সরকারকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে আন্দোলন কারীরা

কোটা পদ্ধতি সংস্কারের আন্দোলন আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত স্থগিতের সিদ্ধান্ত মানছেন না আন্দোলনকারীদের একটি অংশ।
বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বৈঠকে আন্দোলন স্থগিতের এ সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকের পর পরিষদের সদস্যরা ৭ মে পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত জানালেও অন্য অংশটি সেই সিদ্ধান্ত বর্জন করে সরকারকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে।

তারা মঙ্গলবার বেলা ১১টায় আবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে সোমবার রাত ১০টার পর ক্যাম্পাস ছেড়ে যায়।

এর আগে বৈঠকে অংশ নেওয়া পরিষদের প্রতিনিধি দল সচিবালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাজু ভাস্কর্যের সামনে আসেন। এ সৃময় সেখানে সাধারণ আন্দোলনকারীরা জড়ো হন। পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানানোর পর ‘ভুয়া, মানি না, মানব না’ স্লোগান দিতে থাকেন আন্দোলনকারীদের একাংশ। তখন পরিষদের আহ্বায়ক বলেন, ‘আপনারা যদি আমাদের সিদ্ধান্ত না মানেন, তাহলে আমরা কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে সরে যাব। এক মাসে প্রধানমন্ত্রী দুই বার দেশের বাইরে থাকবেন, ক্যাবিনেট মিটিংয়ে আলোচনাটা দেরি হবে বিধায় এক মাস পেছানো হচ্ছে। এক মাসের মধ্যে কার্যকরী সিদ্ধান্ত না হলে প্রয়োজনে আগামী ৭ মে থেকে ফের আন্দোলন।’

এ সময় আন্দোলনকারীদের ওই অংশ বলে যে, আগামী মাসে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা ও রোজা। এই পরিকল্পনা করে মুলো ঝুলিয়েছে সরকার। আমরা এ সিদ্ধান্ত মানি না। অন্তত কোটা সংস্কারের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। আন্দোলনকারীরা ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলে ফের উত্তেজনা তৈরি হয়।এরপর সাধারণ আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে এক শিক্ষার্থী নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে আজকের মতো আন্দোলন স্থগিত করেন। বিপাশা চৌধুরী নামের ওই শিক্ষার্থী রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনের যে কমিটি ছিল। তারা আমাদের সঙ্গে পরামর্শ না করেই আন্দোলন স্থগিত করেছেন। আমরা এই সিদ্ধান্ত মানি না। আন্দোলন চলবে। আমি অনুরোধ করবো পাবলিক এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করতে।

তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দিচ্ছি। এর মধ্যে কোটা সংস্কার নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত না এলে ১৬ এপ্রিল ‘চল চল ঢাকা চল’ কর্মসূচিতে সারাদেশের শিক্ষার্থীরা ঢাকায় এসে সংস্কারের পক্ষে আন্দোলনে করবে।”
এরপর বিপাশা বলেন, আমরা নিরাপদ বোধ করছি না। বহিরাগত সন্ত্রাসীরা ক্যাম্পাসে চলে এসেছে এবং আমাদের ওপর তারা হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করছি। তাই আজ রাতে আমরা চলে যেতে বাধ্য হচ্ছি। কর্মসূচি আজকের মতো শেষ। আগামীকাল সকাল ১১টায় ফের রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু হবে লাগাতার ধর্মঘট ও ক্লাস বর্জন কর্মসূচি।

You Might Also Like