‘বিএনপিকে অনুমতি দিলেও দোষ, না দিলেও দোষ’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপিকে কর্মসূচির অনুমতি দিলেও দোষ, না দিলেও দোষ। তাদেরকে কর্মসূচির অনুমতি না দিলে তারা বলে, সরকার গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে স্বৈরতান্ত্রিক কায়দায় দেশ চালাচ্ছে। আবার অনুমতি দিলে বলে, সরকার বাধ্য হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রবলেমটা তো এখানেই। সরকার এখন কোন দিকে যাবে।’ বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দুঃখ করে এসব কথা বলেন।

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘সরকার যদি স্বৈরতান্ত্রিকভাবে দেশ চালাত, সরকারের যদি আন্তরিকতা না থাকত, তাহলে বিএনপি ২৭ মার্চ জনগণকে কষ্ট দিয়ে প্রকাশ্যে রাস্তায় স্বাধীনতা র্যা লি করল কীভাবে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তারা তাদের মত করেই শোভাযাত্রা করলো। এরপরও কি তারা এই কথা বলবে যে, সরকার বাধ্য হয়েছে? তাদের অনুমতি দিলেও দোষ, না দিলেও দোষ। তারা মিথ্যার রাজনীতি করে। এটাই বিএনপির ন্যাচার। এভাবেই তারা কথা বলছে।’

‘তারা (বিএনপি) বাংলাদেশে কী এমন মহাপ্লাবন ঘটিয়েছে যে, সরকার বাধ্য হবে! সেই সামর্থ্য-সক্ষমতা কি বিএনপি গত ৯ বছরে ৯ মিনিটের জন্যও দেখাতে পেরেছে! সামনে তো প্রশ্নই আসে না,’ বলেন আওয়ামী লীগের এই নেতা।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পুরনো কথা বলতে গেলে তাদের লজ্জা পাওয়া উচিত কিন্তু লজ্জা তারা পাবে না। কারণ, তারা লজ্জা পাওয়ার দল না। তারা যখন ক্ষমতায় ছিল আমরা তখন বিরোধী দল। আমরা বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে কর্মসুচি দিয়েছিলাম। সেই কর্মসুচি পালনের অনুমতি আমাদেরকে দেওয়া হয়নি। অফিসের ভেতরে কর্মসূচি করতে চেয়েছিলাম, সভা করতে দেওয়া হয়নি। তারা নিজেরা যখন ক্ষমতায় ছিল এসব সুযোগ-সুবিধা কাউকে দেয়নি। গণতান্ত্রিক সব অধিকার তারা হরণ করেছে। তারপরও আমরা তাদের কর্মসূচি করতে দিচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘জনদুর্ভোগ বিবেচনা করে আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা দিবসের র্যা লি করেনি কিন্তু সেখানে জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা না করে তারা (বিএনপি) অফিস খোলার দিন র্যা লি করেছে। অনুমতি না দিলে তারা এই কর্মসূচি করল কি করে? তারা জবাব দিক, বলুক। তারপরও কি বলবে সরকার বাধ্য হয়েছে অনুমতি দিতে!’

বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘রাজনীতিতে তাদের সাংগঠনিক ক্ষমতা, জনপ্রিয়তার প্রমাণ হয়েছে। তাদের নেত্রী যখন দণ্ডিত হলো তারা মনে করছিল, মানুষ রাস্তায় নেমে আসবে। দণ্ডিত নেত্রীর জন্য উত্তাল তরঙ্গ, জনস্রোত তো দূরের কথা, ঢেউও দেখলাম না। তারা এখন শুধু ঘরে বসে বিবৃতি দিয়ে দল চালায়।’

বিএনপি মিথ্যাচার করছে অভিযোগ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তাদের আন্দোলনের কোন সামর্থ নেই। রাজনীতিতে তাদের কোনো শক্তি নেই। কিন্তু তারা সরকারের উপর দোষারোপ করে। তারা বলে, সরকার নাকি বিএনপিকে নির্বাচন থেকে সরানোর চেষ্টা করছে। রাজনীতি ও নির্বাচন করা তাদের অধিকার। সরকার কেন তাদের সরাবে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির কোনো অর্জন নেই, গর্জন ছাড়া। তারা দেশের জন্য কী এমন করেছে যে ভোট পাবে। তাই তারা আন্দোলনের হাঁকডাক দিচ্ছে। মানুষ এখন ইলেকশনের মুডে, কেউ আর আন্দোলনের মুডে নেই। উন্নয়ন ও অর্জনে মানুষ খুশি। বিএনপির কোনো অর্জনের ইতিহাস নেই। এখন লিভ সর্ভিস দিয়ে কি ভোট পাওয়া যাবে। ভোট পেতে হবে কাজ দিয়ে।’

বিএনপির কাছে জবাব চাই : বিএনপি কেন তার গঠনতন্ত্রের ৭ ধারা বাদ দিয়ে দিল- একাধিকবার এই প্রশ্ন করেও জবাব পাননি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘একাধিকবার তাদের কাছে জানতে চেয়েছি। দলের গঠনতন্ত্র থেকে তারা কেন ৭ ধারা বাদ দিয়েছে। এই প্রশ্নের জবাব ফখরুল সাহেব বা অন্য কোনো নেতার কাছে আমি আজও পাইনি। কেন ৭ ধারা বাদ দিলেন- সেই প্রশ্নই আমি আবার করছি। বিএনপির কাছে এর জবাব চাই।’

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘বিএনপির গঠতন্ত্রের ৭ ধারা মতে দণ্ডপ্রাপ্ত কেউ দলটির সভাপতি পদে থাকতে পারবেন না এমনকি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। কিন্তু বিএনপি খালেদা জিয়ার অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার তারিখ ঘোষণার পর পরই রাতের বেলা এক কলমের খোঁচায় তাদের গঠনতন্ত্র থেকে ৭ ধারা বাদ দিয়ে দিল। কেন বাদ দিল এই ধারা?’

‘তার মানে কি ? এখন দুর্নীতিবাজ ও কুখ্যাত কারো বিএনপির সভাপতি বা অন্য কোনো পদে থাকতে বাধা নেই! নৈতিকতার বিষয়টি তারা বড় করে দেখছেন না?’ তাহলে বিএনপি মেনেই নিয়েছে তারা আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজ দল, আত্মস্বীকৃত দণ্ডিত দল,’ বলেন ওবায়দুল কাদের।

২৯ তারিখে বিএনপির সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে কিনা- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার কোন দিকে যাবে তা পুলিশ কমিশনারকে জিজ্ঞাসা করুন। এখানে নিরাপত্তার বিষয় আছে। সরকারের আন্তরিকতার অভাব থাকলে তারা কীভাবে শোভাযাত্রা করল? সেই প্রশ্নটার জবাব দিক তারা।’

You Might Also Like