‘নির্বাচন এখনই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে, পুলিশকে দিয়ে কারচুপির নীলনকশা হচ্ছে’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন এখনই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে, পুলিশকে দিয়ে নির্বাচনে কারচুপির নীলনকশা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় তিনি বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তাদের অপসারণ ও নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবি করেন তিনি।

এদিকে বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মনোনয়ন বিতরণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদসহ সংশ্লিষ্ট সবার বিচার দাবি করেছে বিএনপি।

শুধু সচিব নয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, সংশ্লিষ্ট জোনের উপ-কমিশনার আর ও সচিবালয়ের যুগ্ম সচিবেরও শাস্তি চাওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে আচরণবিধি পালন সংক্রান্ত চিঠির পরই এই ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে দলটি।

মঙ্গলবার (২০ নভেম্বর) বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে এ সংক্রান্ত চিঠি দেয়। বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে এই বিচার চাওয়া হয়। চিঠিটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার ছাড়াও নির্বাচন কমিশন সচিবের কাছে দেয় প্রতিনিধি দল।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘নির্বাচন কমিশন তড়িঘড়ি করে ৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার পরেরদিন থেকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ রাস্তা বন্ধ করে যানজট সৃষ্টি করে মনোনয়নপত্র বিতরণ করে। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ঢাকা ঢোল পিটিয়ে মোটরসাইকেল, গাড়ি, পিকআপসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ধানমন্ডিতে যায় এবং রাস্তাঘাট বন্ধ করে মনোনয়ন সংগ্রহ করে।’

‘এছাড়া নিজেদের প্রার্থীদের মধ্যে দুইজন নিহত হয়। এসময় ঘটনায় পুলিশি তো তৎপরতা না নিয়ে বিএনপি মনোনয়নপত্র বিতরণের সময় বিএনপির কার্যালয়ের সামনে স্বতঃস্ফূর্ত জনগণের ঢল দেখে নির্বাচন কমিশন সচিব ও ডিএমপি কমিশনারের গায়ে জ্বালা ধরে। কমিশন নড়েচড়ে বসে। কথিত আচরণবিধি খড়গ নেমে আসে বিএনপির ওপর। ইসি সচিব গণমাধ্যম আচরণবিধি পালনের কঠোর হুমকি নিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন বলে চিহ্নিত করে। এটি একটি পক্ষপাতমূলক আচরণ।’

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘১৩ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি প্রতিপালনের নির্দেশনা নেতাকর্মী সমর্থকসহ জনগণের অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্থ করেছে। নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের দেয়া বক্তব্য বিভ্রান্তিমূলক এবং ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামানের বক্তব্যে ঘটনা ঘটানোর স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়।’

চিঠিতে প্রশ্ন রাখা হয়, ‘আওয়ামী লীগের জনসমাগমে এই ঘটেনি কিন্তু বিএনপি সময় ১৪ নভেম্বর এঘটনা কিভাবে ঘটল?’

চিঠিতে দাবি করা হয়, ‘এই সন্ত্রাসী হামলায় বিএনপির অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন ও তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ে করা হয়েছে। পুলিশ তিনটি মামলায় ৪৭২ জন নেতাকর্মীদের অভিযুক্ত করেছে। ৭০ জনকে গ্রেফতার করেছে এবং ৩৮ জন নেতাকর্মীকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন চিঠির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির চরম বিঘ্ন সৃষ্টি, নিরাপরাধ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সরাসরি ইন্ধন যুগিয়েছে।’

এমতাবস্থায় ‘নির্বাচন কমিশনের সচিব, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, সংশ্লিষ্ট জোন উপ-পুলিশ কমিশনার এবং উদ্দেশ্যমূলক জারিকৃত পত্রের স্বাক্ষরকারী নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব (নির্বাচন পরিচালনা-২) এর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্ত আইনের আশ্রয় গ্রহণে বাধ্য হব।’

You Might Also Like