দুই কোরিয়ার ‘অভিন্ন পতাকা’ থাকবে অলিম্পিকে

দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠেয় শীতকালীন অলিম্পিকে একটি ‘অভিন্ন পতাকা’ উড়াবে দুই কোরিয়া।

পিয়ংইয়ংয়ের পরমাণু কার্যক্রম ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই প্রায় দুই বছরের বেশি সময় পর সরাসরি আলোচনায় বুধবার এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া। শুধু তা-ই নয়, অলিম্পিকে নারীদের আইস হকি প্রতিযোগিতায় দুই কোরিয়া যৌথভাবে একটি দল খেলাবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিবিসি অনলাইনের ব্রেকিং নিউজে বুধবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

৯-১২ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ কোরিয়ার পায়োংচাংয়ে এবারের শীতকালীন অলিম্পিক খেলার আসর বসতে যাচ্ছে। দুই কোরিয়া সরকারিভাবে যৌথ আইস হকি টিম মাঠে নামাতে সম্মত হলেও দক্ষিণ কোরিয়া কোচ ও রক্ষণশীল সংবাদপত্রগুলো এ সিদ্ধান্ত অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, এর ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার হকি দলের মেডেল জয়ের সম্ভাবনা কমে যাবে।

উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সমঝোতাকে জাপানও ভালোভাবে দেখছে না। জাপান বলেছে, সম্প্রতি উত্তর কোরিয়া যে ‘পুলকে আক্রমণ’ চালিয়েছে, সে বিষয়ে বিশ্বের অন্ধ হলে চলবে না।

আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় দুই কোরিয়ার অভিন্ন পতাকা ব্যবহার ও যৌথভাবে দল মাঠে নামানোর নজির এই প্রথম, তা নয়। অভিন্ন পতাকা দুই কোরিয়াকে ‘একীভূত’ দেশ হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করে। সাদা রংয়ের কাপড়ের ওপর কোরীয় উপদ্বীপের নীল রঙা মানচিত্র দিয়ে অভিন্ন তৈরি করা হয়। তবে উভয় দেশে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এই পতাকার তাৎপর্য নেই বললেই চলে এবং রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠানে তা ব্যবহৃত হয় না। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় মাঝে মাঝে এই অভিন্ন পতাকা ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

১৯৯১ সালে প্রথমবার অভিন্ন পতাকা ব্যবহার করে দুই কোরিয়া। ওই বছর জাপানের চিবায় অনুষ্ঠিত ‘৪১তম বিশ্ব টেলিব টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপস’ এবং পর্তুগালের লিসবনে অনুষ্ঠিত ‘অষ্টম বিশ্ব তরুণ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ’-এ যৌথভাবে দল খেলিয়েছিল, যেখানে তারা সাদা-নীল পতাকা ব্যবহার করেছিল।

এরপর বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অভিন্ন পতাকা ব্যবহার করে দুই কোরিয়া।

অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ায় আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় শীতকালীন অলিম্পিকে অংশগ্রহণের জন্য ২০০ সদস্যের একটি খেলোয়াড়দল পাঠাচ্ছে উত্তর কোরিয়া।

দুই কোরিয়ার মধ্যে বিবদমান উত্তেজনার মধ্যেই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সপ্তাহব্যাপী এ-বিষয়ক আলোচনা চলাকালে বুধবার দক্ষিণ কোরিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে অলিম্পিকে উত্তর কোরিয়ার অংশগ্রহণকে তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞার চাপ কমানোর সুযোগ হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়েছে জাপান।

প্রায় দুই বছর পর উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সরাসরি আলোচনা হচ্ছে। এই সুযোগে তাদের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সামরিক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে উত্তর কোরিয়া পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম অব্যাহত রাখায় সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ।

এদিকে, কানাডার ভ্যাঙ্কুভার শহরে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে অংশগ্রহণকারী ২০ দেশ মঙ্গলবার এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, পরমাণু অস্ত্র মুক্ত করতে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার চাপ আরো বাড়াতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র হুঁশিয়ারি করে বলেছে, পরমাণু কার্যক্রম অব্যাহত রাখলে উত্তর কোরিয়াকে সামরিক জবাব দেওয়া হবে।

১৯৫০-১৯৫৩ সালে কোরীয় যুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়াকে সমর্থনকারী ২০ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের এই বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বলেন, উত্তর কোরিয়া যদি আলোচনার পথে না আসে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সামরিক জবাব দেবে যুক্তরাষ্ট্র।

জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো বৈঠকে বলেন, উত্তর কোরিয়ার ‘পুলকে আক্রমণ’ নিয়ে বিশ্বের সাদামাটা চিন্তা করলে চলবে না। তিনি বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে চাপ কমানো বা তাদের পুরস্কৃত করার সময় নয় এটি।’ তারো কোনো দাবি করেন, ‘ঘটনা হলো উত্তর কোরিয়া আলোচনায় বসছে, এর অর্থ দাঁড়ায় নিষেধাজ্ঞায় কাজ হচ্ছে।’

২০১৭ সালে পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রসহ বেশ কিছু আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির দাবি, পুরো যুক্তরাষ্ট্রের তাদের ক্ষেপণাস্ত্র পাল্লার আওতায় চলে এসেছে। গুয়াম ঘাঁটিতে হামলারও হুমকি দেয় তারা। জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরমাণু হামলা চালিয়ে উত্তর কোরিয়াকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দেন। এর পাশাপাশি কিম জং-উন ও ট্রাম্পের মধ্যে বাকযুদ্ধ বিশ্বকে উদ্বেগে ফেলেছে। তবে ২০১৮ সালের শুরুতে উত্তর কোরিয়ার নেতা জং-উনের নমনীয় বক্তব্য চলমান উত্তেজনা কিছুটা কমিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠেয় অলিম্পিকে দল পাঠানোর প্রাথমিক প্রস্তাব দেন তিনি। পরে দক্ষিণ কোরিয়া আলোচনার প্রস্তাব দেয় এবং দুই কোরিয়া আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে উত্তর কোরিয়ার প্রতিনিধিদল দক্ষিণ কোরিয়ায় যাবে।

You Might Also Like