পাহাড়সম ঋণের বোঝা আগামী সরকার জনগণের মাথায়!

উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উত্তীর্ণ হওয়ার প্রাথমিক যোগ্যতা অর্জনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও সম্ভাবনার ধারা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে- এই উত্তাপে সরকার ও সরকারী দলে উল্লম্ফন! এই অবস্থাটাকে দেশের জন্য বিরাট অর্জন হিসেবে ঘটা করে শতমুখে প্রচার ও উৎসব উৎযাপন পালন করছে। কিন্তু অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা দেখছেন ভিন্নভাবে। তারা মনে করছেন উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উত্তীর্ণ হওয়ার প্রাথমিক যোগ্যতা অর্জনের মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ আরো বড় হয়ে দেখা দেবে বাংলাদেশের সামনে আগামী দিনগুলোতে। এর কারণ হচ্ছে, এতদিন এলডিসি বা দরিদ্র দেশ হিসেবে আমদানী-রফতানী বাণিজ্যে যে সব সুযোগ সুবিধা পেয়ে আসছিল বাংলাদেশ উন্নয়নশীলের যোগ্যতা অর্জনের ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মত বাজারে তা বন্ধ হয়ে গেলে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের চ্যালেঞ্জ আরো কঠিন হয়ে পড়বে। এলডিসি থেকে ডেভেলপিং কান্ট্রিতে পরিণত হওয়ার নতুন বাস্তবতায় বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে স্থিতিশীলতা ও নতুন গতি নিশ্চিত করতে হবে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ, আভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থান, বৈদেশিক কর্মসংস্থান, বাণিজ্য ঘাটতি, রফতানী বহুমুখীকরণ ও নতুন নতুন বাজার সৃষ্টির পরিকল্পিত উদ্যোগ নিতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে এই মুহূর্তে দেশের চলমান রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সূচকগুলো ধরে রাখার বাধাগুলো দূর করাই গুরুত্ব পাওয়া উচিত ছিল। এ ক্ষেত্রে সরকারের ইমেজ সংকট এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সমুন্নত করাই মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা ছিল। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ এবং সব দলের সমান সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মানদন্ড বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে এর বিরূপ ফলাফল দেশের অর্থনীতির বিপর্যয় ঠেকানো হবে আগামী সরকারের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ।  দেশের জনগণ ও আগামী সরকারের মাথায় চাপছে পাহাড়সম ঋণের বোঝা!

এদিকে গত এক দশক ধরে দেশে বিনিয়োগ আশাব্যঞ্জক নয়। হাজার হাজার কোটি টাকার বিদেশী বিনিয়োগ প্রস্তাব নানা কারণে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তদোপরি জানা যায় অনেক বিনিয়োগ প্রস্তাব প্রত্যাহার করে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। পর্যবেক্ষকগণের বিশ্লেষণে পরিবর্তিত বিশ্ববাস্তবতায় বাংলাদেশের সামনে যে সব অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ধরা দিয়েছিল তা যদি যথাযথভাবে কাজে লাগানো যেত তাহলে এতদিনে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হওয়া বাংলাদেশের জন্য সম্ভব ছিল। বিশেষত: রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তাহীনতা, সামাজিক-রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার মত প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করার ক্ষেত্রে সরকার প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। অপরদিকে জননিরাপত্তা ও সন্ত্রাস জঙ্গিবাদের মত ইস্যুগুলোর রাজনীতিকরণ এবং অতিপ্রচারণা দেশে জনমনে এক ধরণের ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরী করেছে। সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের উপর পুলিশ দিয়ে নির্যাতন ও ত্রাস চালিয়ে  ফলে দেশে বরং বিনিয়োগ বিমুখ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে । বিনিয়োগের পরিবেশ না থাকায় প্রতিমাসে দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে গেছে। এই নির্বাচনের বছরে  পাচারের মাত্রা শতভাগ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নির্বাচনী রাজনৈতিক সমঝোতা ও বিনিয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ধরে রাখা সম্ভব।

পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টে জানা যায় চলতি অর্থবছরের ৭ মাসে দেশের অর্থনীতি গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তারল্য সংকটের সম্মুখীন। এছাড়া একদিকে রফতানী কমে যাওয়ায় বৈদেশিক রেমিটেন্স কমে গেছে, অপরদিকে আমদানী বেড়ে গেছে। এমতাবস্থায় দেশের ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে বড় ধরণের তারল্য সংকট দেখা যাচ্ছে। গত অর্থবছরের এ সময়ে যেখানে অর্থের ঘাটতি ছিল ৮৯০মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা, সেখানে চলতি অর্থবছরের প্রথম সাতমাসে এই ঘাটতি ৫.৩৪বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকা। দেশের অর্থনীতির জন্য এ এক অশনি সংকেত। অতীতেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারি ফাঁকি দিয়েই ভূয়া ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে দেশ থেকে লক্ষকোটি টাকা পাচার হয়েছে। চলতি বছরের এ সময়ে অস্বাভাবিক বাণিজ্য ঘাটতি এবং তারল্য সংকটের পেছনে অন্যান্য বিষয়গুলোর পাশাপাশি ব্যাপক হারে টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। কিন্তু সেই শর্ষেও ভূত! অথচ দেশের ভযাবহ সংকট ও প্রতিবন্ধকতার সমূহ আগ্নেয়াপাতের মুখে জনগণকে দাঁড় করিয়ে ‘প্রাথমিক মর্যাদা অর্জন’র ছাই চাপায় কি রক্ষা পাওয়া যাবে?

-প্রশ্ন সংশ্লিষ্ট দেশহিতৈশি প্রবাসী বিশিষ্টজনদের। তারা জানতে চান এর পরও কি করে উন্নয়নশীল দেশে উত্তীর্ণ হওয়ার আশা জাগানিয়া গান! অথচ আসল ‘অর্জন কপালে শৈরশাষকের কলঙ্কতিলক!’ সূত্র: বিদেশি তদন্ত রিপোর্ট

You Might Also Like