পদ্মাবত’র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বন্ধের ঘোষণা

সঞ্জয় লীলা বানসালি পরিচালিত বহুল আলোচিত সিনেমা পদ্মাবত। সিনেমাটি নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছিল রাজপুত করনি সেনা। এ নিয়ে বিক্ষোভও করছিল তারা। এমনকি পদ্মাবত নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে আসছিল সংগঠনটি। এ কারণে গত বছর মুক্তির কথা থাকলেও নানা জটিলতায় পিছিয়ে যায় এটি।

তবে বিক্ষোভ ও কড়া নিরাপত্তার মাঝে গত ২৫ জানুয়ারি ‍মুক্তি পায় পদ্মাবত। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের আদেশে দেশটির সবগুলো রাজ্যে মুক্তির কথা থাকলেও কিছু স্থানে সিনেমাটি প্রদর্শনে বাধা দেয় রাজপুত করনি সেনা। এমনকি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে তারা।

অবশেষে পদ্মাবত সিনেমার প্রতি তাদের আপত্তি থেকে সরে দাঁড়িয়েছে রাজপুত করনি সেনা। এছাড়া সকল প্রকার বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে তারা। শুক্রবার সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ সিনেমায় রাজপুতদের বীরত্ব তুলে ধরা হয়েছে। এ জন্য সকল প্রকার বিক্ষোভ বন্ধ করছে তারা। এমনকি যে সকল রাজ্যে সিনেমাটি এখনো মুক্তি দেয়া হয়নি সেই সকল স্থানেও এটি মুক্তির ব্যবস্থা করা হবে। ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রী রাজপুত করনি সেনার ‍মুম্বাই শাখার প্রধান যোগেন্দ্র সিং কাটার জানিয়েছেন, সংগঠনের প্রেসিডেন্ট সুখদেব সিং গোগামারির নির্দেশে শুক্রবার কয়েকজন সদস্য সিনেমাটি দেখেছেন। তারা মনে করছেন এতে রাজপুতদের আত্মত্যাগ এবং বীরত্ব তুলে ধরা হয়েছে। প্রত্যেক রাজপুত সিনেমাটি দেখে গর্ববোধ করবেন। এছাড়া সিনেমাটিতে আলাউদ্দিন খিলজি ও রানি পদ্মিনির মধ্যে আপত্তিকর কোনো দৃশ্য নেই, যেটি রাজপুতদের অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে।

একটি চিঠির মাধ্যমে তিনি পদ্মাবত সিনেমার বিরুদ্ধে সকল প্রতিবাদ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া সংগঠনের পক্ষ থেকে ভারতের রাজস্থান, মধ্য প্রদেশ ও গুজরাটসহ সকল প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি মুক্তির প্রশাসনিক সাহায্যের আশ্বাসও দেয়া হয়েছে।

এর আগে গত বছর জানুয়ারিতে পদ্মাবত সিনেমার শুটিং সেটে ভাঙচুর চালায় রাজপুত করনি সেনা। তাদের দাবি ছিল, সিনেমায় রানি পদ্মিনির ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন সঞ্জয়। কারণ সিনেমায় রানির সঙ্গে আলাউদ্দিন খিলজির প্রেমের সম্পর্ক দেখানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে পদ্মিনি-খিলজির মধ্যে কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। আর এতেই আপত্তি জানিয়েছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের এই দল। সে সময় ভেঙে ফেলা হয় শুটিংয়ের বেশ কিছু মূল্যবান সরঞ্জাম। এমনকি সিনেমার কলাকুশলীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির মাঝে বানশালিকে চড় মারেন এক ব্যক্তি। তারপর বন্ধ হয়ে যায় শুটিং। যদিও পরিচালক, অভিনয়শিল্পী ও পদ্মাবত টিমের অন্যান্যরা এ ধরনের গুঞ্জন উড়িয়ে দেন। এরপর গত মার্চে পদ্মাবত’র শুটিং সেটে আগুন দেয় দুষ্কৃতিকারীরা। এরপর থেকে রাজপুত করনি সেনার পাশাপাশি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সংগঠন পদ্মাবত সিনেমাটি বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছিল।

You Might Also Like