ধান ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়েছে নেক ব্লাস্ট

ব্যাপক হারে নেক ব্লাস্টে আক্রান্ত হয়েছে ব্রি-২৮ জাতের ধান। এ রোগের ভাইরাস আক্রান্ত জমি থেকে ছড়িয়ে পড়ছে পার্শ্ববর্তী অন্যান্য জাতের ধান ক্ষেতে।
কৃষি বিভাগ বলছে, আবহাওয়াজনিত কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়ে মিটিং করে নানা পরামর্শ দিয়েও কাজ হচ্ছে না। মাঠ পর্যায়ে আগামীতে ব্রি-২৮ জাতের ধান আবাদ না করে ব্রি-৫৮ জাতের ধান আবাদ করার পরামর্শও দিচ্ছেন অনেক কৃষি কর্মকর্তা।

সরেজমিন জেলার সদর উপজেলার যাত্রাপুর, পাচগাছী, ঘোগাদহ, ভোগডাঙ্গা ও উলিপুর উপজেলার বজরা, তবকপুর, গুনাইগাছসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, ব্রি-২৮ জাতের ধানের চাল সুগন্ধি ও চিকন হওয়ায় এবং আগাম ঘরে তুলতে পারায় কৃষকদের এই ধান উৎপাদনে আগ্রহ বেশি। চলতি মৌসুমে কুড়িগ্রাম জেলায় ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৭ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। এরমধ্যে ব্রি-২৮ জাতের ধানই ৪৪ হাজার ৩২৪ হেক্টরে। যার বড় অংশ এবার নেক ব্লাস্টে আক্রান্ত। কৃষি বিভাগের পরামর্শে নিয়ম মাফিক ওষুধ স্প্রে করেও লাভ হচ্ছে না। এ অবস্থায় মাথায় হাত পড়েছে ধারদেনা করে আবাদ করা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের।

কৃষকরা বলছেন, ধানের গাছ ঠিক থাকলেও সাদা শীষ বের হচ্ছে। এ রোগ ছড়িয়ে পড়ায় আক্রান্ত জমি থেকে শুধু খড় ছাড়া কোনো ধানই ঘরে তুলতে পারবেন না তারা। এ অবস্থায় আগামী দিনগুলো কীভাবে কাটবে, সেই চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের ছত্রপুর গ্রামের ছলিমা বেগম এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন। তিনি জানান, তিনি এক একর জমিতে ব্রি-২৮ ধান আবাদ করেছেন। সব ক্ষেতের ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এ অবস্থায় ধারদেনা করে সেচ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করে এখন বিপাকে পড়েছেন। তিনি এখন তাকিয়ে আছেন সরকারের দিকে।

একই গ্রামের সুকুমার রায় বলেন, চিকন ধানের দাম বেশি পাওয়ার আশায় তিনি ৯০ শতক জমিতে ব্রি-২৮ জাতের ধান লাগিয়েছেন। সেই জমি থেকে এখন খড় ছাড়া আর কিছুই মিলবে না।

সদর উপজেলার পাচগাছী ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. নূর আলম জানান, মাঠ পর্যায়ে জমিতে সুষম সার প্রয়োগ না হওয়ায় ও আবহাওয়াজনিত কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে কৃষি বিভাগ থেকে পরামর্শ দেওয়া হলেও তা কোনো কাজে আসছে না। তিনি বলেন, ব্রি-২৮ জাতের ধানের এই রোগ নিয়ে আসলে গবেষণা করা দরকার। আর না হলে এ ধান আবাদ না করাই উত্তম।

জেলার নয় উপজেলায় কী পরিমাণ ধানক্ষেত নেক ব্লাস্টে আক্রান্ত হয়েছে- তার সঠিক হিসাব দিতে না পারলেও কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুর রশিদ জানান, আবহাওয়ার পরিবর্তন ও দিনরাতের তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। কী পরিমাণ ব্রি-২৮ ক্ষেত নেক ব্লাস্টে আক্রান্ত হয়েছে, তার ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে মাঠ পর্যায়ে কাজ চলছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের আক্রান্ত জমিসহ পার্শ্ববর্তী জমিতে সঠিক পরিমাণের ওষুধ প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

You Might Also Like