৩৬ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা চায় বাংলাদেশ

তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, থাইল্যান্ড বাংলাদেশকে ৬ হাজার ৯৯৮টি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে। তৈরি পোশাক, ঔষধসহ যেসব পণ্যের থাইল্যান্ডে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এমন আরো ৩৬টি পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা চাওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঢাকায় সফররত থাইল্যান্ডের ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ইকোনমিক রিফর্মস বিষয়কমন্ত্রী কোবসক পুট্রকলের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

থাইল্যান্ডের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, আরো ৩৬টি পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া হলে বাংলাদেশ আরো বেশি লাভবান হবে। গত অর্থবছরে বাংলাদেশ থাইল্যান্ডে ৪৮.৫৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে, একই সময়ে আমদানি করেছে ৭৮১.৬ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য।

থাইল্যান্ড বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাষ্ট্র উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে উভয় দেশের বাণিজ্য বৃদ্ধি করা সম্ভব। গত বছর বাংলাদেশে ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি ছিল। এ বছর আরো বেশি হবে বলে আশা করছি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বমানের ঔষধ প্রস্তুত করছে। বাণিজ্য সুবিধা পাওয়া গেলে থাইল্যান্ডে ঔষধ রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বৈঠকে বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার আগ্রহ প্রকাশ করেন থাইল্যান্ডের প্রতিনিধি দলের নেতা ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ইকোনমিক রিফর্মস বিষয়কমন্ত্রী কোবসক পুট্রকল।

বৈঠকে তিনি বলেন, থাইল্যান্ড বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী। বিনিয়োগের বিষয়ে বিডার সঙ্গে আলোচনা চলছে। বাংলাদেশের সঙ্গে পর্যটন, ফাইন্যান্স, মেনুফ্যাকচারার্সসহ বিভিন্ন সেক্টরে বাণিজ্য করার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক বিশ্বসেরা। আগামীতে থাইল্যান্ড বাংলাদেশের সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠভাবে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলেও জানান থাইল্যান্ডের মন্ত্রী।

বাণিজ্যমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে বলেন, বাংলাদেশ ২০২৪ সালে এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে। থাইল্যান্ডের সঙ্গে এফটিএ করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, বৈঠকে প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে থাইল্যান্ড ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভিসা সহজ করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। আশা করছি আগামী ২০২১ সালে উভয় দেশের বাণিজ্য ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে থাইল্যান্ডের ১০০টি প্রকল্পে প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ১০০টি স্পেশাল ইকোনমিক জোনে থাইল্যান্ড বিনিয়োগ করতে চাইলে তাদের একটি স্পেশাল ইকোনমিক জোন বরাদ্দ দেওয়া হবে। এজন্য সবধরনের সহযোগিতা করবে সরকার।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ঔষধ শিল্প নগরীতে থাইল্যান্ডের বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করলে রপ্তানি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত নগদ আর্থিক সহায়তার সুযোগ গ্রহণ করতে পারে।

বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শুভাশীস বসু, বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত বেনোয়েট প্রিফনটেইন, থাইল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাঈদা মুনা তাসনিম, থাইল্যান্ডের ডেলিগেশন সদস্যবৃন্দ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

You Might Also Like