জামিন স্থগিতাদেশ নিয়ে প্রধান বিচারপতি খালেদা জিয়ার আইনজীবির মধ্যে যেভাবে বাহাস হয়

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার হাইকোর্টের দেওয়া চার মাসের জামিন আদেশ স্থগিতের বিষয়ে আপিল বিভাগের সব বিচারপতি একমত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।

সোমবার সকালে এ জামিনের স্থগিতাদেশ দেওয়ার সময় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘এটি আমাদের সবার ডিসিশন।

হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) গ্রহণ করেন আদালত। এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা (আপিল বিভাগের চার বিচারপতি) সর্বসম্মতিক্রমে এ আদেশ দিচ্ছি। লিভ, স্টে, ফোর উইকস, অ্যাপিলেন্ট কনসাইজ স্টেটমেন্ট দেবে। নেক্সটস উইক কনসাইজ স্টেটমেন্ট। নেক্সটস হেয়ারিং ২২ মে।’

এ আদেশের পর আপিল বিভাগ তার নিয়মিত কার্যক্রম অনুসারে অন্য মামলার শুনানি শুরু করেন। কিছু পরে খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন আদালতকে বলেন, ‘মাই লর্ড, আমি দুঃখিত। আপনি কী আদেশ দিয়েছেন, সেটা বুঝতে পারিনি।’ তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা সর্বসম্মত হয়ে এ আদেশ দিয়েছি।’

জয়নুল আবেদীন ফের বলেন, “আমি ‘সর্বসম্মত’ এটা জানতে চাইনি। কোন যুক্তিতে লিভ (লিভ টু আপিল) গ্রহণ করেছেন, সেটা জানতে চাই?”

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা নথি পর্যালোচনা করেছি।’

তখন জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আমরা তো মেরিটে (মামলার মূল বিষয়বস্তুতে শুনানি করিনি) বলিনি।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আপিলে বলতে পারবেন।’

এরপর জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আপনারা সর্বোচ্চ আদালত। আপনারা যে আদেশ দেবেন শিরোধার্য। তবে ২২ মে অনেক দূর। আজকে যেভাবে লিভ (লিভ টু আপিল) গ্রহণ করলেন, এটা নজিরবিহীন। অতীতে এ জাতীয় ক্ষেত্রে কোনোদিন লিভ (লিভ টু আপিল) গ্রহণ করা হয়নি। তাহলে তো সবই (অতীতের সব মামলায়) লিভ (লিভ টু আপিল) গ্রহণ করা উচিত ছিল।’

তখন প্রধান বিচারপতি বেঞ্চ অফিসারকে ডেকে চার সপ্তাহের জায়গায় দুই সপ্তাহ করে দিতে নির্দেশ দেন।

এ পর্যায়ে জয়নুল আবেদীন আদালতকে বলেন, ‘ঠিক আছে, আপনি দুই সপ্তাহ করলেন। ২২ মে তারিখের ওই সময়টা এগিয়ে আনার অনুরোধ করছি।’

এ সময় ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন আদালতে বলেন, ‘সরকার যে উদ্দেশ্যে এটা করেছেৃ। দুদক আর সরকার তো একাকার হয়ে গেছে। খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে চায়।’

এরপর জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘সময়টা কমিয়ে দেন। এপ্রিলে করে দেন।’

তখন বিচারপতি ইমান আলী বলেন, ‘তখন তো ভ্যাকেশন (সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটি)।’

ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন বলেন, ‘ভ্যাকেশনের আগে দেন।’

বিচারপতি ইমান আলী বলেন, ‘আফটার ভ্যাকেশন।’

জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আফটার ভ্যাকেশন হলে দিন নির্ধারণ না করলে তো একই থাকল?’

তখন প্রধান বিচারপতি ৮ মে পর্যন্ত খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত থাকার পাশাপাশি ওই দিন আপিল শুনানির দিন নির্ধারণ করেন। এ ছাড়া ওই দিন কার্যতালিকায় জামিন স্থগিতের বিষয়ে শুনানি অগ্রাধিকারে থাকবে।

রায়ের পর খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এ রায়ে তাঁরা সন্তুষ্ট হতে পারেননি। এটি নজিরবিহীন রায়। রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে এর সমাধান করতে হবে।

You Might Also Like