তাশফিয়ার মৃত্যুর কিছু ক্লু পুলিশের হাতে

স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী তাশফিয়ার লাশ উদ্ধার ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় কিছু ক্লু খুঁজে পেয়েছে পুলিশ। তবে তদন্তের স্বার্থে তা এখনই প্রকাশ করছে না তারা। এই ঘটনায় তাশফিয়ার বন্ধু আদনানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আদনানও একই স্কুলের ১০ম শ্রেণির ছাত্র বলে জানা গেছে।
তাশফিয়ার মৃত্যুরহস্য উদঘাটনে পুলিশ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে তাশফিয়ার বন্ধু আদনান মির্জার বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। এই সময় আদনানের মোবাইলফোনসহ অন্যান্য ইলেক্ট্রনিকস ডিভাইজ জব্দ করে, যা অনুসন্ধান করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপ, ইমোসহ আদনানের সব আইডি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

তদন্তে থাকা চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কর্ণফুলী জোন) জাহেদুল ইসলাম জানান, তাশফিয়ার বন্ধু আদনানকে আটক করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু তথ্য পাওয়া গেলেও তদন্তের স্বার্থে সব কিছু এই মুহূর্তে প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

পুলিশ কর্মকর্তা জাহেদুল বলেন, ‘তাশফিয়া সন্ধ্যা পর্যন্ত আদনান মির্জার সাথে থাকার ভিডিও ফুটেজসহ তথ্য আমরা পেলেও সন্ধ্যার পর তাশফিয়া কীভাবে কার সাথে চট্টগ্রাম নগরী থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে পতেঙ্গা নেভাল রোডে গেল এবং সেখানে গিয়ে কীভাবে সে নিহত হলো, সেটা এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি। সেই রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা করছি আমরা।’

পুলিশ জানায়, বুধবার সকালে বেওয়ারিশ অবস্থায় নগরীর পতেঙ্গা থানার নেভাল রোডের কর্ণফুলী তীরের ১৮ নম্বর ঘাট এলাকা থেকে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে লাশের পরিচয় শনাক্ত হয়। জানা যায়, লাশটি নগরীর ওআর নিজাম রোড এলাকার অধিবাসী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আমিনের কিশোরী কন্যা তাশফিয়া আমিনের।

তাশফিয়া নগরীর সানশাইন গ্রামার স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী। তাশফিয়া লাশ হওয়ার আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে ওআর নিজাম রোডের বাসা থেকে নগরীর গোলপাহাড় এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টে গিয়ে আদনান মির্জা নামের এক বন্ধুর সাথে দেখা করে। রেস্টুরেন্টে প্রায় ২২ মিনিটের মতো অবস্থান করে তাশফিয়া একটি সিএনজি অটোরিকশাযোগে অজ্ঞাত গন্তব্যের উদ্দেশে চলে যায়। এর পর তাশফিয়ার সাথে আর যোগাযোগ হয়নি তার পরিবারের। বুধবার সকালে তাশফিয়ার লাশ মেলে পতেঙ্গা নেভাল এলাকায়।

তাশফিয়ার মৃত্যু রহস্যজনক উল্লেখ করে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধারণা করা হচ্ছে, তাশফিয়া খুন হয়েছে। লাশের শরীরের অন্যান্য স্থানে তেমন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া না গেলেও মাথায় একটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাই তার মৃত্যুরহস্য উদঘাটন করতে তাশফিয়ার বন্ধু এবং ঘটনার আগে সর্বশেষ যার সাথে তাশফিয়া দেখা করেছিল সেই আদনান মির্জাকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় আরো কেউ জড়িত বা সম্পৃক্ত আছে কি না, সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

You Might Also Like