‘রোহিঙ্গা নির্যাতনে সু চির অনুমোদন থাকতে পারে’

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার জেইদ রাদ আল হুসেইন বলেছেন, মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন সেদেশের নেত্রী অং সান সু চির অনুমোদনে হয়ে থাকতে পারে। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেছেন। সোমবার বিবিসি সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার করেছে।

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযানে সরকারের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে রাদ বলেছেন, ‘যে মাত্রায় এবং যেভাবে সেখানে সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে, তা অবশ্যই দেশের উঁচু পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই অভিযানে কয়েক হাজার মানুষ মারা গেছে এবং লাখ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘এজন্য মিয়ানমারের নেতাদের একসময়ে গণহত্যার অভিযোগের মুখোমুখি হতে হবে।’

হাই কমিশনার বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা ভালোভাবে চিন্তাভাবনা করে ও পরিকল্পনা করে চালানো হয়েছে। মিয়ানমার নেত্রী অং সান সু চিকে রোহিঙ্গাদের ওপর সামরিক বাহিনীর নিযাতন বন্ধে আরো পদক্ষেপ নেওয়ার জন্যও তিনি বলেছিলেন।

জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চলতি বছরের প্রথম দিকে ব্যাক্তিগতভাবে সু চিকে টেলিফোন করে রোহিঙ্গা হত্যা বন্ধের জন্য তিনি অনুরোধ জানিয়েছিলেন।জবাবে সু চি বলেছিলেন, ‘এটাতো ভয়াবহ বিষয়, সুনিশ্চিতভাবে আমরা বিষয়টি দেখতে চাইছি।’

‘তবে কয়েকদিন পর তারা পাল্টা প্রশ্ন করতে শুরু করেন আমরা কোন প্রণালী বেছে নিয়েছি। বিষয়টি সত্য কিনা জানতে তারা প্রশ্ন করতে শুরু করেন’ বলেন জেইদ রাদ।

সু চিও শাস্তি পাওয়ার যোগ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্ভবত রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি সু চি অনুমোদন দিয়েছেন। পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যর্থতায় তিনি শাস্তির যোগ্য। ‘সেটা ছিল এড়িয়ে যাওয়ার অপরাধ।’

এর আগে জাতিসংঘ মিয়ানামারের রোহিঙ্গা নির্যাতনকে জাতিগত নিধনের পাঠ্যপুস্তকের উদহারণ বলে মন্তব্য করেছিল। আর সংস্থাটির মানবাধিকার দপ্তরের প্রধান এর জন্য ফৌজাদারি তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন।

বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেইদ জানিয়েছেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও সরকার গণহত্যার অভিযোগে ভবিষ্যতে অভিযুক্ত হতে পারে সে সম্ভাবনা তিনি নাকচ করছেন না।

তিনি বলেন, ‘কেউ যদি গণহত্যা চালানোর পরিকল্পনা করে, সেটি তো তারা কাগজ কলমে করবে না। হয়তো আপনি কোন নির্দেশনার প্রমাণও পাবেন না। তবে এখন আমরা যা দেখছি, তার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে কোন আদালত যদি এরকম কোন তদন্তের আদেশ দেয়, তাতে আমি অবাক হবো না।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ স্যাটেলাইটে তোলা ছবি বিশ্লেষণের পর জানিয়েছে, রাখাইন রাজ্যে গত দুইমাসে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। অক্টোবর ও নভেম্বরে আরো ৪০টি গ্রামের ভবনসহ বহু ঘরবাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে। ২৫শে অগাস্টের পর রাখাইনে এ নিয়ে ৩৫৪টি গ্রাম আংশিক বা পুরোপুরি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

You Might Also Like