ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পুলিশ মোতায়েন

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক যানজট ও চাঁদাবাজিমুক্ত করে ঈদে ঘরে ফেরা মানুষকে স্বস্তি দিতে পুলিশের বিশেষ টহল শুরু হয়েছে। রবিবার শুরু হওয়া এই টহল চলবে ঈদের এক সপ্তাহ পরেও। চট্টগ্রাম জেলা ও হাইওয়ে পুলিশ যৌথভাবে মহানগরী থেকে ফেনীর মুহুরী ব্রিজ পর্যন্ত এলাকায় দায়িত্ব পালন করবে।

চট্টগ্রাম জেলা ট্রাফিক ইনস্পেক্টর মীর গোলাম ফারুক ভূঁইয়া জানান, মহাসড়ক যানজটমুক্ত রাখা ও দুর্ঘটনা কমানোর মাধ্যমে ঈদ যাত্রীদের নিরাপদে ঘরে ফেরা নিশ্চিত করতে প্রতিবছরের মত এবারো জেলা ও হাইওয়ে পুলিশ যৌথভাবে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে।

রবিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে ৩২৮ জন পুলিশ সদস্য অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে ২০ জন মহিলা পুলিশও রয়েছেন। চারটি সেক্টরের অধীনে ছয়টি সাব সেক্টরে ভাগ হয়ে এসব পুলিশ সদস্য চট্টগ্রামের সিটি গেট এলাকা থেকে ফেনী সীমান্তের মুহুরী ব্রিজ এলাকা পর্যন্ত সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন।

দুইজন এডিশনাল এসপি ও চারজন এএসপি তাদের নির্দেশনা প্রদান করে সড়ক যানজটমুক্ত করতে নিয়োজিত রাখবেন। আর পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করছেন চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তার।

এ দিকে গতকাল মঙ্গলবার বিশেষ অভিযানের তৃতীয় দিনে সরেজমিনে মহাসড়কে ঘুরে দেখা গেছে, হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা পুলিশ সদস্যরা একযোগে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান করে দায়িত্ব পালন করছে।

পুরুষ পুলিশ সদস্যরা যানজট নিরসন ও টহলের মাধ্যমে সড়ক ইতিমধ্যেই আগের চেয়ে যানজটমুক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। তারা কোন যানবাহনকে অধিক সময় সড়কের পাশে দাঁড়াতে দিচ্ছেন না।

আর সড়ক দখল করে দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনগুলোকে তারা সড়ক ছাড়তে বাধ্য করছেন। এতে আগের চেয়ে ভালোভাবে চলাচল করছে যানবাহন।

এছাড়া উপজেলার প্রায় সবকটি গুরুত্বপূর্ণ বাজারে অবস্থান করে মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসাধারণকে সচেতন করার চেষ্টা করেছেন মহিলা পুলিশ সদস্যরা।

তারা মাইকিং করে অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন না চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং না করা, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা না বলা, মহাসড়কে ধৈর্যের সঙ্গে চলাফেরা করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে দুর্ঘটনা থেকে নিজে বাঁচা এবং অন্যকে বাঁচানোর আহ্বান জানান।
মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মেহেদী হাসান বলেন, আগে মহাসড়কের অবস্থা বেহাল ছিল। কিন্তু এখন সংস্কারের মাধ্যমে সড়কের অবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। এখন সড়কের পাশে অবৈধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা সব যানবাহনগুলোকে সরিয়ে দিতে পারলে আর কোনো সমস্যা থাকবে না।

তিনি বলেন, ঈদে মহাসড়ক যানজটমুক্ত রাখতে আমরা সব চেষ্টাই অব্যাহত রেখেছি। বিশেষ টহল শুরু হয়েছে। তিনি আশা করছেন ঈদে মানুষ কোনরকম ঝামেলা ছাড়াই সড়কের এই অংশ অতিক্রম করতে পারবেন, একইভাবে ঈদের পরে কর্মস্থলে ফিরতেও কোনো বিড়ম্বনা হবে না।

You Might Also Like