ইউরোপের জন্যই পরমাণু সমঝোতা জরুরি

ফেডেরিকা মোগেরিনি বলেছেন, ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখা ইউরোপের জন্যই জরুরি এবং এই চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়নে ইউরোপ তার অবস্থানে অটল থাকবে। এই জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক শুরুর আগে মোগেরিনি এ কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ইরান পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করেছে এবং আইএইএ’র ১১টি প্রতিবেদনেও বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউরোপের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনি আবারো পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখার ওপর যে গুরুত্বারোপ করেছেন তা কয়েকটি দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। ইউরোপীয়রা মনে করেন, শীতল যুদ্ধের পর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দিক থেকে পরমাণু সমঝোতা ছিল অন্যতম একটি আন্তর্জাতিক সাফল্য। এ ছাড়া, ইউরোপীয়রা মনে করেন চুক্তির মাধ্যমে ইরানের পরমাণু কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা সম্ভব হয়েছে এবং এর ফলে সামরিক উদ্দেশ্যে পরমাণু তৎপরতা চালানোর কোনো সুযোগ ইরানের নেই। তা ছাড়া, ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক নিরসনেও প্রেরণা হয়ে আছে।

প্রকৃতপক্ষে, পরমাণু সমঝোতা ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্ক শুরু করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত প্রভাবশালী দেশ হিসেবে ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের সুযোগকে ইউরোপ হাত ছাড়া করতে চায় না।

অন্যদিকে, আমেরিকার ইচ্ছা মতো পরমাণু সমঝোতায় পরিবর্তন আনার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছে ইউরোপ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে প্রবেশের আগেই পরমাণু সমঝোতার বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন। তিনি চূড়ান্ত সময়সীমা বেধে দিয়ে বলেছেন, এ সময়ের মধ্যে আমেরিকার ইচ্ছামতো পরমাণু সমঝোতায় পরিবর্তন আনা না হলে তিনি চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাবেন। আগামী ১২ মে ওই আল্টিমেটাম শেষ হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের দফতরের কর্মকর্তা রিচার্ড সোকোলস্কি বলেছেন, “পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেননি এবং তার সুনির্দিষ্ট কর্মকৌশলও নেই।”

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ অবস্থানের কারণে ইউরোপীয়রাও বিচলিত হয়ে পড়েছে। ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি সিরিয়ায় ইরানের ভূমিকা এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কারণে তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব দিলেও তারা আসলে চায় ইরানের কাছ থেকে এসব বিষয়ে ছাড় আদায় করতে যাতে পরমাণু সমঝোতার প্রতি আমেরিকার সমর্থন ধরে রাখা যায়। অবশ্য ইউরোপের অন্যান্য দেশ এ ব্যাপারে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির নীতির সঙ্গে একমত নয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনি বলেছেন, অপারমাণবিক বিষয়ে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য কথাবার্তা চললেও এ ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এর পাশাপাশি ইউরোপীয়রা পরমাণু সমঝোতার প্রতি মার্কিন সমর্থন ধরে রাখার জন্য ওয়াশিংটনের সঙ্গেও ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন পরমাণু সমঝোতার প্রতি সমর্থন জানালেও তারা ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অন্য ইস্যুতে নেতিবাচক অবস্থান নিয়েছে। যেমন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ইউরোপীয় পরিষদ গত ১২ এপ্রিল তেহরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা নবায়ন করেছে। এটা ইরানের বিরুদ্ধে ইউরোপের অবন্ধুসূলভ আচরণের প্রমাণ।

যাইহোক, ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে পরমাণু সমঝোতায় কোনো রকম সংস্কার কিংবা এ সংক্রান্ত আলোচনা তারা মেনে নেবে না।

You Might Also Like