‘নির্বাচনের সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন পেছানোর সম্পর্ক নেই’

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন পিছিয়ে দেয়ার কোন সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

উল্লেখ্য মায়ানমার সরকার এর আগে দাবি করেছিল যে, বাংলাদেশ সরকার ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন পিছিয়ে দিতে চাইছে। খবর বিবিসির।

মায়ানমারের সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী বলেছেন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সাথে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে।

তবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলছেন, নির্বাচনের সাথে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কোন সম্পর্ক নেই।

তিনি বলছেন, ‘মোটেই না, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরে এই ১৫ নভেম্বর তারিখটি নির্ধারণ করা হয়েছিলো। এটার সাথে নির্বাচনের কোন সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশের জন্য তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়াটা যুক্তিযুক্ত বলে মনে করি আমরা।’

বাংলাদেশ থেকে প্রথম দফায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা ছিল ১৫ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার। প্রথম দফায় দুই হাজারের কিছু বেশি রোহিঙ্গাকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিলো।

মায়ানমারের পক্ষ থেকেই তাদের যাচাই করে এই তালিকা দেয়া হয়েছে। ১৫ নভেম্বর প্রথম দিন দেড়শ জনের মতো রোহিঙ্গাকে মায়ানমারে প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছিলো। কিন্তু সেটি শুরু করাই সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানিয়েছেন, ‘আমাদের দুই রাষ্ট্রেরই সম্মতিতে ১৫ নভেম্বর ডেডলাইন নির্ধারণ করা হয়েছিলো। সেটা হয়নি কারণ যারা যাবেন তারা রাজি হয়নি। এখানে আমরা যেটা বুঝেছি যে এখানে আস্থার সংকট আছে তাদের। আমরা মায়ানমারকে অনুরোধ করেছি এবং আবারো পুনরায় করবো এই আস্থার যায়গাটি তৈরি করতে। এবং তারা যত তাড়াতাড়ি এই কাজটি করতে পারবেন, রিপাট্রিয়েশন আমরা আবারো পুনরায় চেষ্টা করবো। পুরোপুরি এটা এখন নির্ভর করছে মায়ানমারের উপর।’

তিনি বলছেন, আস্থার সংকটই এখানে বাধার সৃষ্টি করেছে।

প্রত্যাবাসিত রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করতে মায়ানমারের তংপিয়ং লেটওয়া এলাকার অস্থায়ী ক্যাম্পে অভিবাসন কর্মকর্তাসহ নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং চিকিৎসকরা প্রস্তুত ছিলেন বলে মায়ানমারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিলো।

প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য বাংলাদেশেরও পুরোপুরি প্রস্তুতি ছিল বলে জানান শাহরিয়ার আলম। তবে সেদিন কক্সবাজারে রোহিঙ্গারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং তাদের নাগরিকত্ব প্রদান, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা সহ পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরে ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানান।

এখন নতুন করে কবে প্রত্যাবাসন শুরু হতে পারে সেনিয়ে পরিষ্কার করে ধারনা পাওয়া যাচ্ছে না।

You Might Also Like