বেগম খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে দুর্নীতি দমন কমিশনের আপিল

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে আপিল দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আজ (রোববার) দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন দায়ের করেন। আগামী মঙ্গলবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে আপিল আবেদনটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে।

এ মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিচারিক আদালাত খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন এবং বিশেষ জজ আদালতের ওই রায়ের পর থেকে কারাগারে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বলেন, খালেদা জিয়া ওই মামলায় মূল অপরাধী। কিন্তু অন্য আসামিদের তুলনায় তার কম সাজা হওয়ায় দুদক সাজা বাড়াতে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এদিকে, আজ বিকেলে কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে গেছেন তাঁর ছয় আইনজীবী।

এই ছয় আইনজীবী হলেন জমির উদ্দিন সরকার, আবদুর রেজাক খান, খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি জয়নুল আবেদীন, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাসহ বাকি মামলাগুলোর সর্বশেষ অবস্থা এবং পরবর্তী করণীয় নিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলাপ করবেন আইনজীবীরা।

আইনজীবি দলের সদস্য এ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন রেডিও তেহরানকে বলেন, সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবি সমিতির নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের বিপুল জয়ে খুশী হয়েছেন বেগম জিয়া। তবে, হাইকোর্টের দেয়া তার জামিনকে সুপ্রীম কোর্ট স্থগিত করায় তিনি অসন্তুষ্ট হয়েছেন।

অপরদিকে, বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে তারা শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে ।

আজ সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির জন্য আওয়ামী লীগের জ্বালা বাড়ছে। আওয়ামী লীগ চেয়েছিল খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাগারে পাঠানোর পর বিএনপি রাজপথে আন্দোলনে নেমে জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করুক। আর সেই সুযোগে আওয়ামী লীগ তাদের নেতাকর্মীদেরকে প্রস্তুত রেখেছিল পেট্রোলবোমা ও লাঠিসোটা নিয়ে।

তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ বাংলাদেশকে এখনই উন্নয়নশীল দেশ বলে ঘোষণা দেয়নি। কিছু শর্ত আছে সেগুলো পালন করার পর আগামী ৬ বছর পরে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হতে পারে। কিন্তু সরকার এখন এ নিয়ে তথ্য প্রকাশ করে জনগণকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে।

You Might Also Like