রায়কে কেন্দ্র করে শাসক মহল আমাদের চেয়ে বেশি অস্থির: খালেদা জিয়া

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়কে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন দল অস্থির ও ভীত হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

আজ (বুধবার) বিকেল ৫টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন।

বিএনপির চেয়ারপারসন বলেছেন, “আপনারা জানেন, আমার বিরুদ্ধে এক মিথ্যা মামলায় আগামীকাল রায় হবে। এই রায়কে কেন্দ্র করে শাসক মহল আমাদের চেয়ে বেশি অস্থির ভীত হয়ে জনগণের চলাচলের অধিকার প্রতিবাদের অধিকার সভা-মিছিলের সাংবিধানিক অধিকার, প্রশাসনিক নির্দেশে বন্ধ করা হচ্ছে। ভিত্তিহীন ও মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিবাদের ভয়ে ভিত হয়ে এ হীন পথ খুঁজে নিয়েছে সরকার। সারাদেশে তারা বিভীষিকা ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। জনগণের প্রতিবাদের সম্ভাবনাকে তারা এতোটাই ভয় পায়!”

তিনি বলেন, “আদালত রায় দেয়ার বহু আগে থেকেই শাসক মহল চিৎকার করে বলে বেড়াচ্ছে, আমার জেল হবে। যেন বিচারক নন, ক্ষমতাসীনরাই রায় ঠিক করে দিচ্ছে। প্রধান বিচারপতিকে চাপের মুখে পদত্যাগ ও দেশত্যাগে বাধ্য করার পর কোনো আদালত শাসকদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার ও ইনসাফ কায়েম করতে সাহস পাবে কিনা তা নিয়ে সকলেরই সন্দেহ আছে। তারপরেও দেশবাসীর উদ্দেশে সগৌরবে জানাতে চাই যে, আপনাদের খালেদা জিয়া কোনো অন্যায় করে নি। কোনো দুর্নীতি আমি করি নি।”
সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান সরকারকে ‘মহা দুর্নীতিবাজ, লুটেরা, গণতন্দ্রহরণকারী এবং স্বৈরাচারী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার দেশে একটি লুটের রাজত্ব কায়েম করেছে। এ দেশের মানুষেরে গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। তথাকথিত উন্নয়নের নামে দেশে দুঃশাসন চলছে।এই স্বৈরশাসন জণগণকে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। মানুষকে ভাতে মারছে। শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করছে। বেগম খালেদা জিয়া বলেন এ সরকার শেয়ার বাজার লুটে খেয়েছে। অর্থ লোপাট করে ব্যাংকগুলোকে দেউলিয়া করেছে। সুইস ব্যাংকে অর্থ পাচার করে পাহাড় গড়েছে। তদন্ত করা হয় না। তদন্ত হলেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় না। দোষীদের বিচার হয় না। লুণ্ঠনের বিরুদ্ধে সকল প্রতিবাদের পথ এরা বন্ধ করে দিয়েছে।”

তিনি ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, “ভয় ভীতির মাধ্যমে দেশের বিচার ব্যবস্থাকে প্রহসনের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। যারা লগিবৈঠা দিয়ে মানুষ খুনের নির্দেশ দেয়। যারা গান পাউডার দিয়ে মানুষ মারে। আন্দোলনের নামে ব্যাংকে আগুন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আগুন, রেল স্টেশনে আগুন, বন্দরে আগুন দিয়েছিল তারাই আজ আমাদের নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”

দেশবাসীর উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, “আমাকে আপনাদের থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা হলেও বিশ্বাস করবেন, আমি আপনাদের সঙ্গেই আছি। আপনারা গণতন্ত্রের জন্য, অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য, জনগণের সরকার কায়েমের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।”
এদিকে, বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অন্যতম আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার রেডিও তেহরানকে বলেন, মামলাটি সরকারের ফরমায়েশমতো দায়ের করা হরেও ৩১ জন সাক্ষীর কেউই কথিত দুর্নীতির সাথে বেগম জিয়ার সম্পৃক্ততা প্রমাণ করতে পারেনি। তার পরও তাকে সাজা দেয়া হলে তা হবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপূর্ণ কাজ।

সংবাদ সম্মেলনে বেগম জিয়া দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “বর্তমান দুঃসহ অবস্থা থেকে বাংলাদেশের মানুষ মুক্তি চায়। তারা আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তাদের আশার প্রতিফলন ঘটনাতে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম শুরু করেছি। সেই সংগ্রামে অনেক প্রাণ ঝরে গেছে। অগণিত নেতাকর্মী ও মানুষ হামলা মামলার শিকার হয়েছে। রক্তপিপাসু শাসকদের কবল থেকে দেশবাসীকে রক্ষার সংগ্রামে নেমেছি। জনগণ পরাজিত হবে না। দুঃশাসন একদিন অবসান হবে। কিন্তু তারা যে কলংকের ইতিহাস রচনা করেছে তা চিহ্নিত থাকবে।”

You Might Also Like