গোল: চাইর কোণা পোস্টবক্স থেকে

শারমিন শাহনাজ

আমার আম্মার বাসায় গ্রাম থেকে দূর সম্পর্কের  এক আত্মীয় বেড়াতে এসেছে। মেয়েটির বয়স সাত – আট বছর হবে ।নাম মিনা। কয়েক দিন আমাদের সাথে থাকবে।

মিনার সব ব্যাপারে খুব আগ্রহ এবং শহুরে জীবন যাত্রা বিস্ময়ের সাথে অবলোকন করে । আধুনিকতার ছোঁয়া সেভাবে ওদের গ্রামে পৌঁছে নি।তখন ঘরে ঘরে টিভি ছিল না ।

আমাদের বাসায় টিভি ছিল আম্মার বেডরুম এ। আমরা যাতে পড়া – লেখা বিসর্জন দিয়ে শুধু টিভির প্রতি মনোযোগী না হই তাই এই  ব্যবস্থা । মিনা কিছু বুঝুক আর না ই বুঝুক গভীর আগ্রহ সহকারে খবর সহ সব অনুষ্ঠান মুগ্ধ হয়ে দেখত।যদিও তখন বিটিভি ছাড়া আর কোন চ্যানেল ছিল না ।

যা হোক নব্বই এর বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা চলছে । আমার বড় ভাই ফুটবল পাগল মানুষ । রাত জেগে ফুটবল খেলা দেখে । ম্যাচে গোল হলে “গোল গোল ” করে চিৎকার করে উঠে ।আশেপাশের বাসা থেকেও আনন্দের সোরগোল শুনা যায়। প্রিয় দলের খেলা হলে তো কথাই নেই । গোল হলে চিৎকারের সাথে লাফালাফি – নাচানাচি ও উচ্ছাসে যোগ হয় ।

মিনাও আমাদের সাথে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখে । আম্মার ঘুম হারাম হয়।

এক রাতে আমরা ম্যাচ দেখছি । গোল হল। আমার ভাই চিৎকার সহ উন্মাদনা প্রকাশ করল।একটু শান্ত হয়ে আবার খেলা দেখায় মন দিয়েছি।

এমন সময় মিনা আম্মাকে জিজ্ঞাসা করল : খালাম্মা , বড় ভাইজান যে  “গোল গোল ” কইরা চিল্লায় , গোল কি?

আমরা তো একথা শুনে হতভম্ব।

আমার ভাই এর তো আঁতে লাগল ।প্রতি দিন আমাদের সাথে খেলা দেখছে আর ‘গোল’ কি জানে না  !!

সে মিনা কে বুঝানোর জন্য বলল : ঐ যে জাল বাঁধা পোস্টটা দেখচ্ছিস ওর ভিতর বল ঢুকে পরলেই গোল ।

মিনা কথাটা শুনে গভীর মনোযোগ সহকারে টিভির পর্দায় চোখ রাখল। তারপর গম্ভীর মুখে বলল : আফনারা কইতেছেন গোল , আমি তো দেহি চাইর কোণা।

আমরা অট্টহাসিতে ফেটে পড়লাম ।

আজও ফুটবল ম্যাচে গোল হলে আমরা প্রথমে ‘গোল’ বললেও পরে বলি , ” আমি দেহি চাইর কোণা”।

You Might Also Like