বাংলাদেশে নতুন ৪ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর শপথ; বিএনপি নেতার প্রতিক্রিয়া

আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের শেষ বছরে এসে মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানো হয়েছে। মন্ত্রিসভায় নতুন করে যুক্ত হলেন আরো তিন মন্ত্রী ও এক প্রতিমন্ত্রী।

আজ (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় এই চারজনকে শপথ পাঠ করান প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বঙ্গভবনের দরবার হলে এই শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তিনজন নতুন মন্ত্রী হয়েছেন নারায়ন চন্দ্র চন্দ, মোস্তফা জব্বার এবং লক্ষ্মীপুরের এমপি এ কে এম শাহজাহান কামাল। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন রাজবাড়ীর এমপি কাজী কেরামত আলী।

এর মধ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসা নারায়ন চন্দ্র চন্দ পদোন্নতি পেয়ে মন্ত্রী হয়েছেন। আর মোস্তফা জব্বার (৬৮) যেহেতু সংসদ সদস্য নন, তাই তাকে মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনে মুক্তি নেই: নিতাই রায়

সরকারের শেষ বছরে মন্ত্রী সভার আকার বৃদ্ধি প্রসঙ্গে এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী রেডিও তেহরানকে বলেন, নানা সংকটে জর্জরিত সরকারের এ সামান্য পরিবর্তন তাকে সংকট থেকে মুক্তি দেবে না
উল্লেখ্যে, ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করে এ সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছিল; যার মধ্যে ২৯ জন মন্ত্রী, ১৭ জন প্রতিমন্ত্রী ও দুইজন উপমন্ত্রী।

এর দেড় মাসের মাথায় এ এইচ মাহমুদ আলী মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ গ্রহণ করেন। আর মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম হিরু পান প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। আর হজ নিয়ে মন্তব্যের জন্য অক্টোবরে মন্ত্রিত্ব খোয়ান লতিফ সিদ্দিকী।

২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের পরের সপ্তাহে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম বিএসসিকে মন্ত্রী এবং তারানা হালিম ও নুরুজ্জামান আহমেদকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়। ওই দিন মন্ত্রী হিসেবে পদোন্নতি পান আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এবং ইয়াফেস ওসমান।

এর পর ২০১৫ সালের ৯ জুলাই আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করা হয়। প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে দেওয়া হয় স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব।

তাছাড়া, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী ২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ওই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ২০১৬ সালের ১১ মে। এরপর ২০১৬ সালের ১৯ জুন খাদ্য থেকে প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদকে পাঠানো হয় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে।

বর্তমানে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের দায়িত্বে আছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে আছেন আরও পাঁচজন।

You Might Also Like