অভিবাসীবিরোধী নীতির প্রতিবাদে তীব্র হচ্ছে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের অভিবাসীবিরোধী নীতির প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ। শনিবার ওয়াশিংটনে সিনেট ভবন দখলে নিয়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু করলে ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যানসহ প্রায় ৬শ’ জনকে আটক করে নিরাপত্তা বাহিনী। এরমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর নীতি গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স।
অভিবাসীদের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘জিরো টলারেন্সে’ নীতি গ্রহণের পর থেকেই ক্রমেই তীব্র হচ্ছে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ। বৃহস্পতিবার পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে ওয়াশিংটনের সিনেট ভবন ঢুকে পড়ে শত শত বিক্ষোভকারী। সিনেট ভবনের ভেতরে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নেয় বিক্ষোভকারীরা। এসময় তাদের ওপর চড়াও হয় নিরাপত্তা বাহিনী। চালানো হয় ব্যাপক ধরপাকড়। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যানসহ আটক করা ৫ শতাধিক বিক্ষোভকারীকে। এদের বেশিরভাগই নারী বলে জানা গেছে।
এরআগে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসী-বিরোধী নীতির বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের রাস্তায় বিক্ষোভ র‌্যালি শেষে সিনেট ভবনের সামেন জড়ো হতে থাকে বিক্ষোভকারীরা। অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানানোর দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা। এছাড়া, বন্দিশালায় অভিবাসী শিশুদের নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানান বিক্ষোভকারীরা।
গত ৫ মাস ধরে আমার মেয়ে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। অভিবাসীদের পক্ষে দাঁড়াতে আমি আজ রাস্তায় নেমেছি। প্রিয়জনকে কাছে না পাওয়ার কি যে কষ্ট তা আমার চেয়ে আর কেউ বেশি জানে না।
পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখার মতো নির্দয় কাজ আর একটিও নেই। অথচ নিষ্পাপ শিশুদের পরিবারের কাছ থেকে আলাদা করে রাখা হয়েছে। যা ভয়াবহ অমানবিক কাজ।
এদিকে, আদালতের নির্দেশে আটক এক ব্রাজিলিয়ান অভিবাসী শিশুকে পরিবারের কাছে ফেরত দেয়া হলেও এখনো অনেক শিশু পরিবারহীন বন্দী জীবন করছে। আটক সন্তানকে ফিরে পেতে এই নারীর মতো বন্দিশালার বাইরে দিন পার করছেন অনেকেই।
বিক্ষোভে অংশ নেন বেশিরভাগ নারী প্রতিবাদকারী এবং তারা সবাই সাদা কাপড় পরেছিলেন। পুলিশের আটক হুমকি উপেক্ষা করেই তারা সিনেট ভবনে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন।
বিক্ষোভকারীরা সিনেট ভবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখলে নিয়ে নেন। এ সময় তারা অভিবাসীদেরকে আমেরিকায় স্বাগত জানানোর দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। পুলিশের সতর্কতা উপেক্ষা করে বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে থাকলে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়।
বিক্ষোভের সময় সিনেট স্টাফরা দোতলার মেঝেতে দাঁড়িয়ে বিক্ষুব্ধ জনতাকে দেখতে থাকেন। কিছুক্ষণ পর ডেমোক্র্যাট দলের সিনেটর ম্যাজি হিরোনো, ক্রিস্টেন গিলিব্রান্ড, জেফ মার্কলি ও প্রমিলা জয়পাল নিচে নেমে আসেন এবং বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। এসব সিনেটর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসী নীতির চরম সমালোচক।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন এবং আমেরিকা থেকে বহু দেশের অভিবাসীদেরকে বের করে দিতে চান। এছাড়া, মেক্সিকো থেকে অভিবাসীদের প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্ত জুড়ে দেয়াল নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের বিপক্ষে ইভাঙ্কা-মেলানিয়া

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে শিশুদের বিচ্ছিন্ন করার নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্পের। তিনি অভিবাসী শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অভিবাসী শিশুদের জন্য একটি গির্জায় ৫০ হাজার ডলার অনুদান দিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৪২ লাখ ৫১ হাজার ১৫০ টাকা।
সম্প্রতি টেক্সাসের প্রেস্টনউড ব্যাপিস্ট চার্চ কর্তৃপক্ষের হাতে এই অনুদান তুলে দেন তিনি। সেখানকার যাজক জ্যাক গ্রাহাম টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জ্যাক গ্রাহাম জানান, সীমান্তে পরিবার বিচ্ছিন্ন শিশুদের পাশে দাঁড়িয়েছে টেক্সাসের প্রেস্টনউড ব্যাপিস্ট চার্চ। এমন খবর জানতে পেরে তহবিল নিয়ে সংস্থাটির পাশে দাঁড়ান ইভাঙ্কা। ট্রাম্পের ইহুদি কন্যার এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেন এই যাজক।
গ্রাহাম বলেন, গত বছর ইভাঙ্কা ট্রাম্পের সঙ্গে আমার বেশ কয়েক বার দেখা হয়েছিল। তার বদান্যতায় আমি মুগ্ধ হয়েছি। ফলে তার এসব পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চাওয়ার বিষয়টি আমাকে অবাক করেনি।
এদিকে ঘরে-বাইরে চতুর্মুখী সমালোচনার পর অভিবাসী শিশুদের তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন ট্রাম্প। অভিবাসী পরিবারগুলোর সদস্যদের একসঙ্গে রাখার কথা বলেছেন তিনি। আদালতের পক্ষ থেকেও একই ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন ফার্স্ট-লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে আশ্রয় শিবিরে অবস্থানকারী অভিবাসী শিশুদের সাথে পুনরায় দেখা করবেন। অভিবাসন নীতির বিষয়ে আইন প্রণেতাদের সম্পৃক্ত হবার পর এটা হবে মেলানিয়ার দ্বিতীয় আশ্রয় শিবির পরিদর্শন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত সপ্তাহে অভিবাসী শিশুদেরকে তাদের পরিবার থেকে আলাদা করার নীতিতে পরিবর্তন এনে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। এর আগে শিশুদেরকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে একটি নির্দিষ্ট আশ্রয় শিবিরে রাখা হতো। ট্রাম্পের এই নীতি বিশ্বজুড়ে তুমুলভাবে সমালোচিত হয়। শিশুদেরকে তাদের পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলিত করে দেবার আহবান জানানো হয়।
তাই, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন প্রায় ২ হাজার ৩শ’ শিশুকে প্রশাসন কিভাবে পুনরায় তাদের পরিবারের সাথে একত্রীকরণ করবে সেটি এখন দেখার বিষয়। মেলানিয়া আকস্মিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে থেকে আটক শিশুদের দেখতে আশ্রয় শিবিরে যান। সেখানে তিনি শিশুদের মাঝে পোশাক বিতরণ করেন।
শিশুদেরকে তাদের পরিবারের কাছে পুনরায় পৌঁছে দিতে তিনি দাতা সংস্থার কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন।ফার্স্ট লেডির মুখপাত্র স্টেফানি গ্রিসাম বলেন, চলতি সপ্তাহে মেলানিয়া দ্বিতীয়বারের মতো আশ্রয় শিবির পরিদর্শন করবেন। তবে তিনি কবে যাবেন তা সঠিকভাবে বলা হয়নি।

You Might Also Like