ইলেক্ট্রনিক যুদ্ধবিমান তৈরি করেছে চীন

অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানের চেয়েও বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন এক ধরনের ইলেক্ট্রনিক যুদ্ধবিমান তৈরি করেছে চীন, যা যুদ্ধের সময় অপেক্ষাকৃত বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, দক্ষিণ ও পূর্ব চীন সাগরের মতো বিশাল এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইলেক্ট্রনিক যুদ্ধবিমান কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। এর মধ্য দিয়ে চীনের নৌবাহিনীর সক্ষমতা এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছে।

চীনের পিপল’স লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) নেভির দক্ষিণ চীন সাগরের নৌবহরের সঙ্গে এইচ-৬জি নামের ইলেক্ট্রনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে চীনা নৌবাহিনীর রণকৌশলে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে।

পাখার নিচে ইলেক্ট্রনিক কাউন্টারমেজার্স (ইসিএম) পডযুক্ত নতুন ধরনের এই বিমান আগামী ১০ বছরের জন্য মোতায়েন করা হয়েছে। চীনা সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) গত সপ্তাহে এক খবরে জানিয়েছে, নতুন এই যুদ্ধবিমান ইলেক্ট্রনিক যুদ্ধক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারবে, যা হবে ইতিহাসে প্রথম।

ইলেক্ট্রনিক জ্যামিং, সাপ্রেশন ও অ্যান্টি-রেডিয়েশন ব্যবহার করে যুদ্ধের অভিযানে মোতায়েন করা যাবে এ ধরনের বিমান। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র গ্লোবাল টাইমসকে সামরিক বিশেষজ্ঞ ও টেভিশন ভাষ্যকার সং ঝংপিং বলেছেন, ইলেক্ট্রনিক যুদ্ধবিমানের প্রধান ভূমিকা হবে শত্রু পক্ষের ইলেক্ট্রনিক জ্যামিং ডিভাইসে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা। যেমন- রাডারের কথাই ধরুন। সাময়িক বা স্থায়ী যাই হোক, আমরা যদি যথেষ্ট শক্তিশালী হই, তাহলে তা শত্রুদের গোয়েন্দা কাজে ব্যবহৃত বস্তুগুলো শনাক্ত করতে পারবে এবং আমরা যেখান থেকে হামলা করব, সেই স্থান আড়াল করতে পারবে।

যুদ্ধের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিমান আধুনিকায়নের জন্য অত্যাধুনিক ও উন্নত মানের ইসিএম পড তৈরি করছে চীন। দেশটির জে-১৫ যুদ্ধবিমানেও অত্যাধুনিক ইসিএম পড যুক্ত করা হয়েছে। সং ঝংপিং বলেছেন, যুদ্ধবিমানে ইসিএম পড ব্যবহার খুবই কার্যকরী। তিনি আরো বলেছেন, চীনের বিমানবাহী রণতরির বিমানেও ইসিএম পড ব্যবহার করা যায়।

দক্ষিণ চীন সাগর ও পূর্ব চীন সাগরের মালিকানা নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে চীনের বিরোধ দীর্ঘদিনের। কিন্তু চীন দাবি করে, এই দুই সাগর তাদের সার্বভৌম অঞ্চলের অন্তর্গত। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সাগরের বিভিন্ন দ্বীপ ও রিফে সামরিকায়ন ঘটিয়েছে বেইজিং। বেশ কিছু কৃত্রিম দ্বীপও তৈরি করেছে তারা এবং এসব দ্বীপে তাদের সামরিক উপস্থিতিও নিশ্চিত করেছে।

চীনের পাশাপাশি ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই ও তাইওয়ান দক্ষিণ চীন সাগরের মালিকানা দাবি করে থাকে। খনিজ সম্পদ, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসে ভরপুর এই সাগরের মালিকানা ছাড়তে চায় না কেউ।

You Might Also Like