‘মাশরাফিকে নিয়ে গর্বিত হওয়া উচিত বাংলাদেশের’

মাশরাফি বিন মুর্তজা আর ডেভিড ইয়াং যেন একই সুতোয় গাঁথা দুই নাম। মাশরাফির দুই হাঁটুতে সাত-সাতটি অস্ত্রোপচার হয়েছে। প্রথমটি বাদে বাকি ছয়টিই করেছেন অস্ট্রেলিয়ার শল্যবিদ ডেভিড ইয়াং। তাইতো তাকে নিয়ে মাশরাফি বলেছেন, ‘আমার খেলার পিছনে উছিলা হিসেবে আছেন ইয়াং।’

খালি চোখে মাশরাফি রোগী, ইয়াং ডাক্তার। পেশাদার সম্পর্ক! না, মোটেও নয়। মনের সম্পর্কও যে রয়েছে দুজনের। দুজনের রয়েছে দুজনের প্রতি টান। বাংলাদেশে তিন দিনের সফরে ডেভিড ইয়াং এসেছেন অর্থপেডিক্স সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে অংশ নিতে।

কাজের ফাঁকেই আজ মিরপুরে গিয়েছিলেন ইয়াং। সেখানে মাশরাফি বিন মুর্তজার সাথে সাক্ষাৎ, মিরপুরে ঘুরে দেখেন ক্রিকেট ফ্যাসিলিটিজ এবং সবশেষে বিসিবির ফিজিও ও চিকিৎসকদের নিয়ে ছোট্ট একটি কর্মশালাও করেন। যেখানে উপস্থিত ছিলেন মাশরাফি নিজেও।
বেরিয়ে যাওয়ার পথে ইয়াং কথা বলেন গণমাধ্যমের সঙ্গে। মাশরাফিকে নিয়ে জানতে চাইলে অনেকটাই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ইয়াং। তার প্রতিটি শব্দে ছিল মাশরাফির জন্য ভালোবাসা।

ইয়াং বলেছেন, ‘মাশরাফি হচ্ছেন এমন একজন পেশাদার খেলোয়াড়, যার সবটুকু নিবেদন দেশ এবং ক্রিকেট নিয়ে। মাশরাফির যে বিষয়টি আমি পছন্দ করি, সে খুব ভালো একজন মানুষ। বড় হৃদয়ের মানুষ। সে দানশীল, সেটা অনেক আগেই জানা। বাংলাদেশের মাশরাফিকে নিয়ে গর্বিত হওয়া উচিত। সে এ দেশের এবং ক্রিকেটের বড় একজন প্রতিনিধি। ’

‘মাশরাফির ক্যারিয়ারের কিছু অংশে আমি জড়িত ছিলাম। এজন্য আমি খুশি। আমি তাকে সাহায্য করেছি, পথ দেখিয়েছি। কিন্তু মূল কাজটা ও নিজেই করেছে। আসলে অনেককেই দেখেছি। ওর খেলার প্রতি নিবেদনের কারণেই নিজ থেকেই ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া ঠিকমতো করেছে’- যোগ করেন ইয়াং।

ঠিক মাশরাফির কন্ঠেও ছিল ইয়াংয়ের প্রতি তার নিবেদন। চিকিৎসক ও বন্ধুর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে মাশরাফি বলেছেন, ‘আমার প্রায় সাতটি (আসলে ছয়টি) অস্ত্রোপচার ওর হাত দিয়ে হয়েছে। ও-ই আমার সব কিছু করেছে, অপারেশনের পর পুনর্বাসন কীভাবে কী করতে হবে। এখন এমন একটা অবস্থায় আছি, হাঁটুর বিষয়ে অন্য আর কারো কাছে গেলে তেমন আত্মবিশ্বাস পাওয়া যায় না। আমি না, আমাদের অধিকাংশ খেলোয়াড় যাদের হাঁটু ও পিঠের ইনজুরির অস্ত্রোপচার হয়েছে, তা ও-ই করেছে।’
‘আমি এখনো খেলছি ওপরে আল্লাহ আছেন, উছিলা হিসেবে ইয়াং আছে। আমি বলতে পারি বাংলাদেশ ক্রিকেটের অদৃশ্য একজন বন্ধু সে’- ইয়াংয়ের প্রতি নিজের ভালোবাসার বর্হিপ্রকাশ এভাবেই করেন মাশরাফি।

বুধবার নিজ দেশে ফিরবেন ইয়াং। আজ ভালোবাসার রেণু ছড়িয়ে দিয়েছেন মিরপুরে। তার থেকে কিছু জানতে পেরে উচ্ছ্বসিত দেশের ফিজিওরাও। তাদের মতে, শুধু একদিনের জন্য নয়, ইয়াংয়ের মতো বিশেষজ্ঞকে দেশে এনে কর্মশালার আয়োজন করলে গভীরভাবে অনেক কিছু জানতে পারবেন তারা।

ইয়াং মাশরাফিকে নিয়ে জানিয়েছেন অনেক অজানা। টেস্ট দলে ফিরতে পারবেন কি না, বা টেস্ট খেলার সামর্থ্য রাখেন কি না, এমন প্রশ্নে সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। তবে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে যা বলেছেন, তাতে তার উত্তরও স্পষ্ট, ‘প্রত্যেক দলে একজন দলনেতার প্রয়োজন। মাশরাফি হচ্ছে সেই দলনেতা। এবং তার টেস্ট দলে একটি জায়গা থাকা দরকার। তার সেরা খেলোয়াড় হওয়ার প্রয়োজন নেই। অন্য দলে যেমন সুপারস্টার থাকে, তেমনও হওয়ার প্রয়োজন নেই। দলের প্রয়োজন একজন নেতার। মাশরাফি নিয়ে কোনো দ্বিমত থাকার প্রয়োজন নেই।’

You Might Also Like