খালেদা জিয়া প্রসঙ্গে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের বৈঠক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম জিয়ার কারাবাস, দলের নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন ও আগামী জাতীয় সংসদের নির্বাচন নিয়ে আজ বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা।

আজ (বুধবার) বিকেল সোয়া ৪টায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠক শেষ হয় বিকেল ৫টার পর।

বৈঠকে বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মঈন খান, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান, সাবিহউদ্দিন আহমেদ, ইসমাইল হোসেন জবিউল্লাহ, নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল, রুমিন ফারহানা প্রমুখ।

বৈঠকে সুইজারল্যান্ড, স্পেন, সৌদি আরব ও সুইডেনের রাষ্ট্রদূত, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সচিব, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক, জাপান ও নেদারল্যান্ডের ডেপুটি রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, জিয়া অরফানেজ মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাড়া বাড়ানোর জন্য রোববার আপিল করবে দুদক। হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন দুদক কৌঁসুলি খুরশিদ আলম খান।

দুদক রাতকানা বাদুড়ের মতো-রিজভী
তবে দুদক প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক শেখ হাসিনার একটি নিজস্ব প্রতিষ্ঠান। দুদককে রাতকানা বাদুড়ের মতো বলে মন্তব্য করেন তিনি। একে দায়িত্বই দেওয়া হয়েছে বিএনপির নেত্রী এবং নেতাদের বিরুদ্ধে খড়গ চালিয়ে যাওয়ার জন্য।

বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব আজ (বুধবার) এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন, সরকার খালেদা জিয়ার ওপর চাপ প্রয়োগ করে ‘মুক্তিপণ আদায় করতে’ তাকে পরিত্যক্ত কারাগারে আটক রেখেছে।

সরকার খালেদা জিয়ার জামিনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করছে বলে অভিযোগ করে রিজভী তার ভাষায় বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রাখা, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে মিথ্যা সাজানো মামলায় দণ্ড দেওয়া এ সব আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই হচ্ছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ‘একতরফা করতে’ বিএনপি নেত্রীকে নির্বাচনের বাইরে রাখার জন্যই সরকার তার ওপর চাপ প্রয়োগ করে উদ্দেশ্য বাস্তাবায়ন করতে চাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন রুহুল কবির রিজভী।

রিজভি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার ওপর কোনো চাপ প্রয়োগ করে লাভ হবে না। আগামী নির্বাচনে দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই বিএনপি অংশগ্রহণ করবে।

‘উচ্চ আদালত জামিন দিলেও খালেদা জিয়া কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন না’ বলে আইনমন্ত্রী দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপি এই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘নকলের ছাঁচে ঢালাই করা আইনি প্রক্রিয়ায় সাজা দিয়ে এখন খালেদা জিয়া যাতে জামিনে বের হতে না পারেন, সেজন্য আদালতকে শুধু প্রভাবিতই নয়, সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ করছে।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা রাজনৈতিক, নিম্ন আদালতের দেওয়া সাজা রাজনৈতিক ও জামিন স্থগিতের আদেশও রাজনৈতিক। সারা দেশের জনগণ এটি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে। বিএনপি চেয়ারপারসনের জনপ্রিয়তাই শেখ হাসনার প্রতিহিংসার কারণ, অন্য কিছুই নয়।’

রিজভী দাবি করেন, ‘এই মুহুর্তে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে বিএনপি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব খাইরুল কবির খোকন, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ শামসুল আলম তোফা, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশে নির্বিঘ্ন নির্বাচন দেখতে চায় চীন

বাংলাদেশে নির্বিঘ্ন নির্বাচন দেখতে চায় চীন। বাংলাদেশি জনগণের পছন্দের প্রতিফলনকেও স্বাগত জানাবে তারা।

বুধবার (২১ মার্চ) নতুন চীনা রাষ্ট্রদূত ঝ্যাং ঝু ঢাকায় তার দূতাবাসে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা আশা করি, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার কৌশলগত সম্পর্ক সামনের দিনগুলোতে আরও এগিয়ে যাবে।’

রোহিঙ্গা বিষয়ে চীনের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাষ্ট্রদূত ঝ্যাং ঝু বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয়েরই বন্ধু এবং এখানে আমরা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবো।’

আগের অবস্থান পুনরায় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার জন্য আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা করছি।’

You Might Also Like