খালেদা জিয়ার রায়ের দিন ঢাকায় মিছিল-জমায়েত নিষিদ্ধ করল ডিএমপি

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়ার রায় ঘিরে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে সব ধরনের মিছিল ও জমায়েত নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

আজ (মঙ্গলবার) ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া স্বাক্ষরিত এক ‘জরুরি বার্তায়’ এ তথ্য জানানো হয়। ৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বহুল আলোচিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার দিন।

ডিএমপি’র বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘৮ ফেব্রুয়ারি ভোর ৪টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ঢাকা মহানগরে সব ধরনের ছড়ি বা লাঠি, ছুরি, চাকু বা ধারালো অস্ত্র, বিস্ফোরকদ্রব্য ও দাহ্য পদার্থ বহন নিষিদ্ধ থাকবে। যানবাহন ও জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এবং রাস্তায় দাঁড়িয়ে/বসে কোনো ধরনের মিছিল করা যাবে না।’
ডিএমপি কমিশনারের বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বিচারাধীন একটি মামলার রায়কে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগরীত কোনো কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কর্তৃক অরাজকতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির মাধ্যমে জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা বিঘ্নের অপপ্রয়াস হতে পারে। বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য, ইলেকট্র্রনিক, প্রিন্ট ও সোশ্যাল মিডিয়া সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

‘রায় ঘোষণার দিন রাস্তায় থাকবে পুলিশ’

এদিকে, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, খালেদা জিয়ার রায় ঘোষণার দিন তার নিরাপত্তার জন্য রাস্তায় পুলিশ মোতায়েন থাকবে। আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী রাস্তায় নামবেন না।

আজ (মঙ্গলবার) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়াকে সিলেট যেতে কেউ বাধা দেয়নি। তার নিরাপত্তায় ব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেখবে।
খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের ব্যাপারে তিনি আরও বলেন, ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা খালাসও পেতে পারেন আবার সাজাও হতে পারেন। এটা আদালতই ভালো বলতে পারবেন। এ বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক নয়।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করবে আদালত। এই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আসামি।
খালেদা জিয়ার উপদেষ্টার বিরুদ্ধে মামলা

এদিকে, নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত, জননিরাপত্তা বিপন্ন করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজে বাধা প্রদান, শান্তিপ্রিয় জনসাধারণের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি, রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করে জনগণের বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে ঘৃনা বা শত্রুতার মনোভাব সৃষ্টির মাধ্যমে উসকানি দেয়া- এসব অভিযোগ এনে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সাবেক সংসদ সদস্য মসিউর রহমানসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের ২৫ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ পুর্বক অজ্ঞাত আরো ৮০/৯০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।

স্থানীয় নগরবাথান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বৈঠক করার সময় রবিবার সন্ধ্যায় মসিউর রহমানসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের ১১ জন নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ।

You Might Also Like