সৌদি বাদশা, যুবরাজের পক্ষে ট্রাম্পের সাফাই

দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে সৌদি রাজপরিবারের প্রভাবশালী রাজপুত্র এবং ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও মন্ত্রীদের গ্রেপ্তারের পর সৌদি বাদশা ও যুবরাজের পক্ষে সাফাই গাইলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযানের নামে সৌদি আরবের ভবিষ্যৎ বাদশা যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মূলত তার ক্ষমতা আরো পাকাপোক্ত করছেন বলে মনে করেন সমালোচকরা। কিন্তু ট্রাম্প মনে করেন, তার এ পদক্ষেপ ঠিক আছে।

ট্রাম্পের এই সমর্থন সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘনিষ্টতা শক্তিশালী করল। ট্রাম্পের আমলে নাটকীয়ভাবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে রিয়াদের সম্পর্ক আগের চেয়ে ভালো হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে উভয় দেশের কঠোর অবস্থানের কারণে হয়তো তাদের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে।

আধুনিক সৌদি আরবের ইতিহাসে এর আগে কখনো রাজপরিবারের এত বেশিসংখ্যক প্রভাবশালী সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়নি, একসঙ্গে এত মন্ত্রী ও শীর্ষ পর্যায়ের ব্যবসায়ীদেরও গ্রেপ্তার করা হয়নি। এ ছাড়া দুর্নীতির জন্য যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তারা যেন দেশ ছেড়ে যেতে না পারেন, সে ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

এসব ঘটনার পর সোমবার এক টুইটে ট্রাম্প বলেছেন, ‘সৌদি আরবের বাদশা ও যুবরাজের ওপর তার গভীর আস্থা রয়েছে।’ টুইটে তিনি আরো বলেছেন, ‘তারা যা করছেন ঠিক জেনে বুঝেই করছেন।’

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সৌদি প্রভাব বাড়াতে এবং দেশের অভ্যন্তরে ক্ষমতা আরো হাতের মুঠোয় আনতে সম্প্রতি এই নাটকীয় শুদ্ধি অভিযানে নেমেছেন বলে রয়টার্সের এক খবরে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, পশ্চিমা অঙ্গনে মোহাম্মদ বিন সালমান তার নামের তিন শব্দের অদ্যাক্ষর ‘এমবিএস’ নামে পরিচিত।

নাম জানাতে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, সৌদি আরবের প্রাথমিক সিদ্ধান্তপ্রণেতা হিসেবে চালকের আসনে রয়েছেন এমবিএস। প্রতিপক্ষদের সরিয়ে দিতে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সুসংহত করতে এবং বাদশাহির অপ্রতিরোধ্য উত্তরাধিকারী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে আগ্রাসী পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি।

You Might Also Like