আইনি জটিলতার কারণে ৪ বছর মর্গে থাকার পর লাশ হস্তান্তর

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের মর্গে চার বছর পড়ে থাকা হোসনে আরা লাইজু ওরফে নিপা রানীর লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে রমেক হাসপাতালের পরিচালক অজয় রায় আনুষ্ঠানিকভাবে নিপার লাশ হস্তান্তর করেন নীলফামারীর ডোমার উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা উম্মে ফাতেমার নিকট। এ সময় লাইজুর শ্বশুর বাড়ির লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

গত ১২ এপ্রিল নিপার লাশ ইসলামী রীতি অনুযায়ী দাফনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। রায়ের কপি পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে দাফন করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু রায়ের ২২ দিন পর লাশের একটি সুরাহা হলো।

সূত্রে জানা গেছে, নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার বামনিয়া ইউনিয়নের অক্ষয় কুমার রায়ের মেয়ে নিপা রানী রায়। নিপা রানীর সাথে পার্শ্ববর্তী বোড়াগাড়ি ইউনিয়নের ওর্য়াড মেম্বার জহুরুল ইসলামের পুত্র হুমাযুন কবির রাজুর প্রেম ছিল। ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে নীলফামারী নোটারি পাবলিক ক্লাবের মাধ্যমে এফিডেভিটে ২ লাখ ১ হাজার ৫০১ টাকা দেনমোহরে হুমায়ুন কবির বিয়ে করেন নিপাকে। এ সময় নিপার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় হোসনে আরা লাইজু।

বিয়ের পর মেয়ের বাবার অভিযোগে ছেলে-মেয়ে দুজনকেই জেলহাজতে নেওয়া হয়। পরে তারা দুজনেই জেলহাজত থেকে মুক্তি পান। মুক্তি পাওয়ার পর ২০১৪ সালের ১৫ জানুয়ারি নিপা রানী ওরফে লাইজু বিষ পান করে আত্মহত্যা করেন। এর ৫৪ দিন পর হুমাযুন কবির রাজুও বিষপানে আত্মহত্যা করেন। নিপা রানীর লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (রমেক) হাসপাতাল মর্গে আনা হলে আইনি জটিলতায় তখন থেকেই লাশটি হিমঘরে পড়ে থাকে।

একদিকে নিপার লাশ মেয়ে হিসেবে দাবি করেন বাবা অক্ষয় কুমার মাস্টার, অপরদিকে পুত্রবধূ হিসেবে দাবি করেন ছেলের বাবা জহুরুল ইসলাম মেম্বার। এ নিয়ে মেয়ের বাবা অক্ষয় কুমার মাস্টার নীলফামারী সদর কোর্ট মেয়ের লাশ চেয়ে মামলা করেন। মামলার রায়ে মেয়ের বাবা অক্ষয় হেরে যান। পরবর্তীকালে তিনি সাব-জজ আদালতে আপিল করেন। সেখানে ছেলের বাবা জহুরুল ইসলাম হেরে যান। এর পর ছেলে বাবা হাইকোর্টে আপিল করেন।
চার বছরের বেশি সময় ধরে মর্গে থাকা হোসনে আরা লাইজুর (নিপা রানী) লাশ ইসলামী রীতি অনুযায়ী দাফনের নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। বিচারপতি মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরীর স্বাক্ষরের পর ১৫ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়। নীলফামারীর জেলা প্রশাসককে এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে দাফন সম্পন্ন করতে হবে। দাফনের আগে হোসনে আরা লাইজুর (নিপা রানী) লাশ তার বাবা ও পরিবারকে দেখার সুযোগ দিতে বলা হয়েছে।

ছেলের বাবা জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘লাশ আমাদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। আমরা বাড়িতে নিয়ে লাশ দাফন করব।’

তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে ভালোবেসে নীলফামারী আদালতে এফিডেফিট করে নিপাকে বিয়ে করেছিল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ছেলে-মেয়ে দুজনকেই হারালাম।’

রমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. অজয় রায় বলেন, ‘কাগজপত্র পেয়ে আমরা লাশ নীলফামারী প্রশাসনের নিকট হস্তান্তর করেছি।’

You Might Also Like