অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য ‘ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দেয়ার শামিল’: রিজভী

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির দুই মামলায় আপিলে খালাস পেলেও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম যে মন্তব্য করেছেন তার তীব্র সমালোচনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

আজ (বুধবার) বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘মিথ্যা সাজানো মামলায় দেয়া দণ্ডের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া আপিল করেছেন এবং তাতে তিনি স্থগিতাদেশ প্রার্থনা করেছেন। সে বিষয়ে আদালত এখনো সিদ্ধান্ত দেননি। তাহলে তিনি (মাহবুবে আলম) কিভাবে বললেন খালেদা জিয়া নির্বাচনের অযোগ্য?’

রিজভী বলেন, ‘আদালত খালেদা জিয়ার আপিল গ্রহণ করেছেন। কোনো প্রকার শুনানি হয়নি, আদালত কোনো প্রকার রুল বা আদেশ দেননি। তাহলে অ্যাটর্নি জেনারেল কিভাবে বললেন, খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না? তাকে প্রশ্ন করতে চাই, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, মহিউদ্দিন খান আলমগীর, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের বিচারিক আদালতে সাজা হলেও, আপিল চলমান অবস্থায় তারা নির্বাচন করেছেন কিভাবে?’

রিজভী আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে নজির হলো আপিল করেই নির্বাচন করা যাবে। কারণ, আপিলকে ধরা হয় চলমান বিচারের অংশ। আপিল বিভাগের রায় আছে, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর কে যোগ্য বা অযোগ্য সেটা ঠিক করবে ইসি। সেখানে যদি কোনো সংবিধান লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে তখন তা কেবল উচ্চ আদালতে আসতে পারে। এখন অ্যাটর্নি জেনারেল যা বলেছেন, তা ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দেয়ার শামিল। এমনকি তার বক্তব্য আপিল বিভাগের রায় দ্বারা সমর্থিত নয়। আপিল বিভাগের রায় অনুযায়ী যেকোনো রিটার্নিং অফিসার খালেদা জিয়ার তিনটি মনোনয়নপত্রই বৈধ বলে ঘোষণা দিতে পারেন। আইনে তাতে কোনো বাধা নেই।’

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে উদ্দেশ্য করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেল সাহেব আপনি তো আওয়ামী লীগের নেতা, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কার মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন, আপনি কিভাবে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা থাকেন? সরকারি ক্ষমতার শক্তিতে বলীয়ান হয়ে আপনার মতো দলবাজ আগ্রাসী আইন কর্মকর্তা থাকলে ন্যায়বিচার পাওয়ার সব পথ বন্ধ হয়ে যাবে।’

বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলম –এর হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল দুর্নীতির দায়ে বিচারিক আদালতের দেওয়া দণ্ড ও সাজা স্থগিত চেয়ে পাঁচ বিএনপি নেতার আবেদন খারিজ করেন। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে, ‘নিম্ন আদালতে দুই বছরের বেশি দণ্ড হলে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। তবে আপিল বিভাগে দণ্ড স্থগিত ও বাতিল হলেই কেবল অংশ নিতে পারবেন।’

ওই আদেশের পর সাংবাদিকরা অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে জানতে চান- খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য হবে কি না? জবাবে মাহবুবে আলম বলেন, ‘অবশ্যই। এটি সাংবিধানিক বিধিবিধান। এখানে শর্ত হলো দুটি। তা হলো, তিনি যদি দণ্ডিত হন, তাহলে পারবেন না। এরই মধ্যে তিনি যদি তাঁর দণ্ড বা সাজা থেকে মুক্তিলাভ করেন, তাহলে তাঁর সাজা বাতিলের তারিখ থেকে পাঁচ বছর তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। কাজেই খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে দুটি প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। যেকোনো আদালত তাঁর রায় দিয়ে এই সাংবিধানিক প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করতে পারেন না।’

এদিকে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রায়ের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘আমরা মনে করি, এই রায়, এই আদেশে সরকারের আশা-ইচ্ছার প্রতিফলন হয়েছে।’

You Might Also Like