পাবনার ৩০ গ্রামের খ্রিস্টান পল্লি উৎসবমুখর

আগামী সোমবার খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ‘শুভ বড়দিন’। এই উৎসব উদযাপনে পাবনার ৩০টি গ্রামের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

উপাসনালয়সহ বাড়ি-বাড়ি আলোকসজ্জা, গোশালা তৈরি, ক্রিস্টমার্স ট্রি সাজানোসহ নানা প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষেরা। স্বজনদের সঙ্গে বড়দিনের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্নপ্রান্ত থেকে ছুটে এসেছেন কর্মজীবী মানুষ।
প্রতিবছর ২৫ ডিসেম্বর সারা বিশ্বের খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীরা মহাসমারোহে যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন উদযাপন করেন। যিশু খ্রিস্ট মানুষকে দেখিয়েছিলেন মুক্তি ও কল্যাণের পথ। যিশু খ্রিস্টের জন্মতিথি ‘বড়দিন’ উদযাপনে পাবনার ৩০টি গ্রামের খ্রিস্টান পল্লি এখন উৎসবমুখর। গির্জা বা উপাসনলয়গুলো সাজানো হয়েছে নানা রং বেরংয়ে।

বড়দিন উপলক্ষে বাড়িতে বাড়িতে চলছে নগরকীর্তন। অতিথিদের আপ্যায়ন করতে বাড়ির গৃহিণীরা বাড়িঘর আলোকসজ্জা আর পিঠাপুলির আয়োজন করছেন।

পাবনা শহরের উত্তর শালগাড়িয়া মহল্লার বাসিন্দা ঝিনুক রোজারিও বলেন, ‘‘বড়দিন উপলক্ষে আমাদের প্রত্যেকের মাঝে আনন্দ বিরাজ করছে। প্রত্যেক বাড়িতে সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা করেছি। প্রত্যেক বাড়িতে গোশালা স্থাপন ও সেটিকে সাজিয়ে পরিপূর্ণ করেছি। সবমিলিয়ে আমরা যে যেরকম যতটুকু পারছি, বড়দিন উদযাপনের আয়োজন করেছি।’’

শহরের দক্ষিণ রাঘবপুর এলাকার গৃহিণী রীনা বর্মন বলেন, ‘‘বড়দিনের আনন্দ ভাগ করে নিতে বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের আত্মীয়-স্বজনরা বাড়িতে এসেছে। আমরা ঘর সাজিয়েছি, ক্রিস্টমাস ট্রি সাজিয়েছি, গোশালা তৈরি করেছি। অতিথিদের জন্য পিঠাপুলি, পায়েশসহ বিভিন্ন খাবার তৈরি করেছি।’’

পাবনা ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সাধারণ সম্পাদক স্টিফেন সরকার বলেন, বড়দিন ঘিরে সপ্তাহব্যাপী অনেক রকমের আয়োজন করা হয়েছে। এসব আয়োজনের মধ্যে নগরকীর্তন, বড়দিনের উপাসনা, কেক কাটা, পিঠা পর্ব, প্রীতিভোজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রয়েছে।
‘‘আমরা আশা করি প্রশাসনসহ সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবারের বড়দিনের উৎসব উদযাপন করতে পারব।’’

পাবনা ব্যাপ্টিস্ট চার্চের পালক মি. ইসাহাক সরকার বলেন, ‘‘২৫ ডিসেম্বর যিশু খ্রিস্ট আমাদের পাপ থেকে পরিত্রাণের জন্য পৃথিবীতে এসেছিলেন। তাই এ দিনকে আমরা বড়দিন হিসেবে উদযাপন করি।’’ তিনি বলেন, ‘‘এই অশান্ত পৃথিবীতে যাতে শান্তি স্থাপন করা যায়, আমাদের দেশে দেশে, সমাজে সমাজে, মানুষে মানুষে যাতে বিভেদ অশান্তি না থাকে, শান্তি বিরাজ করে সে বারতা ও প্রত্যাশা নিয়ে এবারের বড়দিন উদযাপন করব।’’

পাবনার পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির পিপিএম জানান, আসন্ন বড়দিন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে উদযাপন করতে পারে, সেজন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সকল চার্চে, গির্জায় পর্যাপ্ত সংখ্যক পোশাকি পুলিশ নিয়োজিত থাকবে। পাশাপাশি আগাম তথ্য পাওয়ার জন্য সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশও কাজ করছে।

জেলা পুলিশের তথ্যমতে, পাবনায় এবার ১৯টি গির্জায় বড়দিনের প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।

You Might Also Like