দুই মহাসচিবের একই সুর : খালেদাকে দেশান্তরের ষড়যন্ত্র!

সুচিকিৎসার অজুহাতে কৌশলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর একটি সুক্ষ্ণ ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে- এমন একটি আশঙ্কা গণতন্ত্র আদায়ে আন্দোলনরত জনমনে দেখা দিয়েছে। বেগম জিয়া অসুস্থ বোধ করায় ঐদিন আদালতে হাজির করেনি বলে সরকার পক্ষ। এ নিয়ে কোর্টে বিএনপির আইনজীবিরা ম্যাডামের শারীরিক অবস্থার ব্যাখ্যা দাবী করেন এবং বিএনপি’র মহাসচিব প্রেসকনফারেন্স করেন শুক্রবার সকালে।

এদিকে মহাসচিবের বক্তৃতা শেষ না হতেই প্রায় একই সময়ে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয়ে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের “চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনে বিদেশে পাঠানোর” কথা প্রকাশ করেন। এতে করে অনেকের মধ্যে আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে তবে কি বেগম জিয়াকে ‘বিদেশে চিকিৎসা’র বাহানায় ‘রাজনীতি থেকে অবসর’ দেয়ার ষড়যন্ত্র এটি?

‘যদি খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার দরকার হয়, সরকার অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে। চিকিৎসকরা যদি বলেন যে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দেশে সম্ভব নয়, সেক্ষেত্রে তাকে বিদেশও পাঠানো যেতে পারে।’

একই সুরে খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের একজন সদস্য ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান জানিয়েছেন, ‘কারাবিধি অনুযায়ী বিদেশ পাঠানোর সুযোগ রয়েছে।’ এ ক্ষেত্রে খালেদা জিয়া ও তার স্বজনদের মতামতের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ এই তিনটি বক্তব্য একই সূতোয় গাঁথা কিনা ভাবছেন।

আরো বিস্ময়ের সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ আগ্রহকে বিশ্লেষকগণ দেখছেন। খবরে প্রকাশ- শুক্রবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর একজন ব্যক্তিগত স্টাফ কারা মহাপরিদর্শক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিনকে টেলিফোন করে বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা জানতে চান। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কারা কর্তৃপক্ষ বলেছে, বেগম জিয়ার জ্বর হয়েছে এবং জ্বর জনিত গায়ে ব্যাথা হয়েছে। এটা গুরুতর কিছু নয়।

কারাগারের চিকিৎসকরা সার্বক্ষনিকভাবে তাঁকে সেবা দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর ঐ ব্যক্তিগত স্টাফ শেখ হাসিনার বরাত দিয়ে বলেন,‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কারাগারে বেগম জিয়ার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।’

কারা মহাপরিদর্শক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঐ কর্মকর্তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, উপযুক্ত চিকিৎসকরাই তাঁকে দেখাশোনা করছে এবং তাঁকে সর্বোচ্চ সেবা দেয়া হচ্ছে। সবমিলিয়ে সংবাদ বিশ্লেষকগণ ভিন্ন গন্ধ পাচ্ছেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকগণ মনে করছেন বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার দাবীটির পেছনে খালেদা জিয়াকে অনুপস্থিত রেখে সরকারী দলের নির্বাচনী বৈতরণী পার হবার পথ সুগম করার একটি কৌশলও থাকতে পারে।

গণতন্ত্রকামী দেশপ্রেমিক জনগণ মনে করেন যেকোন ষড়যন্ত্রের মোকাবিলায় গণতন্ত্রের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিচক্ষণ ও দৃঢ় আছেন, থাকবেন। কারাবন্দী হবার আগেই তিনি ‘অনেক ষড়যন্ত্র হবে’ এই সাবধানবাণী দিয়ে গেছেন।

কারাগারে যাওয়ার আগে সংবাদ সম্মেলন তিনি বলেছিলেন, ‘আমাকে আপনাদের থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেস্টা হলেও বিশ্বাস করবেন, আমি আপনাদের সঙ্গেই আছি। আপনারা ঐক্যবদ্ধভাবে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।’

প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার বক্তব্যে খালেদা জিয়া বলেছিলেন যে, আগামীতে অনেক ফাঁদ পাতা হবে, অনেক ষড়যন্ত্র হবে, ‘সবাই সাবধান ও সতর্ক থাকবেন। বুঝে শুনে কাজ করবেন। এ দেশ সকলের, কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়’।

You Might Also Like