সরকারের প্রতিশ্রুতি এবং বিএনপির আন্দোলন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সর্বশেষ প্রতিশ্রুতি : পদ্মা সেতুকে ঘিরে হংকংয়ের মতো নগরী তৈরি হবে (যে হংকং প্রায় তিন শ’ বছর ধরে গড়ে উঠেছে), ২০১৯ সালের মধ্যে ঢাকায় মেট্রোরেল চলবে। তিনি আড়িয়ল বিলে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং নতুন রাজধানী নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। সাম্প্রতিককালে আরো অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ধনী দেশে পরিণত হবে। আরো আগে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল, ২০২১ সালের মধ্যে এই দেশ ডিজিটাল দেশে পরিণত হবে। ৫ জানুয়ারির তামাশার নির্বাচনের পরই প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে যে, তিন বছরের মধ্যে (অর্থাৎ ২০১৭ সালের জানুয়ারির আগে) পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করবে। স্মর্তব্য, শেখ হাসিনার পিতা শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে বাংলাদেশকে প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ডে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। হাসিঠাট্টা আর কৌতুকবোধ বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে অবশিষ্ট থাকলে শেখ হাসিনার সর্বশেষ প্রতিশ্রুতিতে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ পর্য্যন্ত অট্টহাসি ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হতো।

বাংলাদেশের মানুষ চোখের ওপরে দেখছে একটা ডিজিটাল অনিয়মের দেশ। ব্যাংক লুটপাট, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি, কুইক রেন্টাল হরিলুট, ডেসটিনি আর হলমার্ক কেলেঙ্কারি, পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বনিন্দিত দুর্নীতি আজকের বাংলাদেশের দুর্নাম বয়ে এনেছে। প্রকল্প বরাদ্দের ৪০ শতাংশই দুর্নীতিবাজদের পকেটে যেত বলে দুই-আড়াই বছর আগেও বলাবলি হতো। এখন শোনা যায়, ৬০ ভাগই যায় দুর্নীতিবাজদের পকেটে। বাকি মাত্র ৪০ শতাংশ দিয়ে প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও দেখতে দেখতে পুঁজি ফুরিয়ে যায়, প্রকল্প শেষ হয় না। আরো উদ্বেগের ব্যাপার দুর্নীতিবাজরা ধরা পড়ে না এবং ধরা পড়লেও তারা ফসকে বেরিয়ে যায়, শাস্তি কারো হয় না।

বাংলাদেশের মানুষ বুঝে গেছে নৈতিকভাবে অবৈধ সরকার তাদের ঘনিষ্ঠ মহলকে দিয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে বিত্ত-সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলে সোভিয়েত-উত্তর রাশিয়ার মতো একটা অলিগার্ক শ্রেণী সৃষ্টি করছে। তাদের ভরসা এই অলিগার্করাই অর্থ আর সন্ত্রাস দিয়ে বর্তমান শাসকদের গদিতে বহাল রাখবে, যদিও তারা দেশের মানুষের কাছে অসহনীয় হয়ে গেছে। দেশ থেকে একাধিক বন্ধু জানিয়েছেন, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর জনসভাতেও এখন আর লোক হয় না, ভাড়া করেও ‘সমর্থক’ পাওয়া যায় না, কাঠফাটা রোদে স্কুলের শিশুদের সড়কে জড়ো করে মন্ত্রীদের ‘জনসমর্থন’ দেখাতে হয়।

প্রতিশ্রুতির স্বরূপ বাংলাদেশের মানুষ অনেক দিন আগেই চিনে ফেলেছে। কোথায় দশ টাকা কেজি দরের চাল? আর কোথায় রাতারাতি বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান এবং মিডিয়ায় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের বিত্ত-সম্পদের বিবরণ নিয়মিত প্রকাশ করা? অথচ সেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। মানুষ এখন বুঝে গেছে, এই সরকারের প্রতিশ্রুতিগুলো নিছক কল্পনার ফানুশ, সেসব প্রতিশ্রুতি পালনের ইচ্ছা প্রতিশ্রুতিদাতাদের নেই। সুতরাং আকাশ-পাতাল মানুষের হাতে তুলে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিতেও কারো আটকায় না। কল্পনার রসগোল্লা খাইয়ে মানুষকে খুশি করার ব্যর্থ চেষ্টায় নেমেছে সরকার।

উন্নয়ন গণতন্ত্রের বিকল্প নয়

প্রধানমন্ত্রী এখন আর বলছেন না, আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছিল নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারে এবং জনৈক ‘জোহা কাকা’ ছিলেন এই দলটির জনক। মন্ত্রীরা এর-তার জন্মবৃত্তান্ত নিয়ে কুৎসা রটনা করতে চান। কিন্তু আওয়ামী লীগের সঠিক জন্মবৃত্তান্ত খুঁজে বের করার কোনো চেষ্টা তাদের মধ্যে দেখা যায় না। প্রসূতি সদন কিংবা জন্মদাতার পরিচয় সম্বন্ধে নিশ্চিত না হয়েই ২৩ জুন (পলাশী দিবস) ঘটা করে আওয়ামী লীগের জন্মদিবস পালন করা হয়েছে। সে উপলক্ষে বর্তমান সরকারের ‘সাফল্য ও কীর্তি’ জাহির করার জন্য ফলাও করে একাধিক পোস্টার ও পুস্তক-পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

আপনাদের অনেকেরই মনে থাকার কথা, সামরিক স্বৈরশাসক লে. জে. হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রাজত্বকালে প্রায়ই দাবি করা হতো, উন্নয়ন দিয়ে দেশ সয়লাব করে দেয়া হয়েছে। ভাড়া করা লেখকদের দিয়ে কবিতা আর রচনা লিখিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে উন্নয়নের গুণকীর্তন করে। গদি হারানোর শোক এরশাদ সাহেব এখনো ভুলতে পারেন না। সুযোগ পেলেই তিনি বদহজমের রোগীর পূতিগন্ধময় ঢেঁকুর তোলার মতো তার রাজত্বকালের ‘উন্নয়নের’ স্মৃতিচারণ করেন। পাকিস্তান আমলের সামরিক শাসক ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের সামরিক স্বৈরশাসনের কথা সম্ভবত অপেক্ষাকৃত কম লোকের মনে আছে। আইয়ুবি শাসনের দশ বছরপূর্তি উপলক্ষে বহু কোটি টাকা খরচ করে পেশাদার লেখকদের লেখা হাজার হাজার কলাম গুণকীর্তন পত্রপত্রিকায় ছাপানো হয়েছে, বহু অর্থ ব্যয়ে বর্ণাঢ্য সঙ্কলন ‘ডিকেড অব ডেভেলপমেন্ট’ ছাপানো হয়েছে এবং আলতাফ গওহরকে দিয়ে প্রেসিডেন্টের বনামে ‘ফ্রেন্ডস নট মাস্টার্স’ নামের ভারী গ্রন্থ প্রকাশ করা হয়েছে।

এমন দৃষ্টান্ত বিংশ শতাব্দীর ইতিহাসে ভূরি ভূরি। চিলিতে জেনারেল পিনোশে নির্বাচিত ও জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট আইয়েন্দেকে হত্যা করে গদি দখল করেছিলেন। হাজার হাজার গণতন্ত্রী দেখতে দেখতে গুম হয়ে যান। পরে জানা গেছে, সামরিক বিমান থেকে এই ব্যক্তিদের জীবন্ত অথবা তাদের লাশ প্রশান্ত মহাসাগরে ফেলে দেয়া হয়েছিল। পিনোশে ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রায়ই তার ‘উন্নয়নের’ প্রচার চালাতেন; যেন যৎসামান্য কিছু উন্নয়ন হলেই তার গদি দখল করে থাকার অধিকার চিরস্থায়ী হবে। ফিলিপাইনে ফার্ডিনান্ড মার্কোসও উন্নয়নের দোহাই দিয়ে গদি আঁকড়ে থাকতে চেয়েছিলেন। বাস্তবে কী দেখেছে ইতিহাস? আসলে এই ডিক্টেটরদের কারোই চিন্তার মৌলিকত্ব কিংবা অভিনবত্ব বলে কিছু ছিল না। অনেকেই উন্নয়নের নামে একটা অলিগার্ক শ্রেণী গড়ে তুলেছিলেন। অন্য দিকে ধ্রুব সত্য হচ্ছে, উন্নয়ন গণতন্ত্রের বিকল্প হতে পারে না। একবিংশ শতকের সাধারণ মানুষও সেটা বুঝে গেছে।

সামরিক অলিগার্করা কল্যাণ করে না

পাকিস্তানে আইয়ুব খান ও ইয়াহিয়া খান নিজেদের আসন মজবুত করার মিথ্যা আশায় দেশের শিল্প-বাণিজ্য-অর্থনীতি সবই সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছিলেন। সেনাবাহিনী এবং সামরিক পরিবারগুলো পাকিস্তানে অভিজাত শ্রেণীতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু তাতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা, রাষ্ট্র পরিচালনা ব্যবস্থা এবং অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ার পরিবর্তে হয়েছে দুর্বল। অনেকে আশঙ্কা করছেন, পাকিস্তান রাষ্ট্রটির অস্তিত্বই আজ বিপন্ন। চিলিতে ও ফিলিপাইনেও ঘটেছে একই অবস্থা। সার কথা হচ্ছে, অলিগার্করা দীর্ঘমেয়াদে আইয়ুব খান, পিনোশে প্রমুখদের গদি পোক্ত করার পরিবর্তে দুর্বলই করেছে। অলিগার্কদের দেয়ার মতো আর কিছু যখন তাদের হাতে অবশিষ্ট ছিল না, তখন অলিগার্করাই তাদের পতনের কারণ ঘটিয়েছে। বাংলাদেশের কার্যত অনির্বাচিত সরকার সর্বক্ষণ একই ধরনের তোষণের উপায় খুঁজছে বলে মনে হয়। তারা ইতিহাস থেকে বেছে বেছে ব্যর্থ ও ধিকৃত মডেলগুলোই অনুসরণ করছে। ইতিহাসের আপদ ঘণ্টাধ্বনি তারা শুনতে পাচ্ছে না।

শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে পাকিস্তান থেকে যখন স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন তখন তার জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। চার বছরের মধ্যেই সে জনপ্রিয়তা যে শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছিল, সে জন্য মূলত দায়ী ছিল তার নেতৃত্ব ও নীতির ব্যর্থতা। গণতন্ত্র সাধারণত ক্ষমাশীল। তা সত্ত্বেও মানুষ প্রশাসনিক ব্যর্থতা, নির্যাতন ও নিপীড়নে এতই ুব্ধ হয়ে উঠেছিল যে তার মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডেও গণমানুষের মাঝে প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যায়নি। পিতার সিকিভাগ জনপ্রিয়তাও শেখ হাসিনার পক্ষে অর্জন করা কঠিন। কিন্তু তিনি পিতার ব্যর্থ প্রমাণিত পথেই চলেছেন। নির্যাতন, নিপীড়ন এবং গণতন্ত্র হরণের পথে গদি আঁকড়ে থাকা যায় না। সরকারের ব্যর্থতা ও অপ্রিয়তা যতই বেশি প্রকট হচ্ছে তাদের কুশাসন, নির্যাতন ও গুম-খুনের মাত্রা ততই বেড়ে চলেছে।

সাধারণ মানুষও লক্ষ না করে পারে নাÑ ইংরেজি প্রবাদে আছে, ‘যা হাড়ে আছে, তা মাংসে বেরিয়ে পড়বেই’। সরকারের ব্যর্থতা যত বেশি জাজ্বল্যমান হয়ে যাচ্ছে, মন্ত্রীদের স্বভাবের পরিচয় ততই বেশি জাহির হয়ে পড়ছে। ৫ জানুয়ারি থেকে তাদের মুখের ভাষা আরো বেশি কদর্য আর আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। এখন আবার তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু প্রকাশ্যেই বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে ‘সরিয়ে দেয়া’র হুমকি দিয়েছেন। খালেদা জিয়াকে ‘সরানো’ গেলে কারো কারো যে হাড় জুড়াত সেটা বিগত দুই-তিন দশক থেকেই স্পষ্ট। কিন্তু তারা সাহস পাচ্ছে না এ জন্য যে, তেমন অঘটনে যে পরিণতি হবে দেশ-বিদেশে সেটা সামাল দেয়ার সাধ্য তাদের নেই।

হতাশ ও বীতশ্রদ্ধ জনগণ

কিছু মানুষ বিএনপি এবং খালেদা জিয়ার ওপর পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়। সন্তুষ্ট নয় এ জন্য যে বিগত অন্তত দুই-আড়াই বছর যে বর্তমান শাসকেরা গদিতে বহাল থাকতে এবং দেশকে আরো বেশি দুর্নীতি ও সন্ত্রাসে তলিয়ে দিতে পারছে সে জন্য বিএনপি ও এর নেতৃত্ব কিছুটা হলেও দায়ী। দেশের মানুষ ষোলোআনা তাদের সমর্থন দিয়েছিল। তাদের পেছনে কাতারবন্দী হয়ে স্বেচ্ছাচারী সরকারকে হটাতে তারা এগিয়ে এসেছিল। বিএনপি নেতারা মুখে বলেছেন, তারা নির্যাতক সরকারের পতন ঘটাতে চান। কিন্তু জনতার উদ্দীপনা যখন তুঙ্গে উঠেছে তখনই আন্দোলন যেন পথের ধারে বসে জিরিয়ে জিরিয়ে পান-তামাক খাওয়া ও গল্প-গুজারিতে কালাতিপাত করেছে। বহুবার লিখেছি, আন্দোলনের অবস্থা ছিল সেনাবাহিনীকে যুদ্ধক্ষেত্রে ডেকে নিয়ে ‘সংলাপ-সংলাপ’ খেলার মতো।

ফলটা কী হয়েছে? জনতা তাদের উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছে। তারা ভাবছে, দেশ যে আজ দুর্ভাগ্যের অতল তলে তলিয়ে যাচ্ছে আন্দোলনের দুর্বলতাও সেজন্য কিছু পরিমাণে দায়ী। একের পর এক রাজনৈতিক দল বেগম জিয়ার নেতৃত্বে বিরোধী জোটে যোগ দিয়েছে। কিন্তু আন্দোলনের শক্তি তেমন বৃদ্ধি পায়নি বলেই মনে হয়। জামায়াত আন্দোলনের একটা বড় শক্তি ছিল। তাদের এখন সতর্ক অবস্থান মনে হয়। শোনা যাচ্ছে, নানা প্রলোভন দেখিয়ে শাসকেরা কোনো কোনো দলকে নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা করছে। হেফাজতে ইসলাম দেশের মানুষের আন্দোলনে শরিক হতে পারত। তারা এখন তেমন সক্রিয় নয়। মনে হয় মন্ত্রীদের অবিরাম বিদ্রƒপে বিএনপি নিজেদের দৃঢ়তা থেকে সরে গেছে এবং স্বাভাবিক মিত্রদের দূরে সরে যেতে দিয়েছে। অন্তত বিদেশ থেকে মনে হয়, বিএনপির নেতৃত্ব সম্বন্ধে হতাশ মহলগুলোকে প্রলুব্ধ করে নিজেদের দিকে টেনে নিয়ে সরকার কিছুটা সমর্থন ও বৈধতা সংগ্রহের অপচেষ্টা করছে।

বিএনপির উঁচু পর্যায়ের নেতৃত্বের দুর্বলতা নিয়ে বেশ কিছুকাল ধরেই সমালোচনা হচ্ছিল। প্রথম কাতারের নেতৃত্বের একাংশের আনুগত্য অবিচল বলে অনেকের কাছে মনে হয় না। প্রতিপক্ষের কিছু চর বিরোধী দলে থাকাও স্বাভাবিক। আন্দোলনের সাফল্যের অভাবে স্বার্থান্বেষী ও দুর্বলমতি কেউ কেউ সরকারের প্রলোভনে দোলাচলে রয়েছে বলে মনে হয়। কেউ কেউ কিছু সম্বল সংগ্রহ করেছেন। এখন তারা আন্দোলনের পরিবর্তে শান্তিতে সে সম্পদ উপভোগকেই শ্রেয় মনে করছেন। অন্তত ২৯ ডিসেম্বরের কর্মসূচির ‘ব্যর্থতা’ থেকে সেটাই মনে হয়। আরো কোনো কোনো মহল ‘শরীর ও মনে কান্ত’। অবস্থা এখন এমন দাঁড়িয়েছে যে, এসব ব্যক্তি আর আন্দোলনের শক্তি-সম্পদ নন। তারা বর্জনীয় ও আন্দোলনের পায়ের শিকল।

আগে পুনর্গঠন, পরে আন্দোলন

খালেদা জিয়া শীর্ষ নেতৃত্বের পুনর্গঠন করবেন বলে বেশ কিছু দিন ধরেই শোনা যাচ্ছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রেও বিলম্ব দেখা যাচ্ছে। দলের ওয়ার্কিং কমিটি ও স্ট্যান্ডিং কমিটি পুনর্গঠনে অসুবিধার বিশেষ কোনো কারণ থাকার কথা নয়। নেতৃত্বের ‘পচা কাঠ’গুলো ফেলে দিয়ে কাঠামো মজবুত করার প্রয়োজন অনেক আগে থেকেই অনুভূত হচ্ছে। নেতৃত্বের আরেকটা ব্যর্থতা হচ্ছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বছরের পর বছর ‘ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব’ করে রাখা। শীর্ষ নেতৃত্ব কি এ কথা বুঝতে পারেন না যে, অনির্দিষ্টকাল পুরস্কারবিহীন ভার বহন মানুষের উৎসাহ ও মনোবল নষ্ট করে দেয়? এই কয় বছরে মির্জা আলমগীর অন্য কোনো নেতার চেয়ে কম সক্রিয় ছিলেন না। ত্যাগ স্বীকারও তিনি অনেকের চেয়ে বেশি করেছেন। তবু এত বছর যে তাকে ভারপ্রাপ্ত করে রাখা হয়েছে তার অর্থ কি এই নয় যে, অধিকতর উপযুক্ত কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না? সেটাই যদি বাস্তব পরিস্থিতি হয়, তাহলে মির্জা আলমগীরকে ভারমুক্ত করে দেয়া যেতে পারে। অধিকতর যোগ্য কাউকে পাওয়া গেলে মহাসচিব পরিবর্তন করা কঠিন হতো না।

বেগম জিয়া ঘোষণা করেছেন, ঈদের পরে সরকার উচ্ছেদের আন্দোলন ঘোষণা করবেন। সরকারের তল্পীবাহক ও আওয়ামী লীগের নেতাদের বিদ্রƒপের হাসি বিরক্তিকর হয়ে উঠেছে। মন্ত্রীদের ব্যঙ্গবিদ্রƒপ তো অসহনীয়। বস্তুত খালেদা জিয়ার কর্মসূচির হুমকি যেন সরকারের প্রতিশ্রুতির মতো অন্তঃসারশূন্য মনে করার কারণ না ঘটে। এ দিকে যতই দিন যাচ্ছে সরকার ততই নানা কূটকৌশলে নিজেদের আসন আরো মজবুত করার সময় পাচ্ছে। বিএনপি নেত্রী সফল আন্দোলন করার ইচ্ছা পোষণ করলে তার উচিত হবে, ঈদের এক সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণ মহাসচিবের নিয়োগ দেয়া এবং স্ট্যান্ডিং কমিটি পুনর্গঠিত করে তারপর আন্দোলনের ঘোষণা দেয়া। তাহলে তিনি দেখবেন যে দেশের মানুষ সর্বশক্তি নিয়ে তার পেছনে কাতারবন্দী হয়েছে।

You Might Also Like