সিরিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইরান ও রাশিয়াকে সহযোগিতা করবেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান

তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রজব তাইয়্যেব এরদোগান আঙ্কারায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, সিরিয়ায় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় তার দেশ ইরান ও রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা করবে।

সংবাদ সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও বলেছেন, “পাশ্চাত্যের সঙ্গে মস্কোর রাজনৈতিক উত্তেজনা তুরস্কের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারবে না।” তিনি বলেছেন, তুরস্কে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিক্রির চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়টি মস্কো ও আঙ্কারার সামরিক সহযোগিতায় অগ্রাধিকার পাবে।” ইরানের উদ্যোগে ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানায় বৈঠকের পর সিরিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যে সহযোগিতা শুরু হয়।

সিরিয়া সমস্যা সমাধানে আস্তানা বৈঠকের ফলাফল পর্যালোচনার জন্য ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কের প্রেসিডেন্টদের মধ্যকার ত্রিপক্ষীয় দ্বিতীয় বৈঠক গতকাল আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত হয়। তুরস্ক পাশ্চাত্য বিশেষ করে আমেরিকা ও কয়েকটি আরব দেশের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত এবং ইরান ও রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা গড়ে তোলার আগে আঙ্কারা সিরিয়ার বৈধ প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে উৎখাতের জন্য উঠেপড়ে লেগেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সে ইচ্ছা পূরণ হয়নি। বলা যায়, সিরিয়ার ব্যাপারে ইরান ও রাশিয়ার শক্ত অবস্থানের কারণে তুরস্কও তার অবস্থান পাল্টাতে বাধ্য হয়েছে এবং ইরান ও রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা গড়ে তুলেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তুরস্ক সরকার সিরিয়া ইস্যুতে পাশ্চাত্য এবং আরব মিত্রদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করছে।

রাশিয়ার সায়েন্স একাডেমির মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ইয়েলিনা দোনিয়েভা বলেছেন, “দুঃখজনকভাবে আমেরিকা, ব্রিটেন ও তাদের আরব মিত্ররা ‘ফ্রেন্ডস অব সিরিয়া’ গ্রুপ তৈরি করে সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে। বিশেষ করে তারা উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন দিয়ে নিজেদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে।” রাশিয়ার এ বিশেষজ্ঞ আরো বলেছেন, আস্তানা শান্তি আলোচনার সমর্থক ইরান, রাশিয়া ও তুরস্ক সিরিয়া সংকট সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে এবং দেশটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এই তিন দেশের ভূমিকা অনস্বীকার্য।”

এ কারণে  আন্তর্জাতিক সংবাদ ও রাজনৈতিক মহল আঙ্কারায় ইরান, তুরস্ক ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্টদের সম্মেলনের ফলাফলের দিকে চেয়ে আছে। কারণ এই ত্রিদেশীয় শীর্ষ সম্মেলন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় বিরাট অবদান রাখতে পারে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরান, তুরস্ক ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্টদের মধ্যকার বৈঠক শুধু যে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠাকে তরান্বিত করবে তাই নয় একই সঙ্গে এ অঞ্চলের জাতিগুলোর মধ্যে ঐক্য, সংহতি ও বন্ধুত্বের পরিবেশ সৃষ্টি করবে।

You Might Also Like