‘বাংলাদেশি গ্রুপকে’ নিষেধাজ্ঞার মানে আইএসের উপস্থিতি নয় : বার্নিকাট

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেছেন, ‘আইএসআইএস-বাংলাদেশ’কে ওয়াশিংটনের বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করার অর্থ এই গোষ্ঠীর এদেশে উপস্থিতি বোঝায় না।
বাংলাদেশ সময় বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এই আখ্যায়িত করার মাধ্যমে আইএসআইএস এখানে আছে তা বলা হচ্ছে না। বরং বোঝায় এসব গ্রুপের লোকজন আছে যারা নিজেদের সহিংস কর্মকাণ্ডকে আইএসআইএসের বলে ঘোষণা দেয়।”
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ মঙ্গলবার দুই ব্যক্তি ও সাতটি সংগঠনকে তাদের বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের তালিকায় যুক্ত করে তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এই সংগঠনগুলোর মধ্যে ‘আইএসআইএস-বাংলাদেশ’ নামেও একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী রয়েছে।
এই নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতার ব্যাখ্যায় বার্নিকাট বলেন, “অর্থ সংগ্রহ বা অন্য কোনো প্রয়োজন বা সহায়তার জন্য যদি তারা যুক্তরাষ্ট্রে যায় তাহলে আমাদের আইনি ব্যবস্থা অনেক সহজে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে।”
বাংলাদেশে আইএসের উপস্থিতি নেই বলে দাবি করে আসছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ২০১৬ সালে গুলশানের হলি আর্টিজান ক্যাফেতে জঙ্গি হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন পক্ষ থেকে আইএসের কথা বলা হলেও তা অস্বীকার করেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
বার্নিকাট বলেন, ‘খুব সুনির্দিষ্ট’ কারণে এগুলোকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
“আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, যারা সন্ত্রাসবাদে সহায়তা করছে বা মদদ দিচ্ছে সেই সব ব্যক্তিদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে নিজেদের আইনি ব্যবস্থা বা সরকারের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।”
আফ্রিকান-আমেরিকান ইতিহাস মাস উদযাপন উপলক্ষ্যে বুধবার মার্কিন দূতাবাস এবং ইএমকে সেন্টারের আয়োজনে প্যানেল আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট। ছবি: আব্দুল্লাহ আল মমীন আফ্রিকান-আমেরিকান ইতিহাস মাস উদযাপন উপলক্ষ্যে বুধবার মার্কিন দূতাবাস এবং ইএমকে সেন্টারের আয়োজনে প্যানেল আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট। ছবি: আব্দুল্লাহ আল মমীন যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিক অধিকার আন্দোলনের মাস উদযাপন উপলক্ষে অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট। আলোচনার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।
বার্নিকাট বলেন, বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনকে শনাক্ত করাটা তাদের প্রসিকিউটরদের জন্য সন্ত্রাসী তৎপরতায় অর্থ যোগান, অস্ত্র সরবরাহ বা উৎসাহদাতাদের বিচারের আওতায় আনার সুযোগ তৈরি করবে। তাদের কারাবন্দি, সম্পদ জব্দ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় তারা যাতে ঢুকতে না পারে সে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।
এতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে কি না জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত বলেন, সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ে বাংলাদেশ তাদের ‘অসাধারণ’ অংশীদার।
“এই সহযোগিতা ক্রমশ বাড়বে বলে আমি সম্পূর্ণ আশাবাদী।”
আলোচনায় বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন মার্শা বার্নিকাট।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণই তাদের সরকার ঠিক করবে।
“আমার বার্তা আগের মতোই, যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দের কোনো দল নেই। পছন্দের কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিও নেই যিনি নির্বাচিত হয়ে সরকারে নেতৃত্ব দেবেন।”
যুক্তরাষ্ট্র গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান দেখায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

You Might Also Like