ শতাংশ কমে এবার জুলাইয়ে আয় হয়েছে ১২১ কোটি ডলার। জুলাই মাসে তৈরি পোশাক (নিট ও ওভেন) রপ্তানি থেকে ২৬৯ কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল, আয় হয়েছে ৮ কোটি ডলার কম।

জুলাই মাসে তৈরি পোশাকের মতো পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি থেকে আয় কমেছে ২৪ শতাংশ। কৃষিজাত পণ্য রপ্তানি কমেছে ৩০ শতাংশ। সিরামিক রপ্তানি কমেছে ১৩ শতাংশ। তবে এই মাসে হিমায়িত মাছ রপ্তানি বেড়েছে ৭ শতাংশ।

এছাড়া, ওষুধ রপ্তানি ৩১ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্য ১৩ শতাংশ এবং সিরামিক রপ্তানি ১২ শতাংশ বেড়েছে। গত অর্থবছরে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ মোট ৩০১৮ কোটি (৩০.১৮ বিলিয়ন) ডলার আয় করে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)-র হালনাগাদ হিসাব অনুযায়ী, জুলাই মাসে স্পেশালাইজড টেক্সটাইল খাতে রপ্তানি হয়েছে ৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। যা আগের বছরের একই মাসে ছিল ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। যা শতাংশের হিসেবে ৩৯.১১ শতাংশ। এর মধ্যে টেরি টাওয়াল ৪ লাখ, স্পেশাল ওভেন ফেব্রিক ৫৭ হাজার টাকা, নিট ফেব্রিকস ২ লাখ ৫৭ হাজার টাকা ও অন্যান্য ৪৮ হাজার টাকা।

পরিসংখ্যানে আরো দেখা যায়, নিটওয়্যার খাতে রপ্তানি হয়েছে ১৩০ কোটি টাকা, ওভেন গার্মেন্ট সেক্টরে রপ্তানি হয়েছে ১২১ কোটি টাকা ও হোম টেক্সটাইলে রপ্তানি হয়েছে ৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

এছাড়া, দেশের মোট রপ্তানি জুলাই মাসে ২৯৮ কোটি টাকার রপ্তানি হয়েছে। যা গত বছরের একই মাসে ছিল ৩০২ কোটি টাকা। সে হিসাবে গত বছরের তুলনায় এবার ৪ কোটি টাকার রপ্তানি কমেছে। একই ভাবে লক্ষ্যমাত্রা থেকেও পিছিয়ে আছে। জুলাইয়ে পোশাক খাতে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩০৪ কোটি টাকা। সে হিসাবে লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে আছে ৬ কোটি টাকা।

You Might Also Like