পারমাণবিক বোমার বোতাম নেই ট্রাম্পের, আছে ‘ফুটবল’ ও ‘বিস্কুট’

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনকে সতর্ক করে বলেছেন, তার কাছে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক বোমার বোতামের চেয়ে আরো বড় ও বেশি শক্তিশালী বোতাম আছে।

গত মঙ্গলবার এক টুইটে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। তিনি টুইটে লেখেন, ‘উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন বলেছেন, তার টেবিলে পারমাণবিক বোতাম সব সময় থাকে। তার নিঃস্ব ও অভাবি রাষ্ট্রের কেউ কি তাকে জানাবেন যে, আমার কাছেও একটা পরমাণু বোতাম আছে। কিন্তু এটা তার বোতামের চেয়ে আরো বড় ও শক্তিশালী এবং আমার বোতাম ঠিকঠাক কাজ করে।’

মূলত কিম জং-উনের টেবিলে পারমাণবিক বোতাম আছে বলে ইংরেজি নববর্ষে একটি সতর্ক বার্তা দেওয়ার পর মঙ্গলবার এক টুইটে ট্রাম্প এ সতর্ক বার্তা দেন।

কিন্তু ট্রাম্পের কাছে কি আসলেই পারমাণবিক বোমার কোনো সুইচ আছে? আক্ষরিক অর্থে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোনো পরমাণু বোমার সুইচ নেই। তাহলে তার কি আছে?

একটি পরমাণু বোমা ছোড়া রিমোটে টিভির চ্যানেল পরিবর্তন করার মতো কোনো সহজ কাজ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ‘বিস্কুট’ আর ‘ফুটবলের’ মতো বিষয়।

২০ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে বারাক ওবামার সঙ্গে একটি কালো চামড়ার ব্রিফকেস নিয়ে একজন ব্যক্তিগত সহকারী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি সেই কালো ব্রিফকেসসহ মি. ট্রাম্পের সহকারী হয়ে যান। এই ব্রিফকেসটি ‘নিউক্লিয়ার ফুটবল’ নামে পরিচিত। পরমাণু অস্ত্র নিক্ষেপ করতে হলে এই ব্রিফকেসটি দরকার হবে। কখনোই এই ‘ফুটবল’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের অদূরে থাকবে না।

গত আগস্টে একজন বিশেষজ্ঞ সিএনএনকে বলেছেন, “যখন মি. ট্রাম্প গলফ খেলেন, তখনো এই ‘ফুটবল’ তার সঙ্গে পুরো মাঠ জুড়ে ছোটাছুটি করতে থাকে।”

কিন্তু কেউ যদি কখনো এই পরমাণু ফুটবলের ভেতরে উকি দেওয়ার সুযোগ পান, তিনি হতাশ হবেন। কারণ সেখানে কোনো সুইচ বা বোতাম নেই, কোনো ঘড়ি নেই যেটা টিক টিক করে চলছে। সেখানে আছে কিছু যোগাযোগের যন্ত্রপাতি এবং কিছু বই যেখানে যুদ্ধের পরিকল্পনা আছে। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তার জন্য এসব পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ‘বিস্কুট’ হচ্ছে এমন কিছু কার্ড, যার মধ্যে কিছু গোপন কোড রয়েছে, যা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সবসময় থাকার কথা। এটা সবসময় ‘ফুটবল’ থেকে আলাদা থাকে।

কখনো যদি প্রেসিডেন্ট কোনো পরমাণু বোমা হামলার নির্দেশ দেন, এসব কোড দিয়ে তার নিজের পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে।

প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের একজন প্রাক্তন সহকারী রবার্ট বাজ প্যাটারসন দাবি করেছেন, ‘মি. ক্লিনটন প্রেসিডেন্ট থাকাকালে একবার তার কোডগুলো হারিয়ে ফেলেন। তিনি এসব কোড অন্যসব ক্রেডিট কার্ডের সঙ্গে তার ট্রাউজারের পকেটে রাখতেন। মনিকা লিউনস্কির সঙ্গে স্ক্যান্ডাল যেদিন প্রকাশিত হয় সেদিন মি. ক্লিনটন স্বীকার করেন যে, ওই কোডগুলো তিনি বেশ কিছুদিন ধরে খুঁজে পাচ্ছেন না।’

যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুসারে, একমাত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট পরমাণু হামলার আদেশ দিতে পারেন। যখন তিনি নিজের পরিচয় নিশ্চিত করবেন, তিনি হামলা চালাতে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যানকে আদেশ দেবেন। এরপর এই আদেশটি যাবে নেব্রাস্কায় ইউএস স্ট্যাটেজিক কমান্ড হেডকোয়ার্টারে। তারা সংশ্লিষ্ট হামলাকারী ইউনিটকে নির্দেশটি পাঠাবে। সেটা সাগর, স্থল বা পানির নিচের কোনো সাবমেরিনও হতে পারে। সংকেতের মাধ্যমে হামলা চালানোর আদেশটি দেওয়া হবে, যে সংকেতের একটি কপি ওই হামলাকারী ইউনিটেও সংরক্ষিত রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট দেশটির সেনাবাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ। সংক্ষেপে, তিনি যা বলবেন, সেটাই হবে। কিন্তু সেখানেও কিছু ফাঁক রয়েছে। গত ৪০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো কংগ্রেস প্রেসিডেন্টের পরমাণু হামলার কর্তৃত্ব পরীক্ষা করে দেখেছে। কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় ইউএস স্ট্রাটেজিক কমান্ডের প্রাক্তন প্রধান সি রবার্ট কেহলার বলছেন, তিনি প্রেসিডেন্টে পরমাণু বোমা হামলার আদেশ অনুসরণ করবেন, যদি তা আইনসম্মত হয়। তিনি বলেন, ‘অন্য কোনোরকম পরিস্থিতি দেখা দিলে, আমি হয়ত বলতে পারি যে, আদেশটি বাস্তবায়নের জন্য আমি প্রস্তুত নই।’

একজন সিনেটর তার কাছে জানতে চান, ‘’তখন কি হবে?’ রবার্ট কেহলারের সরল উত্তর, ‘আমি জানি না।’ কংগ্রেস কমিটির সদস্য তখন হেসে ফেলেন।

তথ্যসূত্র : বিবিসি

You Might Also Like