‘ইসরাইল বিলুপ্ত হওয়ার মুখোমুখি হয়েছে’

ইরানের বিশিষ্ট আলেম ও তেহরানের জুমার নামাজের অস্থায়ী খতিব গাজায় ফিলিস্তিনি সংগ্রামীদের প্রবল প্রতিরোধের প্রশংসা করে বলেছেন: ইসরাইলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ ব্যর্থ হয়েছে এবং দখলদার এই গোষ্ঠী পুরোপুরি বিলুপ্ত হওয়ার মুখোমুখি হয়েছে।

হুজ্জাতুল ইসলাম কাজেম সিদ্দিকি আজ তেহরানের জুমা নামাজের খোতবায় ফিলিস্তিনে ইসরাইলি নৃশংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন: ইসরাইল প্রথম থেকেই ছিল এক হিংস্র নেকড়ে যাকে এ অঞ্চলের জাতিগুলোর ওপর লেলিয়ে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক লুটেরা শক্তিগুলোই ইসরাইলকে সৃষ্টি করেছে এবং তারাই ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করে ইসরাইলকে অপরাধযজ্ঞ চালানোর সবুজ সংকেত দিচ্ছে।

কাজেম সিদ্দিকি গাজার মজলুম বেসামরিক জনগণের ওপর ইসরাইলি গণহত্যা অভিযান অব্যাহত থাকা প্রসঙ্গে বলেছেন: এই মহামুসিবত মানবজাতির বিবেককে আহত করেছে এবং মানবাধিকারের দাবিদার মুসলিম দেশগুলোর উচিত জেগে ওঠা ও তাদের দেখা উচিত যে এই হিংস্র নেকড়ে (ইসরাইল) কাউকেই দয়া করছে না।
তিনি চলতি বছর বিশ্ব কুদস দিবস অতীতের চেয়ে আরো ব্যাপক পরিসরে পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, যখন ইরান ও ছয় জাতির মধ্যে পরমাণু আলোচনা চলছে তখন ইসরাইল যা-খুশি তা-ই করছে।

হুজ্জাতুল ইসলাম কাজেম সিদ্দিকি মধ্যপ্রাচ্যে আইএসআইএলসহ তাকফিরি গ্রুপগুলোর তৎপরতা প্রসঙ্গে বলেছেন: ইসলামের শত্রুরা ধর্মহীন ও নির্বোধ লোকদের দিয়ে গড়ে তোলা আইএসআইএল-এর মত গ্রুপগুলোকে ময়দানে নামিয়েছে যাতে মুসলিম বিশ্বকে এদের মাধ্যমে ব্যস্ত রেখে ইসরাইলের অপরাধযজ্ঞ জোরদার করা যায়। তিনি বলেন: ‘আইএসআইএল হচ্ছে ইসরাইলের সহযোগী এবং ইসরাইলই ইরাকে তাকফিরি উৎপাত রফতানি করেছে। ইরাক এই ফিতনা মুকাবিলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল না বলে আরো আগেই তাকফিরি গোষ্ঠীগুলোর বিস্তার ঠেকানোর উদ্যোগ নিতে পারেনি, তবে বর্তমানে এই প্রতিরোধে ইরাকের শীর্ষস্থানীয় আলেম সমাজের ভূমিকা খুবই কার্যকর প্রভাব রাখছে।’

হুজ্জাতুল ইসলাম কাজেম সিদ্দিকি লেবাননের হিজবুল্লাহ প্রতিষ্ঠায় ইরানের ইসলামী বিপ্লবের প্রভাবের কথা তুলে ধরে বলেছেন: ইমাম খোমেনী ও ইসলামের এই সভ্রান্ত সন্তান ৩৩ দিনের যুদ্ধে ইসরাইলকে এমন শিক্ষা দিয়েছে যে সে তা কখনও ভুলবে না এবং এরপর গাজা হিজবুল্লাহ থেকে শিক্ষা নিয়ে বেশ কয়েকটি যুদ্ধে ইসরাইলের ওপর বেশ কিছু বিপর্যয় নাজিল করেছে।

তিনি আমিরুল মু’মিনিন হযরত আলী (আ.)’র শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে সবাইকে শোক ও সমবেদনা জানান এবং এ প্রসঙ্গে আলী (আ.)’র প্রতি মহানবীর (সা.) গভীর ভালবাসার কথা তুলে ধরেন। আলী (আ.) জিহাদ থেকে ফিরে আসলে মহানবী (সা.) একবার তাঁর মুখের ঘাম মুছে দিয়েছিলেন নিজ হাতে এবং আরেকবার সফরের প্রক্কালে বলেছিলেন: হে আল্লাহ, আলীর সঙ্গে এটাই যেন আমার শেষ দেখা না হয়।

You Might Also Like