‘আ. লীগ সরকার গঠন না করলে বাংলা রাষ্ট্র ভাষার মর্যাদা পেত না’

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বস্তরে বাংলা ভাষার চর্চার ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, ‘আমরা রক্ত দিয়ে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করেছি এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছি। এটি আমাদের জন্য বিরাট গৌরবের বিষয়। তাই এ ভাষার চর্চা ভুলে যাওয়া উচিত হবে না।’

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বুধবার বিকেলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের (আইএমএলআই) চারদিনের কর্মসূচি উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ইনস্টিটিউটের নিজস্ব মিলনায়তনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘বাঙালি হিসেবে আমরা আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অন্যান্য গৌরব সমুন্নত রাখব এবং এ ব্যাপারে জনগণকে সচেতন করব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর সব ভাষাভাষী মানুষের মাতৃভাষাকে সম্মান প্রদর্শন ও শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রতীক হিসেবে একুশে ফেব্রুয়ারি এখন সারাবিশ্বে, ইউনেস্কোর সদস্যভুক্ত রাষ্ট্রগুলোতে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়। পৃথিবীর সকল মাতৃভাষাভাষী এখন বাংলাদেশকে জানে, বাঙালির অবিস্মরণীয় আত্মত্যাগের কথা জানে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জাতিকে ধ্বংস করার চক্রান্তের অংশ হিসেবে পাকিস্তানি শাসকরা প্রথমেই আঘাত হানে বাঙালি সংস্কৃতি, ভাষা ও সাহিত্যের ওপর। কিন্তু এর ফলাফল হিসেবে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করি এবং বাঙালি জাতি একটি রাষ্ট্রের মর্যাদা লাভ করে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি বুকের রক্ত দিয়ে ভাষার মর্যাদা রক্ষা করেছিল বাঙালি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী প্রধানমন্ত্রী হন। সে বছর পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান রচিত হয়। এতে উর্দুর পাশাপাশি বাংলাও রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে মর্যাদা লাভ করে। আওয়ামী লীগ সরকার গঠন না করলে বাংলা রাষ্ট্র ভাষার মর্যাদা পেত না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘে প্রথম বাংলায় ভাষণ দিয়ে বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিয়ে যান। তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নিয়মিতভাবে বাংলায় ভাষণ দেয়া হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৯৬ সালে জনগণের বিপুল রায় নিয়ে ২১ বছর পর তাঁর দল আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে দেশের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য আবার প্রাণ ফিরে পায়।’

শেখ হাসিনা জানান, বিপন্ন ভাষাগুলোর মর্যাদা রক্ষায় তিনি ২০০১ সালের ১৫ মার্চ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ইনস্টিটিউটের কাজ শুরু করি। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে আবার নির্মাণ কাজ শুরু করে। ২০১০ সালে আমরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট আইন প্রণয়ন এবং ইনস্টিটিউটে একটি ভাষা জাদুঘর চালু করি।’

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী এবং ঢাকায় ইউনেস্কোর প্রধান প্রতিনিধি বি কালদুনও বক্তৃতা করেন।

অনুষ্ঠানে ‘লিঙ্গুইস্টিক ডাইভারসিটি এন্ড মাল্টিলিঙ্গুয়ালিজম কাউন্ট ফর সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন শ্রীলংকার ন্যাশনাল কো-এক্সিজটেন্স ডায়ালগ অ্যান্ড অফিসিয়াল ল্যাঙ্গুয়েজের সচিব ডব্লিউএমপিজি বিক্রমসিংগে।

You Might Also Like