ভারত থেকে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ

রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি (এনডব্লিউপিজিসিএল) ভারত থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। খুলনায় অবস্থিত ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য এ গ্যাস ব্যবহার করা হবে।

সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের জুন মাসের মধ্যে এই কোম্পানি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে দৈনিক ১২৫ মিলিয়ন ঘন ফুট এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা করেছে।

কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএম খুরশেদুল আলম বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ভারতের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত গ্যাস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার (গেইল) সাথে কথা বলেছি।

তিনি বলেন,এজন্য এনডব্লিউপিজিসিএলের ৫ সদস্যসহ ১০ সদস্য বিশিষ্ট একটি কার্যকরি প্রতিনিধি দল গঠন করা হয়েছে।
আলমসহ এই প্রতিনিধি দল গত মাসে ভারত সফরে যান এবং ভারতীয় প্রতিনিধিদের সাথে এ ব্যাপারে আলাপ আলোচনা করেন।

তিনি জানান, ভারতের এইচ এইচ এনার্জি পশ্চিমবঙ্গের দিঘায় বছরে ৮০ লাখ টন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি এনএলজি টার্মিনাল তৈরি করছে।

২০১৫ সালের মধ্যে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এই এলএনজি টার্মিনালটি স্থাপনের জন্য কার্যাদেশ দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এরপর ২০১৮ সালের মধ্যে সেটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে সেখান থেকে এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান খুরশেদুল আলম।

তিনি জানান, পশ্চিম বঙ্গ থেকে ১২৫ এমএমসিএফডি (দৈনিক ১২৫ মিলিয়ন ঘনফুট) এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা করছেন তারা।

তবে ভবিষ্যতে দৈনিক ৫০০ এমএমসিএফডি থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট আমদানির পরিকল্পনা করছেন তারা।

পশ্চিমবঙ্গ থেকে এলএনজি আমদানির জন্য ১১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন তৈরি করতে হবে। এর মধ্যে কলকাতা থেকে বেনাপোলের মধ্যে ৭২ কিমি এবং বেনাপোল থেকে যশোর পর্যন্ত ৪৬ কিমি।

খুরশেদুল আলম জানান, রাষ্ট্রায়াত্ব গ্যাস বিতরণ কোম্পানি (জিটিসিএল) বাংলাদেশের অভ্যন্তরের বিতরণ পাইপলাইন তেরি করবে। ভারতীয় অংশের পাইপলাইন তৈরি করবে গেইল।

ম্যানিলাভিত্তিক এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) খুলনায় এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ৭০ কোটি ডলার ঋণ দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা মেটাতে সরকার বিভিন্নভাবে এলএনজি আমদানির চিন্তাভাবনা করছে।

বঙ্গোপসাগরের মহেশখালী দ্বীপে দেশের প্রথম এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য গত ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের অস্ট্রা অয়েল অ্যান্ড এক্সিলারেট এনার্জির সাথে একটি প্রাথমিক চুক্তি করেছে পেট্রোবাংলা।

প্রস্তাবিত এই টার্মিনালের ক্ষমতা বছরে ৫০ লাখ টন।   আইনগত দিক পরীক্ষা নিরীক্ষা এবং মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদনের পর চুক্তিটি চূড়ান্ত করা হতে পারে।

এছাড়া মহেশখালীর মাতারবাড়িতে এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পাওয়ার সেলে বর্তমানে ১৫টি প্রস্তাব জমা রয়েছে। সেগুলোও পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

বিওটি ভিত্তিতে মহেশখালীতে বছরে ৩৫ লাখ টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে আগ্রহী পাওয়ার সেল।

কাতার পেট্রোলিয়ামের কাছ থেকে বছরে ৪০ লাখ টন এলএনজি আমদানির জন্য ২০১১ সালের জানুয়ারিতে একটি সমঝোতা স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ। পরে এর মেয়াদ ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে এলএনজি আমদানির বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।

দেশে গ্যাসের মজুদ ও উতোলন দ্রুত কমে যাওয়ায় এলএনজির প্রয়োজনীয়তা দিন দিনই বাড়ছে বলে মন্তব্য করছেন কর্মকর্তারা। ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

বর্তমানে দেশে গ্যাসের চাহিদা ৩ হাজার এমএমসিএফডি তবে উৎপাদন হচ্ছে ২৩২০ এমএমসিএফডি।

You Might Also Like