পুতিনের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারছেন না নাভানলি

রাশিয়ার বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভানলি ২০১৮ সালে অনুষ্ঠেয় দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারছেন না।

রাশিয়ার নির্বাচন কমিটি স্থানীয় সময় সোমবার নাভানলিকে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করেছে। কমিটি তাদের ঘোষণায় বলেছে, একটি প্রতারণার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তিনি নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিতে পারবেন না। কমিটির ১৩ সদস্যের মধ্যে একজন অনুপস্থিত থাকলেও বাকি ১২ জনের সবাই নাভানলিকে অযোগ্য ঘোষণার সিদ্ধান্তে মত দিয়েছেন।

২০১৮ সালের মার্চ মাসে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার নির্বাচন কমিটির ঘোষণার পরপরই নাভানলি নির্বাচন বয়কটের ডাক দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘ভোটারদের হয়ে আমরা নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিচ্ছি। সবাইকে আমরা নির্বাচন বর্জনের জন্য আহ্বান জানাব। নির্বাচনের ফলাফলকে আমরা স্বীকৃতি দেব না।’

নির্বাচন কমিটির সিদ্ধান্ত জানানোর পরপরই জনগণের উদ্দেশে একটি বার্তা প্রকাশ করেন নাভানলি। সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগেই বার্তাটি রেকর্ড করে রেখেছিলেন তিনি। এই বার্তায় ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কঠোর সমালোচনা করেন নাভানলি। তিনি বলেন, ‘শুধু পুতিন ও তার পছন্দের প্রার্থীরা এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।’ পুতিন সরকারের দুর্নীতির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া মানে মিথ্যা ও দুর্নীতিকে ভোট দেওয়া।’

১৯৯৯ সাল থেকে রাশিয়ার ক্ষমতায় রয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন। চলতি মাসের প্রথম দিকে তিনি বলেন, ছয় বছর মেয়াদে আরো একবার দেশ চালাতে চান তিনি।

রোববার মস্কোর অদূরে নদীতীরে ৭৫০ সমর্থকের এক সমাবেশে নাভানলি পুতিনের বিরুদ্ধে জোর গলায় অভিযোগ উত্থাপন করেন এবং তার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘এই তো আপনি ভ্লাদিমির পুতিন, আপনি আপনার, আপনার পরিবার ও বন্ধুদের ব্যক্তিগত সুখ-সাচ্ছন্দের ভাণ্ডারে পরিণত করেছেন এই দশেকে। এ কারণেই আপনি আর কোনোমতেই প্রেসিডেন্ট হতে পারেন না, একই কারণে আপনি বাজে প্রেসিডেন্ট।’

ক্রেমলিনের কড়া সমালোচক নাভানলি ২০০৮ সালে রাশিয়ার রাজনীতিতে মাথা চাড়া দেন। রাশিয়ার রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত বড় বড় করপোরেশনের দুর্নীতির বিষয়ে ব্লগ লেখা শুরু করেন এবং এর মাধ্যমে সরকারের দুর্নীতির কথা সামাজিক যোগামাধ্যমে তরুণদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন তিনি।

২০১১ ও ২০১২ সালে রাশিয়ায় পুতিনবিরোধী বিশাল সমাবেশের নেপথ্যের চালিকা শক্তি ছিলেন নাভানলি। তার প্রচেষ্টায় হাজার হাজার মানুষ রাজপথের বিক্ষোভে অংশ নেয়।

২০১৩ সালে আর্থ আত্মসাৎ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন নাভানলি। গত বছর মানবাধিকারবিষয়ক ইউরোপিয়ান আদালত তার এই সাজাকে অযৌক্তিক ঘোষণা করেন। এরপর রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট এই মামলার পুনর্বিচার শুরু করার নির্দেশ দেন।

তথ্যসূত্র : আলজাজিরা অনলাইন

You Might Also Like