খালেদার সিলেট সফর: না.গঞ্জে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাসহ গ্রেপ্তার ১৩

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সিলেট সফরকালে স্বাগত জানাতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ ও মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেনসহ গ্রেপ্তার ১৩ জনকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার বিকেলে নজরুল ইসলাম আজাদ ও সাখাওয়াত হোসেনখানসহ অন্য আসামিদের নাশকতা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা দুটি পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুলিশ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে। আদালত আগামী ৮ ও ১১ ফেব্রুয়ারি রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পরিদর্শক মোহাম্মদ আলী বিশ্বাস।

এর আগে সোমবার সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকা থেকে মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেনসহ চারজন এবং আড়াইহাজার উপজেলার পাঁচরুখী এলাকা থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। আড়াইহাজারে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ারও ঘটনা ঘটে। পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হলে পুলিশও শটগানের বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে। এ সময় ওই জায়গা থেকে জেলা ছাত্রদল নেতা মাসুকুল ইসলাম রাজিব ও জেলা যুবদল নেতা সালাউদ্দিনসহ আরো ছয়জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

সকাল সোয়া ১০টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে খালেদার জিয়ার গাড়িবহর যাওয়ার সময় সানারপাড় এলাকায় বিএনপি নেতা সাখাওয়াত স্বাগত জানানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাকেসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার সঙ্গে আনোয়ার প্রধান, শোয়েব ও ইয়াসিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময় শিমরাইল এলাকা থেকে যুবদল কর্মী সোহেব ও ইয়াছিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আসামিপক্ষের আইনজীবী রফিকুল আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নাশকতা ও বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলাগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রানি করার জন্য এই মামলা দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, এই উদ্দেশ্যকে সফল করতেই সরকারি দলের নির্দেশে পুলিশ প্রশাসন নারায়ণগঞ্জে গণহারে গ্রেপ্তার করছে।

এদিকে গতকাল রোববার বিকেল থেকে নারায়ণগঞ্জে পুলিশ এবং গোয়েন্দা পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান শুরু হলে জেলায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের অধিকাংশ নেতাকর্মী মামলা ও গ্রেপ্তার আতংকে বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।

You Might Also Like