মার্কেন্টাইলের নির্বাহী কমিটির প্রধানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ভুয়া রেকর্ডপত্রের মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তি বন্ধক দেখিয়ে ৯০টি ব্যাক টু ব্যাক এলসির বিপরীতে পৌনে ১১ কোটি টাকা আত্মসাতের দায়ে মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেডের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্ষদের দুই পরিচালকসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দু্র্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার রাজধানীর মতিঝিল থানায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মামলাটি (মামলা নং-৪) দায়ের করেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য বিষয়টি রাইজিংবিডিকে নিশ্চিত করেছেন।

আসামিরা হলেন-মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেডের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ও পরিচালক আকরাম হোসেন (হুমায়ুন), পরিচালক মো. আমান উল্লাহ, মো. সেলিম, মো. আনোয়ারুল হক, প্রাক্তন পরিচালক এস এম সাকিল আখতার, মো. মনসুরুজ্জামান ও তৌফিক রহমান চৌধুরী, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. রবিউল ইসলাম, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মার্কেন্টাইলের প্রাক্তন সিনিয়র অফিসার তনুশ্রী মিত্র, প্রাক্তন সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট নবী-উস-সেলিম এবং প্যাট্রিক ফ্যাশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ঋণ গ্রহীতা কাজী ফরহাদ হোসেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্যাট্রিক ফ্যাশনস লিমিটেড ভুয়া রেকর্ডপত্রের মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তিকে নিজের সম্পত্তি দেখিয়ে ও তা বন্ধক রেখে অন্যান্য আসামিদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ৯০টি ব্যাক টু ব্যাক এলসির বিপরীতে ২০০০ সালের ২২ অক্টোবর মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেডের প্রধান শাখা থেকে আট কোটি টাকা উত্তোলন করে। কিন্তু ঋণ গ্রহীতা বিদেশি ক্রেতার চাহিদা ও সময় মত রপ্তানি কার্যক্রম সম্পাদন করতে ব্যর্থ হওয়ায় রপ্তানি আয় হতে সকল ব্যাক টু ব্যাক এলসির দায় পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়। এর মধ্যে ঋণের কিছু টাকা পরিশোধ করলেও সাত কোটি ৭৪ লাখ ৮১ হাজার ৭৯৬ টাকা অপরিশোধিত থাকে। যা পরবর্তীতে সুদে-আসলে ১০ কোটি ৮৩ লাখ ৪১ হাজার ১২ টাকা পরিশোধ না করে আত্মসাৎ করে বলে দুদকের অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়েছে। যেখানে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের পাঁচ সদস্যসহ ১১ জনের সংশ্লিষ্টতা মিলেছে। তাই দুদক দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারায় ব্যাংকের ১১ জনসহ মোট ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।

You Might Also Like