একদিন পর মাদ্রাসাছাত্রের মাথা উদ্ধার: শিক্ষকসহ আটক ৯

রংপুরে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তানভির আবদুল্লাহ তালহার (১৩) দেহ উদ্ধারের একদিন পর শুক্রবার দুপুরে তার মাথা সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ মাদ্রাসার শিক্ষকসহ ৯ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

নিখোঁজের একদিন পর বৃহস্পতিবার রংপুরে মস্তকবিহীন হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীর লাশ মসজিদ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান জানান, রংপুর সেনানিবাসে কর্মরত সার্জেন্ট খান জাহান আলী নগরীর ভগিবালাপাড়া এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকেন। বাড়ির পাশেই রয়েছে রহমানিয়া নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং। এই নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসায় খান জাহান আলী তার ছেলে তানভির আবদুল্লাহ তালহাকে ভর্তি করান হাফিজিয়া পড়ার জন্য। বুধবার থেকে তিনি তালহাকে খুঁজে না পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে রংপুর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন। এরপর কোতোয়ালি থানার এসআই জাহিদুল ইসলাম বিকেলে ভগিবালাপাড়ায় ওই হাফিজিয়া মাদ্রাসায় যান তদন্ত করতে। তিনি মাদ্রাসায় শিশুটিকে খুঁজতে থাকেন। কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদও করেন। এরপর মাদ্রাসার পাশেই দ্বিতীয় তলায় মসজিদ। এই মসজিদের দ্বিতীয় তলা তালাবদ্ধ দেখতে পান। তালা খুলে দেখেন নামাজ পড়ার একটি চটে মোড়ানো তানভির আবদুল্লাহ তালহার মস্তকবিহীন লাশ। এরপর আশপাশে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও শিশুর মাথাটি উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। শুক্রবার আবারও পুলিশ খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে মসজিদের পাশে সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে তানভির আবদুল্লাহ তালহার মাথা লাল কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক হাফেজ মেহেদি হাসান, সহকারী শিক্ষক ইমরান হোসেন, মসজিদের খাদেম নাজমুল হক, মোয়াজ্জিন তাসকিরুল ইসলাম, শিক্ষার্থী আজহার আলী, রেজাউল করিম, মানিক মিয়া, আরমান হোসেন ও ফেরদৌস হোসেন আটক করে।

রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান আরো জানান, কী কারণে শিশুটিকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে তা তদন্ত করে বের করা হচ্ছে।

You Might Also Like