নৃশংসতা আইন ‘দুর্বলের’ প্রতিবাদে উত্তাল ভারত, নিহত ৪

নৃশংসতা প্রতিরোধ (এসসি/এসটি) আইন, ১৯৮৯ সংশোধন করে ‘দুর্বল’ করার প্রতিবাদে ভারতজুড়ে ‘বনধ’ পালন করছে দেশটির কয়েকটি দলিত সংগঠন। তবে বনধ পালনকালে পাঁচটি রাজ্যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে মধ্য প্রদেশে সহিংসতায় এ পর্যন্ত কমপক্ষে চারজন নিহত হয়েছেন।

গত ২০ মার্চ ভারতের সুপ্রিম কোর্ট দ্য শিডিউলড কাস্টস (এসসি) ও দ্য শিডিউলড ট্রাইবস (এসটি) নৃশংসতা প্রতিরোধ আইন, ১৯৮৯ এর অধীন স্বয়ংক্রিয় গ্রেপ্তার ও অপরাধমূলক কেস দায়ের নিষিদ্ধ করে রায় দেন। এর প্রতিবাদে এই বনধের ডাক দেয় দলিত সংগঠনগুলো। এই আইন প্রান্তিক সম্প্রদায়গুলোর জন্য ছিল অপব্যবহার ও বৈষম্য থেকে রক্ষাকবচ।

ওই রায়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এ কে গোয়েল ও ইউ ইউ ললিত আদেশ দেন যে, পূর্বানুমতি ছাড়া দ্য শিডিউলড কাস্টস (এসসি) ও দ্য শিডিউলড ট্রাইবস (এসটি) নৃশংসতা প্রতিরোধ আইন, ১৯৮৯ এর অধীন কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। এ ছাড়া, আদালত যদি মনে করেন যে, আইনের অপব্যবহার হয়েছে, মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিংবা কাউকে ব্যাকমেইল বা হয়রানি করার জন্য মামলা দায়ের করা হয়েছে তবে আসামিকে আগাম জামানত দিতে পারবেন আদালত।

আদালতের এমন রায়ের পর আজ ভারতজুড়ে বনধের ডাক দেয় দলিত সম্প্রদায়ের কয়েকটি সংগঠন। এই বনধ পালন মধ্য প্রদেশসহ কয়েকটি রাজ্যে সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়র, বিন্ধ, মরেনা, সাগর ও বালাঘাটে পুলিশের সঙ্গে প্রতিবাদকারীদের সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে নিহত হয়েছে কমপক্ষ চারজন। পাঞ্জাব সরকার সহিংসতা এড়াতে বাস সার্ভিস ও ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে।

এদিকে, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টের এমন রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

You Might Also Like