মৃত মনিবের জন্য ৮০ দিন ধরে রাস্তায় বসে আছে যে কুকুর

ব্যস্ত এক সড়কে রোজ একটি কুকুর এসে অপেক্ষা করে, যেখানে ৮০ দিন আগে তার মনিব মারা গিয়েছিলেন-এমন একটি ভিডিও নিয়ে চীনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন চলছে ব্যাপক আলোচনা।

চীনের জনপ্রিয় মাইক্রোব্লগিং সাইট সিনা ওয়েইবোতে কুকুরটির অপেক্ষার এই দৃশ্য গত দুইদিনে ১৪ লক্ষ মানুষ দেখেছেন। খবর বিবিসির।

ঘটনার শুরু

ঘটনাটি ঘটেছে ২১শে অগাস্ট চীনের উত্তরে ইনার মঙ্গোলিয়ার হোহোট শহরের ঐ ব্যস্ত সড়কে কুকুরটির মালিক মারা যান।

এরপর থেকে রোজ কুকুরটি তার মনিবের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে সেখানে।

একজন ট্যাক্সিচালক জানিয়েছেন, স্থানীয় বাসিন্দারা কুকুরটিকে সাহায্যের চেষ্টা করেছেন, কিন্তু কাউকে কাছে যেতে দেখলে প্রতিবারই পালিয়ে গেছে সে।

‘স্থানীয় ড্রাইভারেরা কুকুরটির জন্য রাস্তায় খাবার রেখে দেয়, কিন্তু যখনি কেউ কাছে যাবার চেষ্টা করেছে, দৌড়ে পালিয়ে যায় কুকুরটি।’

‘মনিবের সঙ্গে তার সম্পর্ক খুবই গভীর ছিল, যেদিন তিনি এই রাস্তায় গাড়িচাপায় মারা যান, মৃতদেহের পাশে কুকুরটি ঠায় দাঁড়িয়ে ছিল। তারপর থেকেই এই ঘটনা ঘটছে।

আশপাশের লোকেরা সারাদিনই কুকুরটিকে রাস্তায় বসে থাকতে দেখে।’

সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরা কী বলছেন?

পিয়ার ভিডিও ওয়েবসাইট নামে একটি ভিডিও শেয়ারিং সাইট ১০ই নভেম্বর ভিডিওটি চীনে ফেসবুক বা টুইটারের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার হওয়া সিনা ওয়েইবোতে পোষ্ট করে।

এরপর থেকেই ব্যবহারকারীরা এই ভিডিও নিয়ে আলোচনা করে যাচ্ছেন।

অধিকাংশ মানুষ কুকুরটির আনুগত্যের অনুভূতি নিয়ে মন্তব্য করছেন। কেউ কুকুর নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছে। কেউ বা আবার কুকুরটির সুস্থতা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

ব্যস্ত রাস্তায় শীতের মধ্যে কুকুরটির একাকী দাড়িয়ে থাকা নিয়ে উদ্বেগ আছে।

আবার কেউ কেউ কুকুরটিকে দেখভালের দায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

এমন নজির কি এই প্রথম?

প্রভুভক্ত প্রাণী হিসেবে কুকুরের সুনাম বহুকাল থেকেই। আর চীনের সামাজিক মাধ্যমেও এটিই প্রথম মনিবভক্ত কুকুরের গল্প নয়।

এ বছরের শুরুতে পিয়ার ভিডিও আরেকটি ভিডিও পোষ্ট করেছিল, সেখানে জিয়ংজিয়ং নামে বয়স্ক এক কুকুর রেল স্টেশনে বাইরে মনিবের কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় থাকে।

সেবার সেই ভিডিও নিয়েও অনেক আলোচনা ও আবেগের প্রকাশ দেখা গেছে।

১৯২০ সালে জাপানে হাসিকো নামে একটি কুকুর প্রতিদিন মনিবের সঙ্গে রেল স্টেশনে দেখা করার কারণে বিখ্যাত হয়ে উঠেছিল।

মনিবের মৃত্যুর পরও নয় বছর হাসিকো সেই স্টেশনে গিয়ে বসে থাকত।

টোকিও শহরের উপকণ্ঠে সেই কুকুরের স্মরণে একটি ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে।

You Might Also Like